বেনামে সুদ : একটি শরয়ি বিশ্লেষণ

অনেক ওলামায়ে কেরাম জমি বন্ধকের এ মুয়ামালাটিকে জায়েজ করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে বলে মত পেশ করেছেন যে, জমির মালিক ঋণদাতাকে বলবেÑ আমার অমুক জমি আপনার কাছে বিক্রি করতে চাই। পরে যখন আমি জমির মূল্য ফেরত দেব তখন আপনি আমার কাছে ওই জমি বিক্রি করে দেবেন। ঋণদাতা সম্মত হলে পরবর্তী কোনো এক বৈঠকে ঋণদাতার 
সঙ্গে শুধু বিক্রয়চুক্তি 
সম্পাদন করবে

সুদ শব্দটি উর্দু ভাষার শব্দ। এর আরবি হচ্ছে ‘রিবা’। ‘রিবা’ পরিভাষাটি আরবি শব্দমূল ‘রাবউন’ থেকে উদ্ভূত। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে, বেশি হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, অতিরিক্ত হওয়া, সম্প্রসারিত হওয়া, মূল থেকে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু আরবির রিবাকে উর্দু ভাষার ‘সুদ’ শব্দ দিয়ে অনুবাদ করলেও এর পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। বরং উর্দু ‘সুদ’ আরবি ‘রিবা’র ব্যাপক অর্থের একটি অংশমাত্র। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের শর্তে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বা অর্থের বিপরীতে পূর্বনির্ধারিত হারে যে অধিক পরিমাণ পণ্য বা অর্থ আদায় করা হয়, তাই ‘রিবা’ বা সুদ। 

রিবা প্রধানত দুই ধরনের ১. রিবান নাসিআহ; একে রিবাল করজ ও রিবাল কোরআনও বলা হয়। ২. রিবাল ফদল; একে রিবাল বাই ও রিবাল হাদিসও বলা হয়। 

রিবান নাসিআহ : আরবি ‘নাসিআহ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে মেয়াদ, সময় নেওয়া, বিলম্ব বা প্রতীক্ষা করা। ইমাম আবু বকর আল জাসসাস তার বিখ্যাত তাফসির ‘আহকামুল কোরআনে’ রিবার সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, ‘রিবান নাসিআহ হচ্ছে ঋণের ওপর সময়ের অনুপাতে ধার্যকৃত অতিরিক্ত অংশ।’ জাহেলিয়াতের সময় সুদ ছিল, ‘কোনো নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রদত্ত ঋণের আসলের ওপর ঋণগ্রহীতা কর্তৃক দেওয়া নির্ধারিত অতিরিক্ত।’ অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে কাউকে মেয়াদি ঋণ দেওয়া। যেমন কেউ যদি কাউকে ১০০ টাকা ঋণ দেয় এ শর্তে যে, তাকে মেয়াদান্তে ১১০ টাকা দিতে হবে। এখানে অতিরিক্ত ১০ টাকাকে রিবান নাসিআহ বলা হবে। (আহকামুল কোরআন : ১/৫৫৭)। প্রখ্যাত মুফাসসির জারির ইবনে আত-তাবারি মুজাহিদের সূত্রে জাহেলি যুগে প্রচলিত রিবা সম্পর্কে নিম্নে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, ‘জাহেলি যুগে কোনো ব্যক্তি ঋণদাতার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করত। অতঃপর সে ঋণদাতাকে বলত, আমি এত এত পরিমাণ বেশি দেব, আমাকে সময় বাড়িয়ে দাও।’ ইমাম ফখরউদ্দিন আর রাজি জাহেলি যুগের রিবা সম্পর্কে বলেছেন, ‘জাহেলিয়াতের যুগে রিবান নাসিআহ ছিল সুপরিচিত ও স্বীকৃত। সে সময় তারা অর্থঋণ দিত এবং মাসিক ভিত্তিতে একটা অতিরিক্ত পরিমাণ আদায় করত; কিন্তু মূলধন ঠিক থাকত। অতঃপর মেয়াদ শেষে ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার কাছে আসল অঙ্ক ফেরত চাইত। ঋণগ্রহীতা আসল অঙ্ক ফেরত দিতে না পারলে ঋণদাতা আসলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দিত এবং মেয়াদ বাড়িয়ে দিত।’ এছাড়া হাদিসে রিবা বা সুদের সংজ্ঞায় আরও বলা হয়েছে, ‘যে ঋণ মুনাফা টেনে আনে তা-ই রিবা বা সুদ।’

