মনোনয়নপত্র বিক্রিতে রেকর্ড

এতজন এমপি হতে চান!

৩০০ আসনে ১২ হাজার প্রত্যাশী একই পরিবারে একাধিক প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন বিক্রিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দল মাত্র তিনশ’ আসনের বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। প্রতিটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ জন; যা দেশের ইতিহাসে রের্কড গড়েছে। নির্বাচনে শুধু মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাই চমক লাগায়নি। চমক লাগিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। রাজনীতির নিয়মিত কর্মীদের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন ক্রীড়াবিদ, ব্যবসায়ী, সাবেক আমলা, সাবেক সেনাকর্মকর্তা, রুপালি জগতের তারকা ও আলোচিত ইউটিউবারও।

বিশেষ করে ইউটিউবের মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম চমক সৃষ্টি করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কিনে। একই পরিবার থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন এমন আসনের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সবাই চাইছেন কোনো না কোনোভাবে এমপি হতে। ৪৭ বছরের ইতিহাসে মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মাত্র তিনশ’ আসনের বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি; যা দেশের ইতিহাসে অবশ্যই রেকর্ড। তবে অন্যান্য দেশের পরিসংখ্যান না থাকায় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটিই বিশ্ব রেকর্ড কিনা তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। 

অঙ্কের হিসাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রতি আসনে প্রায় ৪০ জন। স্বাধীনতার পর গত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এত মনোনয়ন প্রত্যাশী অতীতে কখনও দেখা যায়নি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মোট মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ৪ হাজার ২৩। অর্থাৎ প্রতি আসনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ১৩। বিএনপিতে তিনশ’ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ৫৮০। এ দলটির প্রতি আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও মনোনয়ন বিক্রিতে রেকর্ড করেছে। দলটি তিনশ’ আসনের বিপরীতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে ২ হাজার ৮৬৫টি। এ দলটিরও প্রতি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ১০ জন। বড় এ তিন দলের বাইরেও অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও অবাক করার মতো। হাতেগোনা ১০ থেকে ১৫ আসনেও বিজয়ী হওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী না থাকলেও এসব দল মনোনয়ন বিক্রি করেছে শত শত। 

জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আসা ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোতে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে আসা যুক্তফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্য দলগুলোও দলীয়ভাবে এক থেকে দেড়শ’ মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাছে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্রসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো এবং জাতীয় পার্টি জেপিসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে প্রায় শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে বলে তাদের দাবি।

সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাবগুলো মিলিয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এ তিন রাজনৈতিক দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ১১ হাজার ৪৬৭। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ থেকে এগিয়ে রয়েছে আগে নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগ ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিপরীতে বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে ৪ হাজার ৫৮০টি।

এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ১৪ দল, জাতীয় পার্টি জেপি, ইসলামী দলগুলো এবং নিবন্ধন হারানো জামায়াতসহ নির্বাচনে আসা সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও কম-বেশি ৫শ’ মতো। সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাব যোগ করলে তা প্রায় ১২ হাজারের ছুঁই ছুঁই। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। 

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আসলে সবাই এখন এমপি হতে চান। এটা রাজনীতির অপব্যবহার। কারণ কিছু লোক ছাড়া সবাই জনগণের জন্য নয়, নিজের ব্যক্তিগত ক্ষমতার জন্য এমপি হওয়ার চেষ্টা করছে। এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ভালো নয়।  এছাড়া মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কয়েকটি আসন। বরিশাল বিভাগের বরগুনা-১ আসন থেকে নৌকা মার্কার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫২ জন।

মনোনয়ন কেনার ক্ষেত্রে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এ মুহূর্তে শীর্ষে রয়েছেন। এর পরপরই অবস্থান ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (রূপগঞ্জ)। ৪০ প্রার্থী এ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন চাইছেন এবার। নৌকা মার্কার ৩০টি মনোনয়ন ফরম কিনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুরের কুড়িগ্রাম-৪। এরপর ২৬টি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার-১ ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা-১ প্রার্থীরা। প্রতি আসনে গড়ে ১৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে নৌকা মার্কায়।

