রূপে ভরা হেমন্ত

প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে হেমন্ত। শিশির বিন্দু ঝরার টুপটাপ শব্দ আর মৃদু শীতলতা জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের খবর। শিশিরস্নাত সকাল, কাঁচাসোনা রোদমাখা স্নিগ্ধসৌম্য দুপুর, পাখির কলকাকলি ভরা ভেজা সন্ধ্যা আর মেঘমুক্ত আকাশে জোছনা ডুবানো আলোকিত রাত হেমন্তকালকে যেন আরও রহস্যময় করে তোলে সবার চোখে; প্রকৃতিতে এনে দেয় ভিন্নমাত্রা। হেমন্তের এ মৌনতাকে ছাপিয়ে বাংলার মানুষের জীবনে নবান্ন প্রবেশ করে জাগরণের গান হয়ে, মানুষের জীবনে এনে দেয় সর্বজনীন উৎসবের ছোঁয়া। 

হেমন্তকে বলা হয় বিচিত্র রঙের ঋতু। হেমন্তের শিশিরঝরা নিশিতে ফোটে গন্ধরাজ, মল্লিকা, শিউলি আর কামিনী। হেমন্তেই দিঘির জলে, বিলে, ঝিলে ফোটে কত না রঙের পদ্ম। হেমন্তের চরিত্র আর তার বাইরের রূপ নিয়ে জগৎজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে শত শত গল্প, শিল্প, গান ও কবিতা। 
অসাধারণ সৌন্দর্যচেতনায় ভাবুক হৃদয়ের বিলাসিতায় এ ঋতুকে নিজের প্রিয়তমারূপে কল্পনা করেছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ কবি জর্জ এলিয়ট। বলেছিলেনÑ ‘হে অপরূপা সুন্দরী ঋতু হেমন্ত/তোমার সঙ্গে আমার অন্তরাত্মা এখন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ/যদি ডানাওয়ালা পাখির মতো পৃথিবীজুড়ে উড়ে বেড়াতে পারতাম/তোমার মনোলোভা রূপের এ সৌন্দর্যের বিস্তারে, তাহলে উপভোগ করতাম সর্বত্র।’ 
‘অঘ্রাণের সওগাত’ কবিতায় হেমন্তের আগমনী, এর প্রকৃতি ও স্বভাবের এক চঞ্চলরূপ এঁকেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। হেমন্ত নিয়ে কবি লেখেনÑ ‘চাঁদের প্রদীপ জ্বালাইয়া নিশি জাগিছে একা নিশীথ/নতুনের পথ চেয়ে চেয়ে হলো হরিত পাতারা পীত।’ 
হেমন্তের অন্য নাম নবান্ন। এক সময় বাংলায় বছর শুরু হতো হেমন্ত দিয়ে। কারণ, ধান উৎপাদনের ঋতু হলো এ হেমন্ত। নবান্ন মানেই চারদিকে পাকা ধানের ম-ম গন্ধ, নতুন অন্ন, গ্রামের মাঠে মাঠে চলে ধান কাটার ধুম, হেমন্তে এ ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। গৃহস্থবাড়িতে নতুন ধানে তৈরি পিঠাপুলির সুগন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। বর্ষার শেষ দিকে বোনা আমন-আউশ শরতে বেড়ে ওঠে। আর হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকে ধান পরিপক্ব হয়। হেমন্তের ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই নবান্ন উৎসবের সূচনা।


জীবন জগতের রহস্য যেখানে
আল্লাহর স্মরণ, আর গোনাহখাতা বর্জন করে মনের আয়নাকে ঘষে ঘষে
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তারা তোমাকে রুহ (আত্মা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, রুহ
বিস্তারিত
সায়্যিদুল মুরসালীন
সায়্যিদ অর্থ প্রতিপালক, মালিক, সম্ভ্রান্ত, শ্রেষ্ঠ, দয়াবান, সহিষ্ণু, জনগণের কষ্ট
বিস্তারিত
সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে মাওলানা আহমদ
মোহতারাম দোস্ত বুজুর্গ!  আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা এবং রাসুলের ওপর দরুদ
বিস্তারিত
সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন
মনোবলসম্পন্ন ব্যক্তি নিজের জন্য সুযোগ তৈরি করে। সুযোগ দরজায় এসে
বিস্তারিত
ঈমানের মেহনতে জমে থাকি
মোহতারাম দোস্ত বুজুর্গ! আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।
বিস্তারিত