জাপানে দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছে ট্রেন সিমুলেটর

বেশ দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলেছে মেট্রোরেলের কাজ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উড়ালপথ এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সে লক্ষ্যেই মেট্রোরেলের কাজ শুধু বাংলাদেশে নয়, কাজ জাপানেও হচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম রোলিং স্টক (কোচ) ও ট্রেন সিমুলেটর। জাপানে এগুলো প্রস্তুতের পরে পানিপথে বাক্সবন্দী হয়ে বাংলাদেশে আসবে এই রেল কোচ।

কোচ শতভাগ প্রস্তুতির পর ঢাকায় শুধুমাত্র মেট্রোরেল ট্র্যাকের উপরে বসিয়ে দেয়া হবে। কোচগুলো সরবরাহ করবে জাপানের কাওয়াসাকি-মিটসুবিসি কনসোর্টিয়াম। কোচে লাল-সবুজের প্রাধান্য রয়েছে, যা তৈরির আর্থিক অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাংলাদেশে ট্র্যাক নির্মাণের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোচগুলো পানিপথে দেশে আসবে। এসব কথা বিবেচনা করেই এগিয়ে চলেছে লাল-সবুজের কোচ তৈরির কাজ।

সূত্র আরো জানায়, প্যাকেজ-০৩ ও ০৪ এর আওতায় উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। উভয় প্যাকেজের কাজ ২০১৭ সালের ১ আগস্ট শুরু হয়েছে। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। টেস্ট পাইল, চেক বোরিং এবং মোট ৭৬৬ টি পাইল ক্যাপের মধ্যে ২৩৫টির  নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া মোট ৪৪৮ টি পিয়ার হেডের মধ্যে ৮৮টি এবং ৪,৫৭৭ টি প্রিকাস্ট সেগম্যান্টের মধ্যে ৬১৭টি সম্পন্ন হয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে ৩০০ মিটার ভায়াডাক্ট। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ শে জুন ২০১৯ তারিখ এ প্যাকেজের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর বাস্তব অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রসঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) খান মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কাজের গতি বাড়াতেই বিভিন্ন প্যাকেজে কাজ ভাগ করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, জাপানেও হচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ। আমাদের দেশে ট্র্যাক নির্মাণ হলেই জাপান থেকে কোচ এনে বসিয়ে দেবো। বাক্সের মোড়ক খুলে রেডিমেট কোচগুলো বসিয়ে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ করা। আমাদের কাজ সম্পূর্ণ হলেই কোচগুলো জাপান থেকে আনতে পারবো।’

তিনি বলেন, কোচগুলো হবে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী। প্রতিটি কোচ হবে ট্রেনেস্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ছয়টি বগি থাকবে, যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৭৩৮। বগির উভয় পাশে থাকবে চারটি দরজা। ট্রেনে সিটের ধরন হবে লম্বালম্বি এবং প্রতি ট্রেনে ২টি হুইল চেয়ার থাকবে। এছাড়া থাকবে স্টার্টকার্ড টিকেটিং পদ্ধতি।
 
মিজানুল বলেন, ২৪ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে ঢাকায়। উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেইট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে মেট্রো রেল, সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট।

প্যাকেজ ৮-এ রেল কোচ প্রস্তুতে ব্যায় হবে চার হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এছাড়া রোলিং স্টক পরিচালনা সংরক্ষণের জন্য ডিপোর যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং রোলিং স্টক প্রকৌশলী, পরিচালনা ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে এই প্যাকেজে।

২০ দশমিক ১ কিলোমিটার মেট্রোরেলের বাকি অংশের (মতিঝিল পর্যন্ত) কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে। মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। ২৪টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী আনা-নেওয়া করবে।
 
মেট্রোরেলের সার্বিক বাস্তব গড় অগ্রগতি ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সার্বিক আর্থিক অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে আগারগাঁও অংশের আর্থিক বেশি।

অন্যান্য প্যাকেজ ভিত্তিক বাস্তবায়ন অগ্রগতির মধ্যে প্যাকেজ-০১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) বাস্তব কাজ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়ে নির্ধারিত সময় ০৯ (নয়) মাসে সমাপ্ত হয়েছে। প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ জুন প্যাকেজের কাজ শেষ হবে। বর্তমানে বাস্তব অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ।
 
প্যাকেজ- ৫ হলো আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ৩.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৩ টি স্টেশন নির্মাণকাজ। এই প্যাকেজের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। বর্তমানে এ অংশে স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং এবং পরিসেবা স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্ট এরিয়ার চেকবোরিং চলমান আছে। বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ।
 
প্যাকেজ- ৬ কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪.৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪ টি স্টেশন নির্মাণ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে এই প্যাকেজের কাজ শুরু করে। স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্ট এরিয়ার চেকবোরিং চলমান আছে। বর্তমানে এ অংশে পরিসেবা স্থানান্তর শেষে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি ২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ।
 
প্যাকেজ-৭ অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের ১১ জুলাই শুরু হয়। বর্তমানে হাই ভোল্টেজ ফিডার ক্যাবল রাউট সার্ভে ও আন্তঃপ্যাকেজ সমন্বয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি ৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।


অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন:
পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ
বিস্তারিত
‌'কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল
বিস্তারিত
স্বজনদের কাছে ৪৬ মরদেহ হস্তান্তর
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬৭ জনের
বিস্তারিত
শিক্ষাপদ্ধতিতে জীবনব্যাপী শিক্ষাকে অবিচ্ছেদ্য অংশ
টেকসই উন্নয়নের জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু
বিস্তারিত
যেকোনো মূল্যে কেমিক্যাল গোডাউন সরানো
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম  জানিয়েছেন,
বিস্তারিত
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ তিনটি: বিস্ফোরক
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলেছেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে
বিস্তারিত