রিবাল ফদল : আরবি ‘ফদল’ শব্দের অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত। একই জাতীয় জিনিস লেনদেনে কমবেশি করে আদায় করার নাম রিবাল ফদল। অর্থাৎ একই জাতীয় দ্রব্য বা মুদ্রার লেনদেনকালে এক পক্ষ আরেক পক্ষের কাছ থেকে চুক্তি মোতাবেক শরিয়াসম্মত বিনিময় ব্যতীত যে অতিরিক্ত মাল গ্রহণ করে তাকে রিবাল ফদল বলে। যেমন এক কেজি উন্নতমানের খেজুরের সঙ্গে দেড় কেজি নিম্নমানের খেজুর বিনিময় করা। রিবাল ফদলকে মালের সুদও বলা হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘সোনার বিনিময়ে সোনা, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ আদান-প্রদান করলে তা সমান সমান ও হাতে হাতে হতে হবে। অর্থাৎ নগদ হতে হবে। কমবেশি করলে বা বাকিতে করলে তা সুদি কারবার বলে গণ্য হবে। এতে দাতা-গ্রহীতা সমান অপরাধী বিবেচিত হবে।’ (বোখারি, মুসলিম)।  ইসলামি ফিকহের মৌলিক নীতি হলো, ‘ঋণ যে প্রফিট নিয়ে আসে তা সুদ’। সেই নীতি অনুসারে কয়েকটি সমিতি, সোসাইটি, এনজিও ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বিনিয়োগ পলিসি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ইসলামের নামে গড়ে ওঠা অধিকাংশ সমিতিই ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে তারা এসব সুদকে ইসলামি পোশাক পরিধান করিয়ে জায়েজ বানানোর জন্য কিছু অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে। 

ফরম সমাচার : অনেক সমিতি রয়েছে তারা সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি মানুষকে ঋণ প্রদান করে। তবে ঋণ প্রদানের পদ্ধতি হলো, ঋণের পরিমাণ হিসেবে বিভিন্ন ফরম তৈরি করে রাখে। ঋণের পরিমাণ বেশি হলে বেশি দামি ফরম কিনতে হয়। আর ঋণের পরিমাণ কম হলে কম দামি ফরম কিনতে হয়। এভাবে ঋণ প্রদান করে ফরম বিক্রির নামে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে থাকে তারা। এটি হচ্ছে সুদ খাওয়ার একটি অপকৌশল। মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই এ কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়। লোকে যাতে বলতে না পারে যে, লোকটা সুদ খায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ২১০০৭; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া : ২৯৬; বাদায়েউস সানায়ে : ৬/৫১৮; ইলাউস সুনান : ১৪/৫১৪; শরহুল মাজাল্লাহ : ১/২৬৪-২৬৫)।

