মশা ও লেখক

Ñএবার একটা লিখেন। লিখবেনÑ খামাখা কেউ যেন মশাদের চড় না মারে, পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়, কেউ আজ, কেউ কাল চিরবিদায় নেবেÑ কী দরকার অন্যের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার! লেখক, আমি কি ভুল বললাম?

লেখার টেবিলে বসে আছি দুই ঘণ্টা হয়। ছোট্ট টেবিলবাতি সেই থেকে আলো দিয়ে যাচ্ছে। শেষে ঘুম ঘুম চোখে বলল, আর কত সময় জাগবেন, স্যার? আপনার চোখে ঘুম নাই? 
মিনতিভরা কণ্ঠে বলি, আরেকটু ভাইয়া, দেখি না যদি কিছু লিখতে পারি...।’ 
দেয়ালঘড়ির বড় কাঁটা ১টার ঘর পার হলো। টিক টিক করে বলল, ওই ব্যাটা, যা গিয়া ঘুমা; খামাখা বইসা রইছ! 
আমি লজ্জা পেয়ে বলি, প্লিজ, ভাইয়া, রাগ করো না...বুঝলে তো লেখালেখির অনেক যন্ত্রণা...।’ 
Ñওকে, ওকে...বুঝছি...।’
টিক টিক করে সময় বয়ে চলে...
আমি জানি, ওরা বিরক্ত হলেও আমাকে ছেড়ে যাবে নাÑ ভালোবাসে তো!
কী করব, লেখা আসছে না কলমেÑ বসে বসে মশা মেরেছি চারটা। যে-ই চিন্তায় ডুব দিই অমনি মশা কামড় বসিয়ে দেয়। শরীরের আনাচে-কানাচে, কামড়াতে বাদ দিচ্ছে না মাথার তালুও। মনোযোগ ছুটে যাচ্ছে বারবার। আমি নিরীহ লেখক বটে, সজ্ঞানে একটা মশার গায়েও হাত তুলি না। আজ ঘটনা উল্টো। টেবিলের ওপর চারটা মশার ডেডবডি পাশাপাশি সাজিয়ে রেখেছি। যাতে বাকি মশারা দেখে ভয় পায়, শিক্ষা হয় ওদের। 
কীসের কি, ভয়কে ওরা জয় করেছে; মানুষকে থোড়াই কেয়ার করে।
পৃথিবীর একমাত্র ভয়ংকর প্রাণী হলোÑ মশা। রাজা-উজির, জেলে-তাঁতি, ছোট-বড় কাউকে ওরা ছাড় দেয় না। ফাঁক পেলেই টকাস-টকাস চুমু খায়। 
মশা মারব, না লিখব? 
মশা মারতে কামান দাগলেও আজকাল কাজ হয় না। মশার কয়েলেও ভেজাল। ধোঁয়ার ভেতর মশারা গায়ে বাতাস লাগিয়ে উড়ে বেড়ায় আর গান গায়...।’
মশার বংশ তো ছোট না, কয়টাকে ধরে ধরে আর মারা যায়! 
আচ্ছা, বিজ্ঞানীরা কতকিছু আবিষ্কার করছেন, মশাকে দুনিয়া থেকে তাড়ানোর কোনো যন্ত্র কেন আবিষ্কার করছেন না?
জানালার গ্রিলের ওপর বাচ্চা সাইজের একটা টিকটিকি মাথা বের করে টিক টিক করে উঠল। তারপর গলা বাড়িয়ে বলল, মিয়া ভাই, বিজ্ঞানীগো বেহুদা সময় নাই মশার মতো ফালতু জিনিস চিন্তা করনের...’ আপনেও মিয়া আছেন মশা নিয়া, ছাড়েন...ছোট-খাটো ইস্যু নিয়া মাতামাতির কিছু নাই, সময় নষ্ট...কামড়াইলে কামড়াক; এখন মন দিয়া লিখতে বসেন...।’ 
আমি বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়লাম। মনে মনে বললাম, চান্সমতো উপদেশ ঝেড়ে দিল পুঁচকের বাচ্চা পুঁচকে!
কলম আঙুলের ভাঁজে ধরলাম। খাতার ওপর একটা মশা এসে বসল। ধাম করে একটা চড় বসিয়ে দিলেই খতম!
আমার মন বলে উঠলÑ মশাটা তোমার গায়ের ওপর তো বসেনি। মারবে কেন? ছেড়ে দাও। মশারও প্রাণ আছে। আর একটা প্রাণ নেওয়ার অধিকার তোমার নেই। তাছাড়া তুমি একটা প্রাণ সৃষ্টি করতেও পার না।
হুম, বুঝলামÑ গভীর রাতে মানুষের বিবেকও নড়েচড়ে বসে। জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলে। আমি মশাটার দিকে ঝুঁকলাম, দেখি ওটার চোখের পলক পড়ছে না, সাহস আছে ব্যাটার। বললাম, যাও ভাই, যাওÑ অন্য কোথাও গিয়ে রক্ত খাওয়ার ধান্ধা করো।
মশাটা সামনের ডান পা উঁচিয়ে বলল, লেখক মহাশয়, চড় দিয়ে আমার বাঁ পা ভেঙে আধমরা করে দিয়েছেন আপনি!
আমি অবাক হলাম। সবিস্ময়ে বলি, কবে, কখন?
