এলিয়েন এসেছিল

হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি স্কাইপি। ওটা আমার শিপ। তুমি তো আমার সঙ্গেই এতক্ষণ কথা বললে। -কি মাছিটা তোমার শিপ। -হুম মাছির পেটে চড়ে আমি পৃথিবীতে এসেছি। হামীম আর ভাবতে পারে না। আনন্দে ও পাগল হয়ে যাচ্ছে। এলিয়েন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু তা-ই নয়, সে বাংলায় কথা বলছে। এতদিনের আশা এভাবে পূরণ হলো। 
স্কাইপি বলেÑ কী তুমি কথা বল না কেন?

টিফিনের ঘণ্টা পড়তে না পড়তেই ক্লাসের সবাই ছুটল খেলার মাঠে। মনে হচ্ছে ওরা ঘণ্টা পড়ার অপেক্ষাতেই ছিল। সবাই বের হয়ে গেলেও হামীম বাইরে বের হলো না। এমনকি টিফিন খাওয়ার কোনো তাড়াহুড়োও তার নেই। সে যেভাবে বসে ক্লাস করছিল, ঠিক সেভাবেই বসে আছে। ও যেন বসে অপেক্ষা করছে, ক্লাসটা কখন পুরো ফাঁকা হবে! একে একে সবাই বের হয়ে গেল। প্রিয় বন্ধুদের কয়েকজন বাইরে যেতে ডাকও দিল। কিন্তু হামীম কোনো উত্তরই দিল না। মনে হলো কোনো কথা সে শুনতেই পাচ্ছে না। সব মনোযোগ তার নিজের মুষ্টিবদ্ধ হাতের দিকে। কী আছে ওর হাতে?
এখন রুমে কেউ নেই। হামীম তার মুষ্টিবদ্ধ হাতটা আস্তে আস্তে খুলল। ওমা তার হাতের মধ্যে একটা মাছি! হ্যাঁ মাছি। কাঁঠাল পাকলে যে মাছিগুলো ভনভন করে মাথা খারাপ করে দেয়, সেই মাছি। এ নিয়ে প্রায় গোটা পঞ্চাশেক মাছি এ পর্যন্ত তার মুষ্টিবদ্ধ করা হলো। কিন্তু হাত খুলতেই দেখা যায়, মাছিটা প্রায় অর্ধমৃত বা মৃত কিংবা হাত খুলতেই ফুড়–ৎ। তবে আজকের মাছিটা বেশ ভদ্র, দিব্যি জীবিত থেকেও কোনো ওড়াউড়ির তাগিদ নেই। মনে হচ্ছে হামীমের হাতের মধ্যে সে বেশ আরামেই ছিল। হাত খুলতেই যেন চোখে আলো এসে পড়েছে। চোখেমুখে তার রাজ্যের বিরক্তি। 
কিন্তু হামীম কেন মাছি ধরে, তা নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করছে। হামীম মনে করে ভিন গ্রহের প্রাণী মানে এলিয়েনরা মাছির রূপ নিয়ে তাকে একদিন দেখা দেবে। তাই সে সুযোগ পেলেই মাছি ধরে পরীক্ষা করে। তার স্কুলব্যাগের মধ্যে ম্যাগনিফাইং গ্লাসও আছে। আরও আছে ছোট্ট টুলবক্স। টুলবক্স কেন? এলিয়েন পৃথিবীতে আসার পর তার শিপ নষ্ট হয়ে গেলে সে যেন তাকে সাহায্য করতে পারে। তাই এ পূর্বপ্রস্তুতি। 
আজ এ একান্ন নম্বর মাছিটা নিয়ে সে খুবই আশাবাদী। ওর এ মাছি ধরা নিয়ে বাড়ির লোকজন থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব খুব হাসি-তামাশা করে। এমনকি ওর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সিয়াম ও অবনি ওকে পাগল বলেছে। আর জেমিমা, বুশরা, রিয়াশা, সিন্ধু তাদের কী হাসি। মনে হয় হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে। এমনকি লাবণ্য আপু সে তো ভার্সিটিতে পড়ে। তারও কী হাসি তা যদি তোমাকে বলে বোঝাতে পরতাম। আর লাজুক আপু সে নাকি বিজ্ঞানী হবে, সে-ও আমাকে বুঝল না! তবে লালিত্য আপু কিছুই করেনি। হাসেওনি আবার আমাকে সাপোর্টও করেনি। আর ছোট চাচা কী বলেছে জানো, সে বলে পারবি রে, হামীম পারবি। তোর সঙ্গে এলিয়েনদের দেখা হবেই। তখন তুই একটা এলিয়েনকে বিয়ে করে নিস। ওরাই শুধু আমাদের গ্রহে আসবে কেন! তুইও গেলি, আবার মাঝে মাঝে আমারও যাওয়া হলো। তুই কি জানিস, তোর বড় চাচা পরির সঙ্গে গল্প করত। শুধু তোর বড় চাচা কেন! তোর বাবাও পরির সঙ্গে গল্প করত... 