কিস্তি সমাচার : অনেকে আবার এভাবে ঋণ প্রদান করে যে, সরাসরি ঋণ না দিয়ে তাকে আলোচনা সাপেক্ষে পণ্য খরিদ করে তার কাছে কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে বিক্রি করে দেয়। যেমন, ঋণ গ্রহীতার নগদ টাকা দরকার। কিন্তু ঋণ দাতা যদি তাকে করজে হাসানা প্রদান করে তাহলে অতিরিক্ত নিতে পারবে না। তাই সে কৌশলের আশ্রয় নেয়। আলোচনা সাপেক্ষে বাজারে গিয়ে কোনো পণ্য (ধান, চাল, আটা ইত্যাদি পণ্য বস্তা হিসেবে) খরিদ করে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে হস্তান্তর করে। উদাহরণস্বরূপ, ঋণ গ্রহীতাকে বর্তমান বাজারদরে ১ লাখ টাকার চাল ক্রয় করে দেয়। অতঃপর তা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ঋণগ্রহীতাকে প্রদান করে থাকে। ঋণ গ্রহীতা স্বস্থানে রেখেই পণ্যগুলো বাজারদর (১ লাখ) থেকে সামান্য কমবেশি (বস্তা প্রতি ১/২ টাকা) করে দোকানির কাছে বিক্রি করে দেন। উল্লেখ্য, এ পদ্ধতিতে একই পণ্য তিনবার বিক্রি করা হচ্ছে এবং সর্বাবস্থায় পণ্য স্বস্থানে থাকছে। তবে পণ্য চিহ্নিত করা হয় এই পদ্ধতির লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সবার কাছে একথা স্পষ্ট যে, এখানে তাদের কারোই পণ্য আদান-প্রদান ও ক্রয়-বিক্রয় উদ্দেশ্য নয়। বরং এক পক্ষ টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণের জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের ছুতা অবলম্বন করেছে। আর অন্য পক্ষ নগদ টাকার জন্য বাধ্য হয়ে তা গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে দুই-তিন হাতবদল হলেও পণ্য যার কাছে ছিল তার কাছেই থেকে যাচ্ছে, যা শরিয়ত নিষিদ্ধ বাইয়াতের ঈনার অন্তর্ভুক্ত।  হাদিসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য হালাল উপার্জনের অনেক পথ খোলা রেখেছেন। সুতরাং মুসলমানের কর্তব্য হলো, হিলা-বাহানা করে শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ পথে না চলে উপার্জনের হালাল পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করা। (সুনানে আবু দাউদ : ৩৪৬২; ইলাউস সুনান : ১৪/১৭৮; আননিহায়া ফি গারিবিল : ৩/৩৩৪)।

জমি বন্ধক সমাচার : বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায়ই জমি বন্ধকের নিয়মটি চালু আছে। জমির মালিক জমিপ্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে। বিনিময়ে টাকার মালিক বন্ধক জমিটি ভোগ করে এবং মেয়াদান্তে পুরো টাকা ফেরত পায় এবং জমির মালিক তার জমি হস্তগত করে নেয়। এখানে জমির মালিক জমি বুঝে পায় আর টাকার মালিক টাকা বুঝে পায়; কিন্তু মাঝখানে টাকার মালিক ঋণ দেওয়ার কারণে যে জমিটি ভোগ করল সেটি নিঃসন্দেহে রিবান নাসিআহর অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। এ ধরনের বন্ধক বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে প্রচলিত থাকলেও সবগুলোর হুকুম একই। ঋণদাতার জন্য বন্ধকি জমি ভোগ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। জমি বন্ধকের ওই পদ্ধতি শরিয়তসম্মত নয়। কারণ, বন্ধকী বস্তু ব্যবহার করা এবং তার থেকে ফায়দা ভোগ করা উভয়টিই শরিয়তে নিষিদ্ধ। 

