গল্প

জাদুর পাখি

ভাবতে ভাবতে কখন জানি শুভ ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের ভাত খাওয়ার জন্য আম্মু এসে ডাক দিতেই দেখে শুভ বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। আম্মুর ডাকে শুভ ঘুম থেকে উঠে কেমন 
যেন আনমনা হয়ে যায়। এখন থেকে 
আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ব

শুভর পড়ার টেবিলের সামনের জানালা দিয়ে আকাশ দেখা যায়। শুভ আনমনে আকাশ দেখে। আকাশে রঙের ছড়াছড়ি। কখনও নীল, কখনও হলুদ, কখনও লাল, কখনও তামাটে। কত বিচিত্র রং আকাশের গায়ে। চারদেয়ালে ঘেরা শুভদের তিন তলা বাড়ি। শুভরা দ্বিতীয় তলায় পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে থাকে। দেয়ালের সীমানাজুড়ে নানা রকম গাছ। একটি আমগাছ শুভর টেবিলের জানালা বরাবর উঠে এসেছে। সারাদিন বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত থাকে বাড়ি লাগোয়া বাগানটি। শহরের বাড়ি হলেও গ্রামীণ আবহ বজায় থাকে সবসময়। বৃষ্টির দিনে শুভ জানালা দিয়ে উদাস মনে বৃষ্টি দেখে। কালচে বর্ণের আমগাছটি বৃষ্টিতে ধুয়ে পুরো সবুজ হয়ে ওঠে। শুভর তখন আনন্দ হয়। কি সুন্দর পরিবেশ!
এখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। শুভ পড়ার টেবিলে বসে আছে, কাল বৃহস্পতিবার। বাংলা ব্যাকরণ বই সামনে খোলা। গত সপ্তাহে যে পড়াটি মুখস্থ করতে বলা হয়েছিল শুভ তা মুখস্থ করার চেষ্টা করছে। সপ্তাহে একদিনই এ ব্যাকরণ ক্লাস। শুভর মাথায় কিছুতেই ব্যাকরণ প্রবেশ করে না, পড়ে আবার ভুলে যায়। কি যে বিরক্তিকর এ ব্যাকরণ! পড়তে পড়তেই শুভ আনমনা হয়ে যায়। আবার পড়ে। আবার বিরক্ত হয়। আবার আনমনা হয়।
সন্ধ্যা প্রায় হয়েই আসছে। শুভ লক্ষ করে পাশের আমগাছটির উঁচু ডালে একটি পাখি এদিকে তাকিয়ে আছে। শুভ অবাক হয়ে পাখিটির দিকে তাকিয়ে থাকে, পাখিটি কি যেন বলতে চাচ্ছে!
পাখিটি হঠাৎ বলে উঠল, পড়তে বসে আনমনা হয়ে গেলে পড়া কি মুখস্থ হবে?
পাখির কথা শুনে শুভ অবাক হয়! আরে পাখির কথা তো আমি বুঝতে পারছি!
পাখিটি আবার বলে, চলো ছাদে যাই তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাব।
শুভ কেমন ঘোরের মধ্যে পড়ে যায়। সে দ্রুত সিঁড়ি পেরিয়ে বাড়ির ছাদে উঠে আসে। পাখিটিও ততক্ষণে ছাদে উঠে এসেছে।
পাখিটি বলে, তুমি আমার ডানা দুটো ধরো।
শুভ পাখির কথা মতো ডানা দুটো ধরে। তারপর পাখিটি শুভকে নিয়ে আকাশের দিকে উড়ে যেতে থাকে। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে ওদের বাড়ির ছাদ পেরিয়ে শুভ আরও উপরে উঠে যাচ্ছে।
উড়তে উড়তে পাখিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সীমানায় এসে ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকে।
পাখিটি এরপর শুভকে ডানা ছাড়তে বলে। শুভ পাখির ডানা ছেড়ে মাটিতে পা রাখে। আরে এ যে জাতীয় শহীদ মিনার!
পাখিটি বলে, হ্যাঁ এটা শহীদ মিনার। সম্মানের সঙ্গে তুমি শহীদদের স্মরণ করো। তোমাদের ভাষার জন্যই শহীদ হয়েছিল রফিক, সফিক, জব্বার, সালাম, বরকতসহ অনেক নাম না জানা ভাই।
শুভ চোখ বন্ধ করে সেই শহীদদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানায়।
এরপর পাখিটি আবার তাকে পিঠে নিয়ে উড়ে যেতে থাকে। এখন পাখিটির উড়াল অনেক দ্রুত। বাতাসের শনশন আওয়াজ শুভকে মাঝে মাঝে ভয় পাইয়ে দেয়।
ঢাকার অন্ধকার আকাশে মাঝে মাঝে ছুটে আসে রাস্তায় ছুটে চলা গাড়ির আলোর ঝিলিক। শহরটাকে কেমন রহস্যময় মনে হয়! এক সময় পাখিটি আবার খোলামেলা সুন্দর একটি জায়গায় নামে। চারদিকে কেমন আলোর ঝরনা। সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
পাখিটি এবার শুভকে বলে, বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত ছড়িয়ে আছে এ দেশে। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ রক্ষা করতে হবে তোমাদেরই।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভ আবার পাখির ডানায় চড়ে ফিরে আসে বাড়ির ছাদে। পাখিটি শুভদের ছাদে শুভকে নামিয়ে বলে, তোমরা নতুনরাই পারো তোমাদের দেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে। তুমি মনোযোগ দিয়ে পড়ো। অনেক বড় হও। তোমাকে দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে পড়ালেখা করবে।
পাখির কথা শুনে শুভ যেন নতুনভাবে ভাবতে থাকেÑ আমাকে অনেক বড় হতে হবে। সোনার মানুষ হতে হবে।
ভাবতে ভাবতে কখন জানি শুভ ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের ভাত খাওয়ার জন্য আম্মু এসে ডাক দিতেই দেখে শুভ বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। আম্মুর ডাকে শুভ ঘুম থেকে উঠে কেমন যেন আনমনা হয়ে যায়। এখন থেকে আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ব।
খাওয়া-দাওয়া করে শুভ আবার ফিরে আসে পড়ার টেবিলে। সে পড়ে আবার মাঝে মাঝে জানালার দিকে তাকায়। পাখিটিকে সে আর গাছের ডালে দেখে না। সে ভাবে হয়তো বা পাখিটি কল্পনায় এসেছিল। কিন্তু পাখির কথাগুলো সে পালন করবে এই ইচ্ছেই তার মনে...।


মায়ের ভালোবাসা
সাবধানে মুখ খোলার চেষ্টা করবি। কিন্তু কী হলো হঠাৎ করে
বিস্তারিত
সহানুভূতি মামুন অপু
দূর আকাশে আলোর নায়ে চড়ব ফাগুন রাতে আম্মু তখন বলবে
বিস্তারিত
বড় হতে হলে বই পড়াটা
আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু
বিস্তারিত
আমি সেরা
বাবা আমায় কাছে ডেকে বললেন,‘মা রে, শোনো’ বড়াই করে মিছেমিছি লাভ কি আছে
বিস্তারিত
কালবৈশাখী
বৈশাখ এলো বৈশাখ এলো এল নতুন ডাক কষ্ট ব্যথা কালবৈশাখী উড়িয়ে নিয়ে যাক। কালবৈশাখীর
বিস্তারিত
শিশু বাথাইন্নাদের অন্যরকম জীবন
চারপাশে নদী। মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর। এর নাম-দমারচর। বঙ্গোপসাগরের
বিস্তারিত