ঘোরতর অসুস্থ ব্যক্তির কালেমা পাঠের গুরুত্ব

 

কালেমা অর্থ হলো ঈমান বা বিশ্বাস। যিনি আসমান, জমিন, জিন ও ইনসানসহ সব মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন, তিনি সবার রব বা প্রতিপালক। তাঁর ওপর সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করার নামই হলো ঈমান। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমা হলো ঈমানের মূল ভিত্তি। আল্লাহ তায়ালাকে একমাত্র উপাস্য মেনে ইবাদত, বন্দেগি কিংবা দানসাদকা না করলে, ওইসব আমল ও দানসাদকা পরকালে কোনো কাজে আসবে না। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের প্রথমটি হলো ঈমান। ঈমানের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর মধ্যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো সর্বপ্রথম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘ঈমানের সত্তরটিও বেশি অথবা ৭৩টি শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম শাখা হচ্ছে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে পথে বা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দেওয়া এবং লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা।’ (মুসলিম : ১/৩৫)।
‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো ঈমানের চাবি। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলে ঈমান মজবুত হয়। যে ব্যক্তি কালেমা পাঠ করে মৃত্যুবরণ করবে, ওই ব্যক্তি জান্নাতি হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতের চাবি হলো এ সাক্ষ্য দেওয়া যেÑ আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩৬/২২১০২)। ওসমান (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ঘোষণা দেন এবং এরই ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম : ১/২৬)।
মোমিন বান্দার কাছে কালেমার জিকির সর্বোত্তম জিকির। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র জিকিরে মোমিন বান্দার অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। যে ব্যক্তি বেশি বেশি কালেমার জিকির করবে, ওই ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালা পরকালে জাহান্নামের আগুনকে হারাম করে দেবেন এবং আকাশের রহমতের দরজাগুলো খুলে দেবেন। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, তার জন্য আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন।’ (মুসলিম : ১/২৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেছেন, ‘কোনো বান্দা যদি ইখলাসের সঙ্গে কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে, তবে তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি : ৬৮)।
আমাদের ঘোরতর অসুস্থ কিংবা মুমূর্ষু ব্যক্তিকে কালেমা পড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। মৃত্যুর সময় কালেমা পড়া নসিব না হলে, বেঈমান হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আর বেঈমান ব্যক্তি নিশ্চিত জাহান্নামি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের কালেমার তালকিন করো।’ (মুসলিম : ১/৩০০)। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে জান্নাতে যাবে।’ (আবু দাউদ : ২/৪৪৪)।
দুনিয়ার সব পেরেশানি থেকে মুক্তি এবং পরকালের চিরস্থায়ী জান্নাতের সুখ-শান্তি লাভের জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের বেশি বেশি কালেমা পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। 


শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোটার ও ভোটপ্রার্থী
ভোটার যাকে তার ভোট দিচ্ছেন  তার অর্থ হচ্ছে, ভোটদাতা সংশ্লিষ্ট
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা ওহি হয়,
বিস্তারিত
বিজয় আল্লাহর নেয়ামত
সঠিকভাবে এবং স্বাধীনভাবে আল্লাহর গোলামি করতে হলে মানুষের জন্য দরকার
বিস্তারিত
সূরা ইখলাসের ফজিলত
সূরা ইখলাস। পবিত্র কোরআনের ছোট্ট একটি সূরা। একবার পাঠ করতে
বিস্তারিত
২০১৯ সালে হজে গমনেচ্ছুরা এখনই
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, যারা ২০১৯
বিস্তারিত
নির্মল ও পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী
রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলা হলো, সবচেয়ে উত্তম মানুষ কে? তিনি
বিস্তারিত