অনেক ওলামায়ে কেরাম জমি বন্ধকের এ মুয়ামালাটিকে জায়েজ করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে বলে মত পেশ করেছেন যে, জমির মালিক ঋণদাতাকে বলবেÑ আমার অমুক জমি আপনার কাছে বিক্রি করতে চাই। পরে যখন আমি জমির মূল্য ফেরত দেব তখন আপনি আমার কাছে ওই জমি বিক্রি করে দেবেন। ঋণদাতা সম্মত হলে পরবর্তী কোনো এক বৈঠকে ঋণদাতার সঙ্গে শুধু বিক্রয়চুক্তি সম্পাদন করবে। তখন পূর্বোক্ত ওয়াদার পুনরাবৃত্তি করবে না। বিক্রেতা যখন ক্রেতাকে জমির মূল্য ফেরত দেবে তখন ক্রেতার জন্য আবশ্যক হবে আগের মূল্যে বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া। এ জমি যতদিন ক্রেতার মালিকানাধীন থাকবে ততদিন সে এর ফায়দা ভোগ করতে পারবে। কিন্তু অন্য কারও কাছে বিক্রয় করতে পারবে না। এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ নাজায়েজ। কারণ-

১. প্রথমত এখানে উভয় পক্ষের কারোই ক্রয়-বিক্রয় মাকসাদ নয়। ফলে বেশি দামের জমি কম দামে সাময়িকভাবে মৌখিক বিক্রি করা হয়। বাস্তবে ক্রয়-বিক্রয় হলে এই দামে বিক্রি করতে আদৌ সম্মত হতো না। আবার অনেক সময় কম দামি জিনিস অনেক বেশি মূল্যে মৌখিক ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। যদি বাস্তবে ক্রয়-বিক্রয় হতো তাহলে সে কখনও এই দামে ক্রয় করত না। সুতরাং এতে বিক্রয় চুক্তির সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা হয়েছে মাত্র। মূলত তা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি নয়। 

২. এটি মূলত ঋণ দিয়ে উপকৃত হওয়ার মতোই। কিন্তু এখানে ঋণ শব্দ উল্লেখ করা হয়নি। ক্রয়-বিক্রয় শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সুদ খাওয়া হারাম এ প্রশ্ন থেকে বাঁচা যায়। 

অনেকে এটিকে বাই বিলওফা অর্থাৎ বিক্রীত মাল বিক্রেতার কাছে পুনঃবিক্রির অঙ্গীকারে যে কারবার সংঘটিত হয়Ñ তার সঙ্গে তুলনা করে জায়েজ বলতে চান। যাতে করে বাই বিলওফাকে যেসব জায়গায় বৈধ বলা যায় সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করে এটিকেও জায়েজ বলা যায়। অথচ বাই বিলওফা বৈধ হওয়ার অনিবার্য দুটি শর্ত রয়েছে, যা এখানে অবিদ্যমান। শর্ত দুটি হচ্ছেÑ 

ক. যথাযথ মূল্যে বিক্রি হতে হবে এবং উভয় পক্ষেরই এতে ক্রয়-বিক্রয় ও মালিকানা হস্তান্তর উদ্দেশ্য থাকতে হবে। 

খ. বিক্রেতার কাছে পুনঃবিক্রির কথা প্রথম বিক্রির সময় না হতে হবে। প্রথম চুক্তির সময় এ শর্ত উল্লেখ করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা ক্রয়-বিক্রয় থেকে বেরিয়ে ঋণে পরিণত হয়ে যাবে। তখন অর্থদাতার জন্য এ জমি থেকে উপকৃত হওয়া সুদ হবে। (রদ্দুল মুহতার : ৫/২৭৬, খানিয়া : ২/১৬৫, শরহুল মাজাল্লা : ২/৬১, জামিউল ফুসুলাইন : ১/২৩৬, মাজাল্লাতু মাজমায়িল ফিকহিল ইসলামি : ৭/৩/৯-৫৫৭ (সিদ্ধান্ত নং ৫৫৭), জামিউল ফুসুলাইন : ১/১৭১; আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৪৮৩; ইমদাদুল ফতোয়া : ৩/১০৮-৯)।

