রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য

রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হওয়ায় খুশি কৃষি বিভাগও। চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৩৭৭ হেক্টর জমিতে রকমারি সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯৬ হেক্টর জমিতে শিম চাষাবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১শ হেক্টর বেশি।

অনুকূল আবহাওয়া ও সময় মতো বীজ রোপণ করতে পারায় এবার এই জেলায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে খুশি কৃষকরা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিম উৎপাদিত হওয়ায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর।রংপুর বিভাগ কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৫৯৬ হেক্টর জমিতে শিম আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলায় ২৫০, পীরগঞ্জে ৫৫, বদরগঞ্জে ৫৫, তারাগঞ্জে ১৫০ ও কাউনিয়ায় ৮৬ হেক্টর জমিতে শিমের চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২৫ মণ শিম উৎপাদিত হয়। পাইকারি বাজারে তা মণ প্রতি ১৬শ টাকা দরে বিক্রি হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার গঙ্গারামপুর, বাহাদুরপুর, কেশরগাড়ী, মিলনপুর, মিঠাপুকুর উপজেলার রুপসী সিকদার, মশারটারী, জায়গীর, পীরগাছার দেউতি, বদরগঞ্জ উপজেলার লাহিড়ির হাট এলাকায় মাঠের পর মাঠ শিম গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। শিম ক্ষেতে সময় মতো সেচ দেয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ব্যস্ত পরিচর্যায়। আবার কেউ কেউ ক্ষেত থেকে শিম তোলার কাজে ব্যস্ত।

মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুরের রুপসী এলাকার কৃষক ভবেশ নারায়ণ এবার ২৩ শতাংশ জমিতে মাচা পেতে শিম চাষ করেছেন। এ শিম চাষে তার ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার টাকা। উৎপাদিত শিম বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

একই উপজেলার মশারটারী গ্রামের কৃষক মোশারব হোসেন জানান, অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি শিম চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। বীজ বপনের এক মাস পর শিম ক্ষেতে মাচা তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি। সার ও কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করার পর গাছে ফুল এসেছে। কিছুকিছু অংশে শিম আসতেও শুরু করেছে। আসছে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে প্রতি কেজি শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তার লাভ হবে।

রংপুর সিটি পৌর বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুর রহমান জানান, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ শিম ১৮০০ টাকা দরে ক্রয় করছেন। পরে তা বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দর বিক্রি করছেন। এতে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শিম বিক্রি করে ভালোই লাভ হয়। তবে ইদানিং দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালসার উইং বুড়ির হাট রংপুরের উপ পরিচালক কে এম মাহদুদুল ইসলাম বলেন শিম চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। পাশাপাশি অন্যান্য সবজি সাথে  শিম বিক্রি করে ভালোই লাভ হয় । সার ও কীটনাশক ওষুধ তেমন ব্যবহার করতে হয় না।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ডক্টর সারওয়ারুল হক জানান, রংপুর জেলায় শীতকালীন সবজির মধ্যে এবার শিমের উৎপাদন বেশি হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ১শ হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সময় মতো বীজ বপন করে একটু পরিচর্যা করায় চলতি মৌসুমে শিমের উৎপাদন বেশি হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হবে।


তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারি অনুদানে নির্মিত
ছোটবেলায় সিনেমা হলে গিয়ে অনেক ছবি দেখতাম। চলচ্চিত্রের একটা অদৃশ্য
বিস্তারিত
ভোলায় প্রান্তিক মানুষের আস্থা গ্রাম
ভোলায় ৫ টি উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের
বিস্তারিত
পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত