মামার বিপদ

মামার 
বিপদ
আমির খসরু সেলিম
মামাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ঘটনা খুলে বলে পিনাক। একটু আগে মামা বর্ষাকালের যত বিপদের কথা বলেছিল, সব একসঙ্গে তাকে আক্রমণ করেছিল
আষাঢ় আর শ্রাবণ মিলে বর্ষাকাল, বুঝলাম। দুই মাসেই বৃষ্টি হয়। কিন্তু এ বৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
পিনাকের প্রশ্ন শুনে মামা ভ্রু কোঁচকালেন। খানিকটা কেশে উল্টো প্রশ্ন করলেন, তোর কী মনে হয়?
যাহ বাবা, প্রশ্ন করলাম আমি, আর উত্তর না দিয়ে উল্টো আমাকেই প্রশ্ন করা হচ্ছে! পিনাক প্রতিবাদ করে।
আমার কী মনে হয় জান, মামা? এবারের প্রশ্ন আসে পলাশের কাছ থেকে।
কী মনে হয়?
আষাঢ় মাসের বৃষ্টিকে বলা ঝম ঝমাঝম আর শ্রাবণ মাসের বৃষ্টির নাম দিলাম ঝির ঝিরঝির।
বাহ, তোর তো দারুণ বুদ্ধি। নামগুলো ভালোই দিয়েছিস। মামা প্রশংসা করে।
আমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি, পিনাক জানায়।
ক্যান, পলাশ ছোট হলেও ঠিক উত্তরটাই দিয়েছে। আষাঢ় মাসে খুব ভারি বৃষ্টি হয়। কিন্তু সময় নেয় কম। আর শ্রাবণ মাসে হালকা ধরনের বৃষ্টি হয়, কিন্তু সময় নেয় বেশি।
পিনাক বলে, তোমার এ হালকা-ভারি থিওরি শুনে আমার মাথা ভারি হয়ে যাচ্ছে। আরও হালকা করে বুঝিয়ে বল।
বেশ। মামা বলে, আষাঢ় মাসের বৃষ্টিকে তুই ওয়ানডে ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করতে পারিস, যা খেলার ওই একদিনেই খেলে নিতে হয়। মাঝেমধ্যে যেমন ঘন বৃষ্টিপাত হয়, সেটাকে টি-টোয়েন্টিও বলা যায়। এদিকে শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি হলো টেস্ট ম্যাচের মতো। সেই যে শুরু হয় আর থামার নাম নেই। কখনও সত্যিই সেটা টানা পাঁচ দিন পর্যন্তও চলে। বর্ষাকাল খুব সুন্দর সময়। তবে কিছু বিপদও আছে। যেমন ধর রাস্তাঘাটের গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। সাবধান না হলে একেবারে ধপাস। সাপের উৎপাত বাড়ে। পানিবাহিত রোগ হতে পারে। এসব আর কি।
মামার উত্তর শুনে দুই ভাই খুশি। মা ঘরের কোনায় বসে সেলাই করছিল। বলল, বৃষ্টির দিনে খেতে মজা এ রকম দুটি খাবারের নাম বল।
পিনাক আর পলাশ চোখাচোখি করে। তারপর তাকায় মামার দিকে।
মামা বলে, আপা তুমি কি মুড়িমাখা আর খিচুড়ির কথা বলছ?
মা বলে, তোর উত্তর সঠিক। খিচুড়ির দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। তুই চট করে মোড়ের দোকান থেকে মুড়ি আর পেঁয়াজ নিয়ে আয়।
ইয়ে মানে, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। এখন না গেলে হয় না? মামা অজুহাত দেখায়।
মুড়ি না হলেও চলবে। তবে পেঁয়াজ ছাড়া খিচুড়ি হবে না। ছাতা নিয়ে যা। 
মামা বিড়বিড় করে কী যেন বলে। তারপর খুব ধীরে বিছানা ছাড়ে। যেন বিছানাটা তাকে আটকে ফেলতে চাইছে। এর মধ্যে পিনাক ছাতা নিয়ে হাজির। বলে, আমিও তোমার সঙ্গে যাব, মামা।
তারপর দুইজন বের হয়। সেই যে ওরা বের হলো, তারপর পার হয়ে যায় এক ঘণ্টা সময়। মা দুশ্চিন্তা করে। বলে, ওরা এত দেরি করছে কেন? মোড়ের দোকান থেকে ঘুরে আসতে এত সময় লাগছে কেন? ওরা কোনো সমস্যায় পড়েনি তো? তোর মামার ফোনে কল দে।
পলাশ কল করে দেখে মামার ফোনটা বিছানায়ই বেজে উঠেছে।
মা বলে, বাবা পলাশ তুই একটু এগিয়ে গিয়ে দেখবি নাকি...। মায়ের কথা শেষ না হতেই দরজায় শব্দ হয়। খুলে মামা আর পিনাককে পাওয়া গেল। তবে ওদের শরীর ভেজা। মামার পায়ে ব্যান্ডেজ!
কী ঘটনা?
মামাকে বিছনায় শুইয়ে দিয়ে ঘটনা খুলে বলে পিনাক। একটু আগে মামা বর্ষাকালের যত বিপদের কথা বলেছিল, সব একসঙ্গে তাকে আক্রমণ করেছিল।
কী রকম? মা তো অবাক!
বাসার সামনের রাস্তায় জমা পানিতে হঠাৎ একটা সাপ দেখে মামা ভয়ে লাফ দেয়। ওখানে পানির নিচে ডুবে থাকা একটা গর্তে পা পড়ে যায়।
তারপর?
তারপর একেবারে ধপাস। আমরা তখন দোকান থেকে মুড়ি আর পেঁয়াজ নিয়ে ফিরছিলাম। গর্তে পড়ে কী যেন লেগে মামার পা কেটে গেল। তখন আমরা আবার মোড়ের ওষুধের দোকানে গিয়ে ব্যান্ডেজ করালাম। পানিতে পড়ে মুড়ি নষ্ট হয়েছে আর এই নাও ভেজা পেঁয়াজ।
পলাশ বলে, মামা তো আরেকটা বিপদের কথা বলেছিল, পানিবাহিত রোগ।
সেটাও মনে হয় হয়ে যাবে। মামা যখন পানিতে ধপাস হয়েছিল তখন কিছু রাস্তার পানি গিলে ফেলেছে, তাই না মামা?
মামার চুপ থাকা দেখে মনে হয় ঘটনা সত্যি! 


শিশু বাথাইন্নাদের অন্যরকম জীবন
চারপাশে নদী। মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর। এর নাম-দমারচর। বঙ্গোপসাগরের
বিস্তারিত
অগ্নিশিখা
অগ্নিশিখা  মালেক মাহমুদ    অগ্নিশিখায় কুঁকড়ে গেছি  আছি মরার মতো  আগুন! আগুন! জ্বলছে আগুন আগুন জ্বলে
বিস্তারিত
বাংলা শকুনের গল্প
শুধু বাংলা শকুন নয়, এক সময় বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন
বিস্তারিত
বৈশাখ এলো
  বৈশাখ এলো বৈশাখ এলো গ্রীষ্মদুপুর কালো মেঘে ঘাপটি মেরে ঢেকে
বিস্তারিত
চৈতালী হাওয়া
চৈতালী হাওয়ায় গ্রীষ্ম কাটে গ্রীষ্ম যেনো কষ্টের, চৈত্রের দাহন অভিশাপের
বিস্তারিত
বকের বিড়ম্বনা
সবাই মিলে বকের বিরুদ্ধে বিচার নিয়ে গেল হুতুম প্যাঁচার কাছে।
বিস্তারিত