বন্ধু

আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা আসলে কী? বল। কী অবাক কা-, তোরা আমাকে আপনি করে বলছিস!’ বলে সালামকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল রাহাত। বাকিরাও ওদের দু-জনকে জড়িয়ে ধরল। সবার চোখে জল। চোখের 
এই জল যেমন বেদনার, তেমনি আনন্দেরও

 

রাহাত যখন থেকে ডাক্তারি পড়তে ঢুকল তখন থেকেই গ্রামের মানুষের দাবি ডাক্তার হয়ে সে গ্রামে ফিরবে। গ্রামের মানুষের সেবা করবে। 
গ্রামের মানুষের কথা রেখেছে রাহাত। ডাক্তার হয়ে সে গ্রামে এসেছে। শুধু গ্রামেই আসেনি, গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবার অভাব দেখে একটা হাসপাতাল করেছে।
গ্রামে আসাতে কত কত লোকের সঙ্গে দেখা! চেনা-অচেনা, আত্মীয়-পরিজন। রাহাত সবাইকে চেনেও না। চিনবে কেমন করে? ভালো পড়াশোনা করাতে সেই ছোটবেলায় বাবা ওদের শহরে নিয়ে গেছেন! স্কুল-কলেজের ছুটিতে মাঝে মাঝে দেশে এসেছে। ওইটুকু সময়ে গ্রামের ক’জনের সঙ্গে আর দেখা হয়েছে?
এখন একে একে দেখা হচ্ছে। জানাশোনা হচ্ছে।
পরিচিত-অপরিচিত লোকের মাঝে বন্ধুদের কথা মনে পড়ে রাহাতের। ওর সঙ্গে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে যারা পড়ত, সেই বন্ধুদের কথা মনে পড়ে।
ক’জন বন্ধুর খোঁজ পেল রাহাত। কিন্তু রাহাত এখন ওদের কাছাকাছি আছে জেনেও ওরা নাকি দেখা করতে চায় না!
শুনে রাহাতের খুব মন খারাপ হলো। বন্ধুরা ওকে এভাবে ভুলে গেল? সে তো এতটুকু ভোলেনি!
একদিন ছোটমামা বললেন, ‘আজ তোমার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। তোমার কথা জিজ্ঞেস করল।’
‘ওকে নিয়ে এলেন না কেন মামা?’
‘বলেছিলাম। ও আসতে চায় না।’
‘কেন আসতে চায় না?’
ছোটমামা আমতা আমতা করে বললেন, ‘আজ তোমার যে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো, সে এখন রিকশা চালায়। ওকে তোমার সঙ্গে দেখা করতে বলতেই কী বলল জানো?’
‘কী বলল?’
‘বলল রাহাত এখন কত বড় ডাক্তার। আমি একজন রিকশাওয়ালা হয়ে ওর সামনে যাওয়ার সাহস কি আমার আছে?’
রাহাতের কথাগুলো শুনে বুকের ভেতরটা কেমন কুঁকরে উঠল!
তারপর থেকে মন খারাপ রাহাতের। এমন ঠুনকো কারণে ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না ওর!

