জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)

আবুবকর সিদ্দিক (রা.) এর খেলাফতকালে তিনি শাম অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। দামেস্ক বিজয়ের পর আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.) তাকে নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রতি ছিল তার চরম অনাসক্তি। তাই তিনি আবু উবাইদুল্লাহ (রা.) এর কাছে গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পত্র লেখেন এবং জিহাদে অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেন। একভাগের নেতৃত্বে ছিলেন সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ১০ জন সাহাবিকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) তাদের অন্যতম। তিনি আবুবকর সিদ্দিক (রা.) এর দাওয়াতে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছিলেন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ জন। ইসলাম গ্রহণের দরুন তার ওপরও নেমে এসেছিল নির্যাতনের পাহাড়। তিনি নিজেই বর্ণনা করেন, ‘ইসলামের জন্য আমাকে এবং স্ত্রীকে বেঁধে ওমর বেদম প্রহার করেছেন। তখন তিনি মুসলমান হননি।’ (বোখারি : ৩৮৬৭)। তিনি হিজরতের ২২ বছর আগে কোরাইশের শাখা আদি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যায়েদ বিন আমর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নবুয়তকাল পাননি। কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যের অনুরাগী। সত্যধর্মের সন্ধানে তিনি সিরিয়ার ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের কাছে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের ধর্ম তার পছন্দ হয়নি। অবশেষে মক্কায় ফিরে এসে ঘোষণা করলেন, ‘আমি দ্বীনে ইবরাহিমির ওপর আছি।’ অন্ধকার যুগেও তিনি মূর্তি পূজা থেকে মুক্ত ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ব্যাপারে বলেছেন, ‘সে একা এক উম্মত হিসেবে কেয়ামতের দিন উঠবে।’ (ইতহাফ : ৭৪)। ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণে অবদান সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) ছিলেন ওমর (রা.) এর ভগ্নিপতি। আল্লাহ তায়ালা তাকে এবং তার স্ত্রী ফাতেমা বিনতে খাত্তাবকে ওমর ইবনুল খাত্তাবের আগে ইসলাম গ্রহণে ধন্য করেছিলেন। আর এটিই ওমরের ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়েছে। এ মর্মে ওমর (রা.) নিজে বর্ণনা করেন, ‘ইসলামপূর্ব সময়ে আমি ছিলাম রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি অত্যন্ত কঠোর। একদিন আমি তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়ার উদ্দেশে তরবারি হাতে বের হলাম। পথিমধ্যে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হলো। সে বলল, কোথায় যাওয়া হচ্ছে? আমি বললাম, মুহাম্মদ (সা.) এর ফয়সালা করার জন্য যাচ্ছি। লোকটি বলল, আগে নিজের ঘরের খবর নাও। তোমার বোন এবং ভগ্নিপতি মুহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বোনের বাড়ির দিকে ছুটে গেলাম। তখন তারা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছিল। আমার আগমন টের পেয়ে তারা কোরআনের পৃষ্ঠাগুলো গোপন করল। গৃহে প্রবেশ করেই বোন ও ভগ্নিপতি উভয়কে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করলাম। কিন্তু তাদের দৃঢ়তা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে খাটের ওপর বসলাম। হঠাৎ আমার দৃষ্টি পড়ল ঘরের কোণে রাখা কোরআনের প্রতি। আমি বললামÑ এটা কী কিতাব? আমাকে দাও তো। বোন বলল, তোমাকে দেওয়া যাবে না। কারণ, তুমি অপবিত্র। এই কিতাব অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায় না। কিন্তু আমার বারবার অনুরোধে দিল। আমি হাতে নিয়ে কিছু অংশ পড়া মাত্রই আমার দিলে ঈমানের আলো জ্বলে উঠল। আমি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম।’ (উসদুল গাবাহ : ১/৮১৬)। জিহাদে অংশগ্রহণ সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে নবীজি (সা.) তাকে কোরাইশ কাফেলার সংবাদ গ্রহণের উদ্দেশ্যে শামের দিকে প্রেরণ করেছিলেন বিধায় বদর যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু নবীজি তাকে বদর যুদ্ধের গনিমত প্রদান করেছেন। সুতরাং তিনি বদরি সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। আবুবকর সিদ্দিক (রা.) এর খেলাফতকালে তিনি শাম অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। দামেস্ক বিজয়ের পর আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.) তাকে নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রতি ছিল তার চরম অনাসক্তি। তাই তিনি আবু উবাইদুল্লাহ (রা.) এর কাছে গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পত্র লেখেন এবং জিহাদে অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেন। একভাগের নেতৃত্বে ছিলেন সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)। হাবিব ইবনে সালামা (রা.) বলেন, ‘ইয়ারমুকের রণাঙ্গনে আমরা ছিলাম সাঈদ ইবনে যায়েদের অধীনে। রোমান সৈন্যদের দেখে তিনি হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন। যেইমাত্র শত্রুবাহিনী কাছাকাছি এলো অমনি তিনি সিংহের মতো তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও বীরবিক্রমে আক্রমণ করল। মুসলিম বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে রোমান সৈন্যরা পালাতে বাধ্য হয়। আল্লাহ তায়ালা এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। অনন্য মর্যাদা সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়া’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ মর্মে তার একটি চমকপ্রদ ঘটনা রয়েছে। আরওয়া বিনতে উয়াইস নাম্নী এক মহিলা মদিনার গভর্নর মারওয়ানের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললেন, সাঈদ আমার জমিন জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। এ কথা শুনে তিনি হতবাক হয়ে বললেন, আমি তোমার জমিন দখল করেছি! অথচ আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছিÑ যে ব্যক্তি কারও অর্ধহাত জমিন দখল করবে কেয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক জমিন ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! এ মহিলা যদি আমার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে তাহলে তাকে অন্ধ না বানিয়ে মৃত্যু দিও না।’ তার এ দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। সে মহিলা দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন এবং কূপে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ১/১৩৭)। মৃত্যু : এ মহান সাহাবি ৫১ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাকে গোসল এবং কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করেন। তার থেকে ৪৮টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।


নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রেরণা
ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায়
বিস্তারিত
মানুষ মানুষের জন্য
শুক্রবার মানেই সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিন নানাজন নানাভাবে কাজে লাগিয়ে
বিস্তারিত
শীতের নেয়ামত বিচিত্র পিঠা
  প্রকৃতিতে বইছে শীতের সমীরণ। কুহেলিঘেরা সকাল মনে হয় শ্বেত হিমালয়।
বিস্তারিত
মহামানবের অমীয় বাণী
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে আমার উম্মতের স্বার্থে
বিস্তারিত
যুদ্ধাহত শিশুদের কথা
৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ‘নিউ এরাব’ আরব বিশ্বের
বিস্তারিত
সুদানে গ্রামীণ ছাত্রদের শহুরে জীবন
যেসব সুদানি ছাত্র পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে তারা
বিস্তারিত