আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই মুসলিম নারীর ইতিহাস সৃষ্টি

ওমর ইলহান ১৪ বছর বয়সে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সে দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং রাশিদা তালিব ফিলিস্তিনি অভিবাসী দম্পতির সন্তান। গৃহযুদ্ধের কারণে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে আসা ওমর একজন সাবেক শরণার্থী ও তালিব ডেট্রয়িটে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিন-আমেরিকান বাবা-মায়ের সন্তান

আমেরিকায় মধ্যবর্তী সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে দুজন মুসলিম নারী জয়ী হয়েছেন। গেল সপ্তাহে ভোটে মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইলহান ওমর এবং মিশিগান থেকে জিতেছেন রাশিদা তালিব। তাদের একজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব এবং অন্যজন সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর। দুজনই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য।
মার্কিন মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাবের মধ্যে এ দুই মুসলিম নারী মার্কিন প্রতিনিধি সভায় নির্বাচিত হলেন। গেল সপ্তাহে প্রকাশিত নিউ আমেরিকান ফাউন্ডেশন ও আমেরিকান মুসলিম ফাউন্ডেশনের একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতি পাঁচজনে দুজন আমেরিকান মনে করেন ইসলাম আমেরিকার আদর্শের সঙ্গে খাপ খায় না। একই সংখ্যক মানুষ মনে করে, মুসলিমরা অন্যদের মতো দেশপ্রেমী নয়। মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশটির মিডিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে।
ওমর ইলহান ১৪ বছর বয়সে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সে দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং রাশিদা তালিব ফিলিস্তিনি অভিবাসী দম্পতির সন্তান। গৃহযুদ্ধের কারণে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে আসা ওমর একজন সাবেক শরণার্থী ও তালিব ডেট্রয়িটে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিন-আমেরিকান বাবা-মায়ের সন্তান।
মার্কিন কংগ্রেসের ওমর ইলহান একমাত্র নারী, যিনি শুধু মুসলিম নন, মাথায় স্কার্ফ পরিহিত প্রথম মুসলিম নারীও তিনি। কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম পুরুষ সদস্য কেইথ এলিসনের আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওমর বলেন, তিনি শৈশবের চার বছর কাটান কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে। আমেরিকায় আসার স্বপ্ন তিনি কোনো দিন দেখেননি। শরণার্থী শিবিরে খাবার নিয়ে চিন্তা করে দিন কেটে যেত তাদের।
জয় পাওয়ার পর ইলহান বলেন, ‘আজ রাতে আমরা এ বিজয়কে উদযাপন করছি। কিন্তু আমাদের কাজ শেষ হয়নি। আমরা সমৃদ্ধ এবং সমতাভিত্তিক জেলা, অঙ্গরাজ্য এবং জাতি গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখব, যেখানে সবাই সাফল্য অর্জনের সুযোগ এবং একসঙ্গে সামনে এগোতে পারবে।’
এদিকে কংগ্রেসের অন্য প্রার্থী রাশিদা তালিবকেও অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তার উত্থানের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ। ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তিনি মিশিগান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মিশিগানের ডিস্ট্রিক ১৩ প্রাইমারির নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন পেয়েছিলেন রাশিদা। ফিলিস্তিন থেকে আমেরিকায় আসা এক পরিবারের ১৪ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। 
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১০০ জন। এর আগের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন ১২ জন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্ণবিদ্বেষী নীতির কারণে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
১৯৬৫ সাল থেকে এ আসনটি জন কোনিয়ের্সের দখলে ছিল। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যার কারণে আসনটি শূন্য হয়।
উল্লেখ্য, রাশিদা তালিব বিজয়ী হয়ে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে তিনি একজন নির্বাচিত মুসলিম নারী। আর তিনিই প্রথম আরব-আমেরিকান মুসলিম নারী। এর আগে কংগ্রেসে দুজন মুসলিম পুরুষ নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা দুজনই আফ্রিকান-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য।

সূত্র : অ্যারাবিয়ান নিউজ


চাকচিক্য নয়, চাই বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ
কোরআন মজিদের নির্দেশ হলো, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ২০
আজ ২০তম তারাবিতে সূরা ইয়াসিনের ২২-৮৩ আয়াত, সূরা সাফফাত, সূরা
বিস্তারিত
ফুলতলীতে ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ দিবস পালিত
সিলেটের ফুলতলীতে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট প্রধান কেন্দ্রের উদ্যোগে
বিস্তারিত
ইতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির সুযোগ
ইতেকাফ একটি মহান ইবাদত। এটি ঈমান বৃদ্ধির প্রধান সুযোগ। ইতেকাফ
বিস্তারিত
মাসআলা
সাধারণ অসুস্থাতায় যদি সুস্থ হয়ে রোজা কাজা আদায় করার সম্ভাবনা
বিস্তারিত
মাহে রমজান উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা
  (সৌজন্যে : মাকতাবাতুল হাসান) আজকের প্রশ্ন পরকালের একদিন সমান এখানকার
বিস্তারিত