শুধু তাই নয়, মনোনয়ন কেনায় একই পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন কিনে যেমন আলোচিত হচ্ছেন, তেমনি একই পরিবার থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনার জন্ম দিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার এমন প্রার্থীও রয়েছেন যিনি একইসঙ্গে দুই দল থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। রাজনীতির মাঠে সরব আলোচনা না হলেও গণমাধ্যমে নানাভাবে আলোচনার খোরাক হচ্ছেন তারা।

এক সময়ের বিএনপির ডাকসাইটের নেতা ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এবার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আওয়ামী লীগ থেকে। আর তার মেয়ে অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদা মনোনয়ন কিনেছেন বিএনপি থেকে। নাজমুল হুদা নৌকা মার্কা নিয়ে এবার ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাইছেন। অপরদিকে নাজমুল হুদার সাবেক আসন ঢাকা-১ থেকে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চান তার মেয়ে অন্তরা হুদা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বরাবরের মতোই নিজ দল থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। লড়তে চান তার আসন ঢাকা-১ থেকে। কিন্তু তার ছেলে শামীম ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে লড়তে চান ঢাকা-১১ আসনে।

আবার একই পরিবার থেকে দুই দলের প্রার্থী যেমন রয়েছে, তেমনি একই পরিবার থেকে একই মার্কার একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান ঢাকা-১ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। একইসঙ্গে তার মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন একই আসনে প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় থেকে।

কুমিল্ল-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বাবা-ছেলে। আওয়ামী লীগ থেকে কিনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া ও তার ছেলে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন। বিএনপি থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তার ছেলে ও কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনেও একই অবস্থা।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও তার ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ড. আহসানুল আলম কিশোর। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এবং তার ভাই কেএম মুজিবুল হক ও জুন্নন বশরী। একই আসন থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং তার সহধর্মিণী অধ্যাপিক সাদিয়া রফিক।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী এবং ছেলে। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, তার স্ত্রী কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বেগম মাজেদা আহসান মুন্সি ও তাদের ছেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিজবিউল আহসান মুন্সি দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

প্রতিটি আসনে প্রার্থিতার ছড়াছড়ির বিষয়টিও ভালো চোখে দেখছেন না আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, নৌকা যার, সবাই তার। কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে রক্ষা নেই। তাৎক্ষণিক আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে, আর কোনোদিন দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। আর মনোনয়ন ফরমের অঙ্গীকারনামাতেও এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এ কঠোর অঙ্গীকারনামা মেনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্বাক্ষর করে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এদিকে সাবেক আমলাদের মধ্যে মনোনয়ন কিনে আলোচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সিলেট-১, (সিলেট সদর-কোম্পানীগঞ্জ) আসন থেকে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই একেএ মোমেন। আমলাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ক্রীড়া ও শোবিজ তারকারাও। এখন পর্যন্ত ১২ তারকা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, অভিনেত্রী তারানা হালিম, রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার, শিল্পী মমতাজ, চিত্রনায়ক শাকিল খান, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, ডিপজল, ফারুক, অভিনয় শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও দুর্জয়।

প্রসঙ্গত, পুনঃতফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।


‘বিজয়ের মাসে বিজয় উপভোগ করবে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী
বিস্তারিত
আন্দালিব পার্থর ফেসবুক আইডি হ্যাকড
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থর ফেসবুক আইডি
বিস্তারিত
বিচারপতির প্রতি খালেদার আইনজীবীর অনাস্থা
নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার তিনটি রিট আবেদনের শুনানি
বিস্তারিত
‘পরিবর্তন আনতে হলে ভোট দিতে
পরিবর্তন আনতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে বলে মনে
বিস্তারিত
‘টিকে থাকার জন্য শেষ মরণকামড়
টিকে থাকার জন্য সরকার শেষ মরণকামড় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন
বিস্তারিত
আওয়ামী লীগকে ৬৬ শতাংশ মানুষের
আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন ৬৬ শতাংশ মানুষের এবং বিএনপির প্রতি
বিস্তারিত