-ভাবো একবার কি ধরনের ফাজিল। আমিও বলেছি, হুম তুমি যে পাগলির সঙ্গে গল্প করতে। আর তখন সে বলেÑ যা ভাগ। 
-হুম তুমি বলবা, আর আমি বললেই দোষ! আপন মনে কথাগুলো বলছে হামীম। তার মনোযোগী শ্রোতা যেন সেই মাছি। কিন্তু সে কি হামীমের কথা বুঝতে পারছে? হামীম বলল, তুমি কি আমার কথা বুঝতে পেরেছ? হ্যালো... 
মাছিটা হামীমকে চমকে দিয়ে হ্যালো হামীম, আমি স্কাইপি। তুমি এতক্ষণ যা বললে আমি সব বুঝতে পেরেছি। 
হামীম বললÑ তুমি কি বাংলা বোঝো! 
-হুম আমরা সব ভাষা বুঝি।
-তুমি এতদিন পরে আমাকে দেখা দিলে কেন?
-এতদিন পরে কেন, আমি তো তোমাকে সব সময়ই দেখতে পাই। তুমি আমাকে দেখতে পাও না। 
-কেন
-আমি তো তোমাকে ছাড়া আর কাউকে দেখা দিতে চাই না তাই।
-ও আচ্ছা।
-এবার বল, তুমি আমাদের দেখতে এত আগ্রহী কেন?
-আমি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি পড়তে খুব পছন্দ করি, তাই তোমাদের দেখতে খুব ইচ্ছে করে।
হামীমের কথা শেষ হতে না হতেই মাছিটা ওর হাত থেকে উড়ে গিয়ে টেবিলজুড়ে বসল। এত বড় মাছি দেখে হামীমের চোখ পুরো ছানাবড়া। একি! এটা কী! কৌতূহল থাকলেও হামীম একটু ভয় পেল। এত বড় মাছি! ওর চোখ জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ির লাল-নীল লাইটিং। এবার মাছির পাখাটা ঠিক প্রাইভেটকারের দরজা খোলার মতো করে খুলে গেল। আর তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল মানুষ আকৃতির ছোট্ট একটা প্রাণী। হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি?
-হ্যাঁ আমি স্কাইপি। ওটা আমার শিপ। তুমি তো আমার সঙ্গেই এতক্ষণ কথা বললে।
-কি মাছিটা তোমার শিপ।
-হুম মাছির পেটে চড়ে আমি পৃথিবীতে এসেছি। 
হামীম আর ভাবতে পারে না। আনন্দে ও পাগল হয়ে যাচ্ছে। এলিয়েন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু তা-ই নয়, সে বাংলায় কথা বলছে। এতদিনের আশা এভাবে পূরণ হলো। 
স্কাইপি বলেÑ কী তুমি কথা বল না কেন?
হামীম কী বলবে বুঝতে পারে না। তার খুব ইচ্ছে করছে, একজনকে অন্তত এলিয়েনকে দেখাতে। সাত-পাঁচ না ভেবে সে সিয়ামকে ডাকতে বাইরে গেল। মিনিট কয়েকের মধ্যে ফিরে এসে দেখে টেবিল ফাঁকা। একটা মাছি ওদের মাথার ওপর দিয়ে কয়েক পাক ঘুরে জানালা দিয়ে বের হয়ে গেল। সিয়াম বলল কি রে এ মাছিটা দেখতে ডেকে আনলি! হ


মশা ও লেখক
লেখার টেবিলে বসে আছি দুই ঘণ্টা হয়। ছোট্ট টেবিলবাতি সেই
বিস্তারিত
বনপাখিটার মনটা খারাপ
  বনপাখিটার মনটা খারাপÑ ভাঙবে কীসে তাহার মান? বীথি তিথি ভেবেই
বিস্তারিত
বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত
বাংলা মায়ের সবুজ প্রাণ
ইস্টি কুটুম মিষ্টি পাখির দুষ্ট ছানা আকাশ নীলে মেলছে খুশির নরম
বিস্তারিত