Ñএকটু আগে যে চড়টা মারলেন! অল্পের জোরে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি আমি। 
Ñঅ। আবার সামনে এসে কোন সাহসে বাহাদুরি করছো হে? মতলব কীÑ রক্তের নেশা ছোটেনি?
Ñমতলব একটা আছে...তাছাড়া আমরা মশারা মৃত্যুর পরোয়া করি না, আমরা বাঁচলে সিংহের মতো বাঁচি; মরলেও সিংহের মতো। 
Ñহুম, বুঝলাম, তা তোমার মতলবটা জলদি বলে ফেল, তারপর কেটে পড়ো...অযথা সময় নষ্ট কোরো না! 
Ñবলতে চাই, আপনি লেখক মানুষ, পিচ্চি পিচ্চি মশা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আপনার লেখা নিয়ে ভাবেন...সেটাই মনে হয় মঙ্গল! 
Ñধন্যবাদ। এবার তুমি বিদেয় হও। 
Ñস্যার। আপনারা মাছ, মাংস খান আর আমরা আপনাদের রক্ত খাই...ব্যাস শোধবোধ। 
Ñবাপ রে বাপ, তারপর?
Ñঅধৈর্য হবেন না মশাই, বলছিÑ পৃথিবীতে বাঘ-ভাল্লুক, টিয়া-ময়না, গরু-ছাগল যেমন থাকবে; মানুষ থাকবে তেমনি মশারাও থাকবে...সবাইকে বাদ দিয়ে শুধু মশক জাতির ধ্বংস কামনা করছেনÑ এটা মশক জাতি কখনও মেনে নেবে না! 
Ñআরে ধুর, আমি ওটা মজা করে বলেছি, তাছাড়া আমার মনে দয়ামায়া কম নেই, বুঝলে! 
Ñআচ্ছা। আপনাকে একটা কথা বলি, মশাদের যতই শক্তিশালী মনে করেন না কেন, ভেবে দেখেন মশার জীবনের আয়ু কত দিনের? একবার রক্ত খাওয়ার পরে মৃত্যু অনিবার্য। এর বেশি বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। আহা, কত ঠুনকো মশাদের জীবন! তেমনি মানুষও বড় তুচ্ছ প্রাণীÑ মশার কামড় সহ্য করতে পারে না, পারে না পিঁপড়ার কামড়ও সহ্য করতে। আয়ুও তো খুব বেশি বছরের নয়, বড়জোর ৭০ বছর, আর খুব লাকিম্যান হলে ৮০+! আর এক বছরে ৩৬৫ দিন হয়, প্রতিদিনে ৮৬ হাজার ৪০০ সেকেন্ড, খুব বেশি সময় নিয়ে আসেননি তো, স্যার! তাহলে মানুষের এত বড়াই করা, অহংকার করা মানায়, বলেন? লেখক স্যার, আমি কি ভুল বললাম? 
Ñনা, ভুল বলোনি। সহমত ভাই। 
Ñধন্যবাদ লেখক সাহেব। আপনাকে আরেকটা অনুরোধ করিÑ? 
Ñঅবশ্যই, অবশ্যই মশক ভায়া, প্লিজ।
Ñমশাদের নিয়ে আপনি কোনো গল্পটল্প লিখেছেন আগে-পরে? 
Ñমনে হয়, না। 
Ñএবার একটা লিখেন। লিখবেনÑ খামাখা কেউ যেন মশাদের চড় না মারে, পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়, কেউ আজ, কেউ কাল চিরবিদায় নেবেÑ কী দরকার অন্যের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার! লেখক, আমি কি ভুল বললাম? 
Ñনা রে ভাই, একদম সত্য কথা। আমি অতি সামান্য লেখক, তবে চেষ্টা করব তোমাদের, মানে মশক জাতি নিয়ে কিছু একটা লেখার! 
Ñধন্যবাদ, লেখক। শুভরাত্রি। 
মশাটা ভাঙা পা নিয়ে উড়ে চলে গেল রাতের অন্ধকারে। আমি ওর উড়ে যাওয়া পথের দিকে চেয়ে আছি। হ


দাদুর গবেষণা
দাদু বললেন, তুই ভাবছিস, উদ্ভিদের খাদ্যের সঙ্গে ভাষার কী সম্পর্ক?
বিস্তারিত
বিজয় মানে
বিজয় মানে একটি কুঁড়ি একটি গোলাপ ফুল, বিজয় মানে ছন্দতোলা কুমার
বিস্তারিত
শীতের ঋতু
দূর্বা-ঘাসের শরীর জুড়ে জমবে শিশির ফোঁটা বিন্দু বিন্দু জলের কণায়
বিস্তারিত
শীতের আমেজ
শীতের আমেজ চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শীতটা আসে সূর্য হাসে লুকিয়ে মেঘের
বিস্তারিত
ব্যাঙবাজি
  ধুত্তরি ছাই ভাল্লাগে না কেমনে সময় কাটাই পাই না খুঁজে
বিস্তারিত
দিন বদল
দিন বদল মামুন অপু কোথায় আমার হারিয়েছে দুরন্ত শৈশব চাই না
বিস্তারিত