ব্যবহারে মুসলমানের পরিচয়

স্যার ভাড়া দেন। মধ্যবয়সি সুপারভাইজার ভাড়া চাইল। লোকটি পনেরো টাকা বাড়িয়ে দিল। সুপারভাইজার বিশ টাকা চাইল। ওমনি শুরু হলোÑ ‘বদমাইশ, ছোটলোকের বাচ্চা, দশ টাকার ভাড়া বিশ টাকা চাস। থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেব। তোদের দু-একটাকে বাসের নিচে ফেলে পিষা দরকার।’ পাশ থেকে আরেকজন বলল, ‘আসেন চড়-থাপ্পড় দিই দু-চারটা। সব ফকিরের বাচ্চা।’ 

বিনয়ের সঙ্গে সুপারভাইজার বলল, ‘স্যার গালাগাল করেন কেন। ভাড়া তো বিশ টাকাই। সবাই বিশ টাকাই দিয়েছে।’ 
এরপর তুলকালাম কা-। এ কেমন আচরণ? মুসলমানের সঙ্গে মুসলমানের ব্যবহার এমন হবে কেন? এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। শুধু বাসে না। মাছের বাজারে যাবেন, চিত্র এ রকমই। রিকশায় উঠবেন, সেখানেও চরম বাজে ব্যবহার। পেশায় কেউ ছোট, কেউবা বড় হবে। কিন্তু মানুষ হিসেবে সবাই সমান। সুন্দর ব্যবহার পাওয়ার দাবি সবাই রাখে। আপনার অর্থ-বিত্ত আছে বটে। তবে তা খারাপ ব্যবহারের একটুও অনুমতি দেয় না। রাসুল (সা.) বিধর্মীদের সঙ্গে পর্যন্ত উত্তম ব্যবহার করেছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত, একদা এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করল। লোকরা উঠে (তাকে মারার জন্য) তার দিকে গেল। রাসুল (সা.) বললেন, তার প্রস্রাব বন্ধ করো না। তারপর রাসুল (সা.) এক বালতি পানি আনলেন এবং পানি প্রস্রাবের ওপর ঢেলে দেওয়া হলো। (বোখারি)। 
নবীজি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। বিনয়ী এবং নম্র। অথচ ভাবতেই শিউরে উঠতে হয়, আমরা তাঁর কেমন উন্মত। হাটবাজার, চলাফেলায় মামুলি, সামান্য, তুচ্ছ ব্যাপার। সেখানে কেন খারাপ শব্দ উচ্চারণ করা হবে। পেশার ভিন্নতার কারণে দাড়ি পাকা দোকানদারকে তুই বলা হবে? বুড়ো রিকশাচালককে ধমক দেওয়া হবে। বাসার কাজের লোক, তাকে তো কিছু মানুষ মানুষই ভাবে না। কেউ যদি ভেবেও থাকে, কাজের লোক তার অধীন বেতভুক্ত কর্মচারী। তাকে দিয়ে, যা খুশি তাই করা যাবে। তবে সেটা ভুল। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখ, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকের নিজ অধীনদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বোখারি)। আলী (রা.) শেষ বাণী ছিলÑ সালাত ও অধীনদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো। (আবু দাউদ)। কৃতদাস হওয়া সত্ত্বেও রাসুল (সা.) জায়েদ (রা.) এর সঙ্গে পুত্রতুল্য আচরণ করতেন। জায়েদ (রা.) এর সন্তান উসামা (রা.) কে নিয়ে খেলতেন। জায়েদ (রা.) কে মুক্ত করে দিলেও তিনি রাসুল (সা.) এর খেদমত থেকে দূরে থাকতে চাননি। তার সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেছেন। এটাই হলো নবী (সা.) এর শিক্ষা।
পরিবারের কর্তা বা কর্ত্রী হতে পারেন; কিন্তু সন্তানদের বিষয়ে আল্লাহর কাছে আপনার জবাবদিহি করতে হবে। কাজের লোককে মেরে রক্তাক্ত করলেন। জবাব অবশ্যই আল্লাহর কাছে দিতেই হবে। সন্তানদের উত্তম আচরণ শেখালেন না। বড়দের সঙ্গে সে দূর ব্যবহার করে, অবশ্যই এর দায় আপনার। জাহান্নামে যাওয়ার পথকে কুসন্তানরাই সুগম করতে পারে। বংশে নয়। মুসলমানের আসল পরিচয় তার গুণে। তার আচারণ, ব্যবহার, কর্ম, চলাফেলায়। বংশ ভালো হলে ভালো চরিত্রের মানুষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রাত্যহিক জীবনে ছোট-বড় যেই হোক, কথা বলার ব্যাপারে বিনয়-নম্রতা অবলম্বন করতে হবে। সুন্দর হাসি মুখে কথা বলাও একটা ভালো কাজ।


বিশ্বাস ও কর্মে কোরআনের মহিমা
দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের মুক্তির পথ রচনা করতে কোরআনে হাফেজ
বিস্তারিত
অসিয়ত কার্যকরের পদ্ধতি
প্রশ্ন : কোনো এক ব্যক্তি ওসিয়ত করলÑ সে মৃত্যুবরণ
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছেÑ ‘...আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর
বিস্তারিত
ইখলাস ছাড়া আমল ফুটো থলিতে
নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব আমলের মধ্যে শুধু
বিস্তারিত
ইসলামে শালীনতার গুরুত্ব
শালীনতা অর্থ মার্জিত, সুুন্দর ও শোভন হওয়া, ভদ্রতা, নম্রতা, লজ্জাশীলতা
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য
ইসলামি অর্থনীতির এমন কিছু বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যেগুলো অপরাপর
বিস্তারিত