দুই
শীতের সকালের নরম রোদ তেজ পেতে না পেতে একে একে সবাই হাজির।
পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের আজ স্কুলে ডাকা হয়েছে।
কিন্তু পুরোনো ছাত্রদের অনেকে ঠিক হাজির হয়েছে, ছাত্রীরা না হয় নাইবা হাজির হলো; স্কুলের স্যাররা কোথায়? ক্লাসরুমের দরজাই বা কে খুলবে?
সবার দৃষ্টি স্কুলমাঠের পূর্ব-পশ্চিম কোণে। এই দুই কোণ থেকে দুটো রাস্তা এসে স্কুলমাঠে মিশেছে। কেউ এলে ওই পথ ধরেই আসবে।
কিন্তু না, টিচার বা দপ্তরি কেউ এলেন না। খানিক বাদে রাহাত এসে দাঁড়াল সবার সামনে। ওকে দেখে পুরোনো বন্ধুরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছিল।
রাহাত বলল, ‘সবাই খুব অবাক হয়েছিস, তাই না?’
কেউ কিছু বলল না।
‘আমিও তোদের কথা ভেবে খুব অবাক হয়েছি। আগে না হয় অনেক দূরে ছিলাম। এখন কাছাকাছি থেকেও দেখা হবে না?’
সালাম বলল, ‘আপনি তো অনেক বড় ডাক্তার হইছেন পড়াশোনা কইরা। আমরা তো আর আপনার মতোন অত বড় হইতে পারি নাই। তাই কোন সাহসে আপনার সঙ্গে মিশব?’
সালামের কথা শুনে চুপসে গেল রাহাত।
‘টাকার অভাবে পড়াশোনায় আগাইতে পারি নাই। শেষে এই গ্রাম চকিদারের কাজ নিছি।’
বাবুল বলল, ‘আমি রিকশা চালাই।’
‘আমি মুদি দোকানে কাজ করি।’
রাহাত সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘তোরা কে কী করিস তা শুনতে আসিনি। তোরা আমার কাছে যাসনি বলে নিজেই তোদের কাছে এসেছি। কাজ দিয়েই কি শুধু পরিচয়? বন্ধুত্ব কিছুই না? নাকি তোরা আমাকে আর বন্ধু ভাবিস না?’
সবাই আবার মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল।
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’
‘তোরা আসলে কী? বল। কী অবাক কা-, তোরা আমাকে আপনি করে বলছিস!’ বলে সালামকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল রাহাত।
বাকিরাও ওদের দুজনকে জড়িয়ে ধরল। সবার চোখে জল। চোখের এই জল যেমন বেদনার, তেমনি আনন্দেরও।
ঠিক তখন রাহাতের ছোটমামা এলেন আরও দু-তিনজনকে নিয়ে। সবাইকে গোল হয়ে মাঠে বসতে বললেন মামা। তারপর বললেন, ‘এইভাবে সবাইকে একত্র করার প্ল্যানটা আমার।’ একটু থেমে মাঠের কোলঘেঁষা দোকানটা দেখিয়ে শহিদুলকে বললেন, ‘শহিদুল, যা তো আজিমের দোকান থেকে মুড়ি-চানাচুর নিয়ে আয়।’
মুড়ি-চানাচুর খেতে খেতে দারুণ আড্ডা হলো। দুপুরের রোদ কড়া হলে মামা বললেন, ‘আর মাঠে থাকা যাবে না। সবাই বাড়িতে চল। আজ দুপুরে সবাই আমাদের বাড়িতে খাইবা।’

তিন
তারপর থেকে মাঝে মাঝেই রাহাত আর তার বন্ধুদের দেখা হয়। রাহাত তখন পুরোনো দিনে ফিরে যায়। সেই স্কুলের দিনগুলো! বন্ধুরা মিলে কত না মজা করেছে! পুরোনো দিনের স্মৃতি চোখে ভাসছে আর নাকে ভেসে আসছেÑ ছোটবেলার সেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। ঘ্রাণটা এতটুকু পুরোনো হয়নি। ঠিক আগের মতো আছে। হ


দাদুর গবেষণা
দাদু বললেন, তুই ভাবছিস, উদ্ভিদের খাদ্যের সঙ্গে ভাষার কী সম্পর্ক?
বিস্তারিত
বিজয় মানে
বিজয় মানে একটি কুঁড়ি একটি গোলাপ ফুল, বিজয় মানে ছন্দতোলা কুমার
বিস্তারিত
শীতের ঋতু
দূর্বা-ঘাসের শরীর জুড়ে জমবে শিশির ফোঁটা বিন্দু বিন্দু জলের কণায়
বিস্তারিত
শীতের আমেজ
শীতের আমেজ চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শীতটা আসে সূর্য হাসে লুকিয়ে মেঘের
বিস্তারিত
ব্যাঙবাজি
  ধুত্তরি ছাই ভাল্লাগে না কেমনে সময় কাটাই পাই না খুঁজে
বিস্তারিত
দিন বদল
দিন বদল মামুন অপু কোথায় আমার হারিয়েছে দুরন্ত শৈশব চাই না
বিস্তারিত