সুফিকোষ

 

‘গাঊছ’ শব্দটি আরবি, বাংলায় গাওছ, গওছ বা গাউস ও গওস লেখা হয়। অর্থ হলো সাহায্যকারী, মুক্তিদাতা, ত্রাণকর্তা বা ত্রাতা। এটি একবচন, পুংলিঙ্গ। এর মূল হলো গাইছ, অর্থ হলো বৃষ্টি, মেঘ, বর্ষণ; সাহায্য, মুক্তি, ত্রাণ বা পরিত্রাণ; মদদগার, অভিযোগ শ্রোতা। এখান থেকেই উদ্গত হলো ‘গিয়াছ’, যা গাঊছের সমার্থক। গিয়াছ অর্থ হলো অভিযোগ প্রতিবিধানকারী, আবেদন মঞ্জুরকারী। (ফারসি-বাংলা অভিধান)। তবে গাঊছের মাঝে স্বয়ংক্রিয়তা, স্বকীয়তা ও সপ্রণোদনা রয়েছে এবং এতে আধিক্যের প্রভাব বিদ্যমান। (লিসানুল আরব, ইবনে মানযূর রহ., খ- : ১০, পৃষ্ঠা : ১৩৯ ও ১৫৩-১৫৪, অধ্যায় : গঈন এবং খ- : ৯, পৃষ্ঠা : ২৭৮-২৮০, অধ্যায় : আঈন)। 
সুফি পরিভাষায় গাঊছ হলো কুতবের বিশেষণ বিশেষ। দরবেশদের প্রধানকে কুতব বলে। গাঊছ তখন বলা হয়, যখন তিনি সাহায্য করার ক্ষমতা বা শক্তি অর্জন করেন বা প্রাপ্ত হন। বিভিন্ন সুফি ধারায় গাঊছ ও কুতব পূর্বাপর রয়েছে। (ইসলামী পরিভাষা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা : ৪৫৩)। 
বিভিন্ন গ্রন্থে গাঊছের নানা অর্থ পাওয়া যায়। বিখ্যাত উর্র্দু অভিধান ফিরোজুল লুগাতে রয়েছেÑ ‘গাঊছ হলো বেলায়াতে ইলাহির একটি স্তর।’ বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে আছেÑ ‘গাঊছ দরবেশদের স্তর বিশেষ।’ উর্দু-বাংলা অভিধান ফারহাঙ্গে রব্বানী ও ফারহাঙ্গে জাদীদে আছেÑ দরবেশ মহাপুরুষদের উপাধি; আধ্যাত্মিকতার সেই স্তর, যে স্তরে পৌঁছলে সাধকের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরম প্রভুর স্মরণে নিমগ্ন থাকে। 
গাঊছদের প্রধান হলেন গাঊছুল আজম বা গাঊছে আজম। ‘গাঊছ’ অর্থ সাহায্যকারী, আজম অর্থ বড় মহান, মহৎ ইত্যাদি। গাঊছুল আজম অর্থ বড় সাহায্যকারী। বাংলা প্রতিবর্ণায়নে ‘গওছল আজম’, ‘গাউসুল আজম’ এবং উচ্চারণে কখনও ‘গাওছেল আজম’ও শোনা যায়। এর মূল আরবি উচ্চারণ হলোÑ ‘আল-গাওসুল আযম’; উর্দু, ফারসি ও বাংলায় ‘গওছে আযম’ হওয়াই শ্রেয়। 
তরিকতের পরিভাষায় ‘গাঊছুল আজম’ হলোÑ মারেফাত ও তাসাউফের সালিকিনদের সাতাশ বা উনত্রিশ স্তরের একটি স্তর এবং মাজমুআয়ে উছমানিতে বর্ণিত ইনছানের বিয়াল্লিশ পর্বের ছাব্বিশতম পর্ব; এটি বিলায়াত ও খিলাফাতের বিশেষ ধাপ। এই স্তরের ওলিরা ব্যাপক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে থাকেন। তাসাউফের পরিভাষায় গাঊছুল আজম তাদের বলা হয়Ñ যাদের আধ্যাত্মিক জগৎ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জাগতিক তাছাররুফের ক্ষমতা সময় ও কাল হিসেবে ব্যাপকতর। মুহাক্কিকদের মতে, উম্মাতে মুহাম্মাদি (সা.) এর গাঊছুল আজম তিনজন মাত্র। যথা : হজরত হাসান (রা.), হজরত বড়পীর মুহীয়ুদ্দীন আবদুল কাদির জীলানি (রহ.) ও হজরত মাহদি (আ.)। দ্রষ্টব্য : গিয়াছুল লুগাত, আল মুআয়্যিদ, লাব্বুল আলবাব, ছরাহ, মিদার, আল মুনতাখাব, কাশফ ও ফেরদৌছুল লুগাত, লুগাতে কিশওয়ারী, আল মানার, আল কাউছার, মিসবাহুল লুগাত, আল মুজামুল ওয়াসীত। 

ি মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
ইসলামে ঘোষিত সব হালাল খাদ্য স্বাস্থ্য উপযোগী এবং সব হারাম
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী ‘কীভাবে তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যান করবে, যখন আল্লাহর আয়াতগুলো তোমাদের
বিস্তারিত
জমজম : মাটির পৃথিবীতে অলৌকিক
জমজম কূপের পানি তার আসল রূপেই হজ পালনকারীদের প্রদান করা
বিস্তারিত
সিরাতুল মুস্তাকিমের আকুতি
সূরা ফাতিহায় আল্লাহ প্রথমে দোয়ার আদব শিখিয়েছেন। তারপর চাওয়ার বিষয়টি।
বিস্তারিত
জেনে নিন রমজানের ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো
দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান মাস ইবাদতের বসন্তকাল।
বিস্তারিত
সুদান ও আলজেরিয়ায় আরব বিপ্লবের নতুন
ফ্রান্সের দৈনিক পত্রিকা লেমন্ড বলছে, সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বাশির এবং
বিস্তারিত