মোজেজার তাৎপর্য

 

মোজেজা চিরন্তন রীতিবহির্ভূত হতে হবে। অতএব কোনো ব্যক্তি যদি রাতের পর দিন, দিনের পর রাতের পরিবর্তন কিংবা পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার বিষয়টি নিজের নবুয়তির সপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করে, তাহলে এটা তার মোজেজা হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ এটা প্রকৃতির চিরন্তর রীতি বিরোধী নয়। তবে রশি সাপে পরিণত হওয়া, পাথরের পাহাড় থেকে উটনী বের হওয়া, চাঁদ দ্বিখ-িত হওয়াÑ এসব বিষয় মোজেজা হতে পারে। কারণ এগুলো প্রকৃতির নিয়মবহির্ভূত।
যিনি মোজেজা পেশ করবেন, তাকে আল্লাহ তায়ালার প্রতি আস্থা ও ভরসা রেখে মোজেজা পেশ করতে হবে। যেমন তিনি বলবেন, আমি যদি ভূমিকে প্রকম্পিত হতে বলি, তাহলে তা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় প্রকম্পিত হবে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় যদি ভূমি প্রকম্পিত হয়, তাহলে তা ওই ব্যক্তির মোজেজা হিসেবে গণ্য হবে।
মোজেজা পেশকারী যে বিষয়টি যেভাবে ঘটবে বলে দাবি করবে, সে বিষয়টি ঠিক সেভাবে ঘটতে হবে। যেমন যিনি মোজেজা পেশ করছেন, তিনি বললেন, আমার নবুয়তির প্রমাণ হচ্ছে এ পশুটির কথা বলা। অতঃপর ওই পশুটি বলে উঠল, এ ব্যক্তি নবুয়তির মিথ্যা দাবিদার, তাহলে ওই পশুর কথা বলা তার নবুয়তির সত্যতার প্রমাণ হবে না। যেমন মুসায়লামাতুল কাজ্জাব একটি কূপে থুতু ফেলে বলেছিল, এ কূপের পানি বেড়ে যাবে। কিন্তু দেখা গেছে, সে কূপের পানি আরও কমে গেছে। 
মোজেজার সংখ্যা : মোজেজা অসংখ্য। তবে মহানবী (সা.) এর কতিপয় সর্বশ্রেষ্ঠ মোজেজা হচ্ছেÑ ১. আল কোরআন, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ নির্বেশেষে সবার মতে এ পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। ২. মহানবী (সা.) এর হাদিস। কোরআন যেমন ব্যাপক, তেমনি মহানবী (সা.) এর হাদিসও ব্যাপক। জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যে দিক সম্পর্কে মহানবী (সা.) এর হাদিসে আলোচনা করা হয়নি। মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসাবাণিজ্য, কায়-কারবার থেকে শুরু করে মানবজীবনের এমন কোনো দিক নেই, যে ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সুষ্ঠু-সুন্দর দিকনির্দেশনা দেননি। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রতিটি হাদিসের ভাষা যেমন প্রাঞ্জল, তেমনি সুগভীর তত্ত্বজ্ঞানপূর্ণ। একজন উম্মি ব্যক্তি হয়ে তিনি জগদ্বাসীর সামনে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক দিকনির্দেশনামূলক এত অধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা বর্ণনা করে শেষ করা দুঃসাধ্য। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অসংখ্য অমূল্য বাণীর প্রতিটিই মোজেজা হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং এ বিষয়টিতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষণীয় আদর্শ রয়েছে। 
জাদু ও মোজেজার মাঝে পার্থক্য : জাদু কোনো না কোনো মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়; কিন্তু মোজেজা কোনো মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয় না; বরং তা আল্লাহ তায়ালা যখন যার মাধ্যমে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। 
জাদুবিদ্যা শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে হাসিল করতে হয়; কিন্তু মোজেজা শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে হাসিল করা যায় না। বরং আল্লাহ তায়ালা যে নবীর মাধ্যমে যখন যে মোজেজা প্রকাশ করার ইচ্ছা করেছেন, তখন সে নবীর মাধ্যমে সে মোজেজা প্রকাশ করেছেন, এমনকি এ বিষয়টি নবী-রাসুলদেরও এখতিয়ারাধীন (ইচ্ছাধীন) ছিল না। তাই তারা ইচ্ছা করলেও কোনো মোজেজা প্রকাশ করতে পারতেন না। তবে কখনও নবী-রাসুলদের উম্মতদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, কখনও আল্লাহ তায়ালা নিজ ইচ্ছায় নবী-রাসুলদের মাধ্যমে অসংখ্য মোজেজা প্রকাশ করেছেন। 
জাদুর মোকাবিলা করা যায়; কিন্তু কখনও কোনো পরাশক্তির মাধ্যমেও কোনো মোজেজার মোকাবিলা করা যায় না। তাই ফেরাউনের সত্তর হাজার জাদুকরের জাদুর সাপ মুসা (আ.) এর এক লাঠির মোকাবিলা করতে পারেনি। 
জাদু প্রদর্শন করা হয় যে-কোনো পার্থিব স্বার্থ হাসিল করার জন্য; কিন্তু মোজেজা কোনো পার্থিব স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রদর্শন করা হয় না। বরং তা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রদর্শন করা হয়।
জাদু স্থান-কাল, পাত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু মোজেজা কোনো স্থান-কাল, পাত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অসংখ্য মোজেজার মধ্যে একটি হচ্ছে কোরআন। আর কোরআনের এ মোজেজা কোনো স্থান-কাল, পাত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কোরআন হচ্ছে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মোজেজা।
মোজেজা এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যাদের স্বভাব-চরিত্রের মধ্যে দোষ-ত্রুটির লেশ মাত্রও থাকে না, বরং তারা পূতপবিত্র আত্মার অধিকারী, যাদের আল্লাহ-ভীতি ও ন্যায়পরায়ণতা ছিল সবার কাছে স্বীকৃত ও প্রশংসিত। পক্ষান্তরে জাদু তাদের দ্বারা প্রকাশ পায়, যারা সামাজের মধ্যে সবচেয়ে বখাটে ও নিকৃষ্ট হয়।

শিক্ষক : জামিয়া আরাবিয়া মুসলিমাবাদ, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী


বিবাহের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে
বিবাহ করতে প্রত্যেক পুরুষকেই মেয়ে পছন্দ করা আবশ্যক। যার কারণে
বিস্তারিত
সদকাতুল ফিতরের বিধান
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যেসব দান প্রদান করা বান্দার ওপর
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ২১
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম পাতায় ‘আজকের তারাবি’ শিরোনামে প্রতিদিন তারাবি
বিস্তারিত
‘বদর যুদ্ধের চেতনা মুসলিম জাতিসত্তার
ইসলামের সূচনালগ্নে আত্মনিবেদনের যে উজ্জ্বল অনুশীলন বদরের প্রান্তরে সাহাবায়ে কেরাম
বিস্তারিত
রমজানে জীবনযাপন : বিধিনিয়মের জীবনঘনিষ্ঠ
‘রমজানবিষয়ক গ্রন্থ রচনা করা অসম্ভব, বেশি হলে সংকলন করা যেতে
বিস্তারিত
মাসআলা
রোজা ও নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য বয়স মুখ্য নয়, বালেগ
বিস্তারিত