সফল উদ্যোক্তা আলিয়াহ ফেরদৌসি

উদ্যোক্তা আলিয়াহ ফেরদৌসি

চেনা গণ্ডির সীমানা ভেঙে বেরিয়ে আসছেন নারীরা। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে অফিস, আদালত, ব্যবসা, প্রতিরক্ষা— প্রতিটি জায়গায় তাদের দীপ্ত পদচারণা। প্রতিটি কাজেই পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন তারা। শহর কিংবা গ্রাম— সবখানেই নারী আজ অনবদ্য। 

আধুনিক বিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছেন নারীরা। এদের অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উদ্যোক্তা হিসেবে। গতাণুগতিক চাকরির বাইরে এসে নিজের সৃজনশীলতাকে পুঁজি করে ব্যবসায় নেমেছেন, এমন সাহসী নারী এক-দুজন নয়, অসংখ্য। এর মধ্যে একজন আলিয়াহ ফেরদৌসি।

কথায় বলে— যে রাধে সে চুলও বাধে। আলিয়াহ তেমনই একজন নারী। স্নাতক সম্পন্ন করার পর বিয়ের পিঁড়িতে বসে তার পুরোদস্তুর সংসারী হয়ে ওঠার কথা ছিলো। কিন্তু তিনি সংসারও সামলালেন, হয়ে উঠলেন একজন সফল উদ্যোক্তা। তার তৈরি পোশাক এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও।

তিন বোন আর দুই ভাইয়ের মাঝে আলিয়াহ ফেরদৌসি সবার বড়। বাবা সরকারি কর্মকর্তা আর মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন সৃষ্টিশীল কিছু করার। কোথাও কোনো ডিজাইন দেখলে সেটা নিজে তৈরির চেষ্টা করতেন। 

পরিবার আর প্রতিবেশীদের উৎসাহ এবং নিজের অদম্য ইচ্ছায় ২০০৮ সালে বুটিক্স ব্যবসা শুরু করেন আলিয়াহ। বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্লক, বাটিক, স্কিন প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারি, এপলিক, গ্লাস ওয়ার্ক ও বিভিন্ন উপাদান এনে কাজ করতেন উদ্যোক্তা।


                                                                   আলিয়াহ ফেরদৌসির তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক

আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস করেন উদ্যোক্তার এক নিকটাত্মীয়। উদ্যোক্তার কাজ সম্পর্কে জানতে পেরে কাজের একটা অর্ডার দেন উদ্যোক্তাকে। আমেরিকায় তার পণ্য যাবে, প্রবল উৎসাহ নিয়ে অত্যন্ত যত্নের সাথে তৈরি করে ৩৫ টা ড্রেস পাঠান উদ্যোক্তা। কাজের মান আর পণ্য দেখে উদ্যোক্তার প্রশংসা করেন সবাই। প্রবল উৎসাহের পাশাপাশি বাড়তে থাকলো উদ্যোক্তার কাজের পরিধি।

২০১০ সালে তিনি ‘অঙ্গশ্রী’ নামে একটি বুটিক ও ফ্যাশন হাউজের যাত্রা শুরু করেন। পাশাপাশি শুরু করেন ‘অঙ্গশ্রী’ টেইলরিং। শুধু হাতের কাজই নয়, ফেব্রিকের ফ্যাশনেবল ড্রেসও তৈরি করেন সেখানে। ১০ জন টেইলরিং ও এমব্রয়ডারি কারিগর কাজ করেন উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানে। যারা তাদের কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নিজে পাশাপাশি সমৃদ্ধ করছেন দেশকে।

বর্তমানে উদ্যোক্তার তৈরি পণ্য নিয়মিত আমেরিকার কয়েকটি শহর ছাড়াও মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্যেও রপ্তানি হচ্ছে।


                                                   টেইলরিং ও এমব্রয়ডারির কাজ করছেন উদ্যোক্তার কারিগর

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ক্রেতাদের নিকট সহজেই পৌঁছে যাওয়া এবং পছন্দের পণ্যটি ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য ফেসবুকে অঙ্গশ্রী নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। যেখানে ব্যাপক সাড়াও পান উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা বার্তাকে আলিয়াহ ফেরদৌসি জানান, ব্যবসার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা প্রয়োজন। কারণ সবকিছুর আগে নিজেকে দক্ষ হতে হবে, অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্স, এফ.কম কোর্স সহ আরো কিছু কোর্স করেছি। যা আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে আমার কাজকে এগিয়ে নিতে। এছাড়াও ব্যবসাকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে মেলাতেও অংশগ্রহণ করেছি।’

একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ওমেন এন্ট্রাপ্রিনিউরশিপের একজন সদস্য। তিনি চান তার কাজের মাধ্যমে দেশকে বিশ্ব দরবারে নতুন রূপে তুলে ধরতে।


হলুদ ফুলে কৃষক লাল
কৃষকের বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল। মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে
বিস্তারিত
বিএডিসি’র গোলআলুতে ঘোর সংসারের চাকা
শেরপুরের নকলা উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বীজ উৎপাদনের জন্য
বিস্তারিত
কৃষিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও, বেতনবৈষম্যের স্বীকার
শেরপুরের নকলা উপজেলায় কৃষিকাজে নারীদের অংশ গ্রহন দিন দিন বাড়ছে।
বিস্তারিত
ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণে সাবলম্বী
বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যে ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণ
বিস্তারিত
সৃজনশীলতার সাথে এক নতুন দিগন্তে
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটা ছোট বেলাতেই শিখেছি। তাই সংসারের
বিস্তারিত
পাবনায় চরাঞ্চলে সবজি চাষে কৃষকের
পাবনায় পদ্মা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরে এবারে সবজির বাম্পার
বিস্তারিত