ইসলামের দৃষ্টিতে উপহার বিনিময়

পারস্পরিক উপহার আদান-প্রদান আমাদের সামাজিক জীবনের একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিতেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা কিছুতেই বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ তোমরা ঈমান না আনবে, আর যতক্ষণ তোমরা একে অন্যকে ভালো না বাসবে ততক্ষণ তোমরা (পূর্ণ) ঈমানদারও হতে পারবে না। আমি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দিই, যা করলে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। তোমরা তোমাদের মধ্যে সালামের প্রচলন ঘটাও।’ [জামে তিরমিজি : ২৬৮৮]। আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন ইমাম বোখারি (রহ.) তার ‘আলআদাবুল মুফরাদ’ নামক গ্রন্থে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা একে অন্যকে উপহার দাও, এতে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।’ [হাদিস : ৫৯৪]।
উল্লিখিত দুটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারিÑ ১. বেহেশতে যেতে হলে ঈমান আবশ্যক। ঈমান ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। ২. ঈমান যদিও আল্লাহ তায়ালার ওপর এবং নবী-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল ও তকদিরের ওপর বিশ্বাসের নাম; কিন্তু পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে হলে এবং ঈমানের পূর্ণ সুফল পেতে চাইলে এ বিশ্বাসের পাশাপাশি ঈমানদারদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসাও জরুরি। ৩. পারস্পরিক এ ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য দুই হাদিসে দুটি পথ বলে দেয়া হয়েছেÑ এক. অধিক হারে সালামের প্রচলন ঘটানো, দুই. পারস্পরিক উপহার আদান-প্রদান। 
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘তোমরা একে অন্যকে হাদিয়া উপহার দাও। এ উপহার অন্তরের শত্রুতা ও বিদ্বেষ দূর করে দেয়।’ [জামে তিরমিজি : ২১৩০]।
উপহারের আদান-প্রদানে সামাজিক বন্ধন যে কতটা বৃদ্ধি পায় তা তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই। এটা আমাদের দেখা বাস্তবতা। পারস্পরিক এ নেওয়া-দেওয়াটা যখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয় তখন দূর-বহুদূরের কারও সঙ্গেও গড়ে ওঠে আত্মার সম্পর্ক। এ সম্পর্ক অনেক সময় ছাড়িয়ে যায় রক্ত ও আত্মীয়তার বাঁধনকেও। এসবই মানুষের স্বাভাবিকতা। 
এ তো উপহারের ক্ষেত্রে মৌলিক কথা। কিন্তু আমরা সামাজিকভাবে এ বিষয়কে যেভাবে নিজেদের ওপর চাপিয়ে নিয়েছি, এখন তা নিয়ে অবশ্যই ভাবনার অবকাশ আছে। স্বাভাবিক সময়ে কেউ যদি কারও অতিথি হয় তাহলে সাধারণত গৃহকর্তাদের জন্য কিছু একটা নিয়েই যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যার যা ইচ্ছা তা-ই নেয়। দামি-কমদামি  নানা কিসিমের জিনিসই মানুষ নিয়ে যায় অতিথি হিসেবে। এটাও হাদিয়া, আবার অতিথির আপ্যায়নও তো এক ধরনের হাদিয়া। কিন্তু সংকট হলো বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে। বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান, আকিকার অনুষ্ঠানÑ এ জাতীয় আরও যত অনুষ্ঠান, সেখানে যদি কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তবে সে আমন্ত্রণ কেউ কেউ যেমন খুশিমনে গ্রহণ করে এবং তা সাগ্রহে রক্ষাও করে, আবার এ আমন্ত্রণ অনেকের জন্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যাদের অভাবের বা টানাটানির সংসার কিংবা যাদের চলতে হয় অত্যন্ত মিতব্যয়িতার সঙ্গে এবং একটি নির্দিষ্ট আয় দিয়ে, তারা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আর প্রতিবেশীর এরকম আনন্দ অনুষ্ঠানের সংবাদে ও আমন্ত্রণে যেমন আনন্দিত হয়, পরক্ষণেই আবার দুশ্চিন্তায়ও ছেয়ে যায় তাদের চেহারা। কারণ সেখানে একটা মানসম্মত হাদিয়া দিতেই হবে। সামর্থ্য যতটুকু আছে তাতে মান রক্ষা হয় না। আর মান রক্ষা করতে গেলে নিজের ক্ষমতায় কুলায় না। আপনজন কারও বিয়েতে বা অন্য কোনো আয়োজনে শরিক না হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, আবার সামাজিকতা রক্ষা করে সেখানে শরিক হওয়ার মতো সচ্ছলতাও নেই। এ এক উভয়সংকট। আর বিয়ের দাওয়াতের অর্থই হলোÑ আপনাকে উপস্থিত হতেই হবে এবং মানসম্মত উপহারও নিয়ে যেতে হবে। এ উপহার গ্রহণ করার জন্য করা হয় নজরকাড়া আয়োজন। তা আবার ‘দলিলস্বরূপ’ লিখেও রাখা হয়। এর পর চলে হিসাবÑ কে কত দিল এবং কত খরচ হলো আর কত টাকা উঠে এলো? ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়, তবে আমাদের সমাজের স্বাভাবিক বাস্তবতাটা এমনই। 
আমরা যদি উপহার আদান-প্রদানের পরিপূর্ণ সুফল লাভ করতে চাই, তাহলে সামাজিক এ বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। এ এক অন্যায় বাধ্যবাধকতা আমরা আমাদের ওপর চাপিয়ে নিয়েছি। এ থেকে যদি সরে আসতে পারি, উপহার প্রদান যদি হয় আন্তরিকতাপূর্ণ, তাহলে এতে আমাদের সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবেই। আমাদের ঈমানের পূর্ণতার জন্যও তা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ।


যুদ্ধাহত শিশুদের কথা
৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ‘নিউ এরাব’ আরব বিশ্বের
বিস্তারিত
সুদানে গ্রামীণ ছাত্রদের শহুরে জীবন
যেসব সুদানি ছাত্র পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে তারা
বিস্তারিত
গ্রামের সবাই হিন্দু নেতা বানাল
ঘটনাটি ঘটেছে কাশ্মীরে। যেখানে সুদীর্ঘকাল ধরে চলছে স্বাধীনতা সংগ্রাম। বুরহানুদ্দিন
বিস্তারিত
আবদুল ফাত্তাহ সিসি এবং মিশর
৬ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আরবি-ইংরেজি সংবাদমাধ্যম নিউ-অ্যারাবে প্রকাশিত
বিস্তারিত
ইসলামে জবাবদিহিতা
জবাবদিহিতা ইসলামের একটি অন্যতম মৌলিক বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তিনিই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ
বিস্তারিত