প্রকাশ থাকে যে, ওই কারবার বৈধভাবে করতে চাইলে শুরু থেকেই বন্ধকি চুক্তি না করে ভাড়া বা লিজ চুক্তি করবে। যার বিবরণ হলো, জমির মালিক জমি ভাড়া দেবে। তার যত টাকা প্রয়োজন সে জন্য যত বছর ভাড়া দিতে হয় একত্রে তত বছরের জন্য ভাড়া দেবে এবং অগ্রিম টাকা নিয়ে নেবে। যেমন এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া ৫ হাজার টাকা। মালিকের ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। তাহলে সে ৪ বছরের জন্য জমি ভাড়া দেবে। এক্ষেত্রে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেবে। এ ক্ষেত্রে জমির ভাড়া স্থানীয় ভাড়া থেকে সামান্য কমবেশিও হতে পারে। এর পর ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলে অর্থদাতা জমি ফেরত দেবে, কিন্তু প্রদেয় টাকা ফেরত পাবে না। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক : ৮/২৪৪-২৪৫, শরহু মুখতাসারিত তহাবি : ৩/১৪৯, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪৮২, বাদায়েউস সানায়ে : ৫/২১২, শরহুল মাজাল্লাহ, খালেদ আতাসি : ৩/১৯৬-১৯৭, ইলাউস সুনান : ১৮/৬৪, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ২১০৭৮ ১৩/৬৪৮, আন্নুতাফ ফিল ফাতাওয়া : ২৯৬, বাদায়েউস সানায়ে : ৬/৫১৮)।

আরেকটি কৌশল : ঋণ দিয়ে উপকৃত হওয়ার অরেকটি কৌশল আমাদের সমাজে পরিক্ষিত হয়। যেমন, রাশেদ কাঁচামালের ব্যবসা করে। সে যে আড়ত থেকে মাল কেনে সেখানে বাকি-নগদ উভয় ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে বাকি কিনলে দাম বেশি পড়ে। রাশেদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় সে সবসময় বাকিতে বেশি মূল্যেই মাল খরিদ করে থাকে। তার বন্ধু তার সঙ্গে এভাবে চুক্তি করল যে, সে তাকে কিছু টাকা দেবে যাতে সেই টাকা দিয়ে নগদে মাল কিনতে পারে। শর্ত হলো, যত টাকা সে নগদে কিনার কারণে লাভ করল তত টাকা তার বন্ধুকে দিয়ে দেবে। তবে সামান্য কমবেশি দিলেও অসুবিধা নেই। বর্ণিত চুক্তিটিও শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বৈধ কোনো চুক্তির আওতায় পড়ে না; বরং তা সুদের আওতায় পড়ে বিধায় এ টাকা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। কারণ, এখানে ঋণ দিয়ে উপকার লাভ করা হচ্ছে। আর ঋণ দিয়ে উপকার লাভ করা শরিয়ত সুদ বলে সাব্যস্ত করেছে বিধায় তা জায়েজ নয়। (ই’লাউস সুনান : ১৪/৫০১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ১/৫৭৫)।

 

সম্পাদক : মাসিক আরবি ম্যাগাজিন আলহেরা


চাকচিক্য নয়, চাই বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ
কোরআন মজিদের নির্দেশ হলো, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ২০
আজ ২০তম তারাবিতে সূরা ইয়াসিনের ২২-৮৩ আয়াত, সূরা সাফফাত, সূরা
বিস্তারিত
ফুলতলীতে ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ দিবস পালিত
সিলেটের ফুলতলীতে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট প্রধান কেন্দ্রের উদ্যোগে
বিস্তারিত
ইতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির সুযোগ
ইতেকাফ একটি মহান ইবাদত। এটি ঈমান বৃদ্ধির প্রধান সুযোগ। ইতেকাফ
বিস্তারিত
মাসআলা
সাধারণ অসুস্থাতায় যদি সুস্থ হয়ে রোজা কাজা আদায় করার সম্ভাবনা
বিস্তারিত
মাহে রমজান উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা
  (সৌজন্যে : মাকতাবাতুল হাসান) আজকের প্রশ্ন পরকালের একদিন সমান এখানকার
বিস্তারিত