ইরাকিদের তাড়িয়ে ফিরছে দারিদ্র্য

 

ইরাকের জনগণের একটি বড় অংশ সুস্পষ্ট জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির অভাবে দারিদ্র্যের কশাঘাতে আক্রান্ত, যে নীতির মাধ্যমে দারিদ্র্যের প্রভাব ও লক্ষণ হ্রাস পেতে পারে। ফলে এ দারিদ্র্য সমাজের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তেলের দেশে ও রাফিদিনদের দেশে এ দারিদ্র্য অনেক পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, যাদের কাছে সুন্দর জীবনযাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।
২০০৩ সাল ও পরবর্তী সময়ে আমেরিকা কর্তৃক ইরাক আক্রমণের পর হাজার হাজার দরিদ্র ইরাকি বিভিন্ন সাবেক সেনা ক্যাম্প ও সরকারি ভবনগুলোতে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজে পেয়েছিল। তারা এসব স্থাপনায় বাসিন্দা হয়েছে। যদিও এতে ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ওপর হস্তক্ষেপ। এমনি একজন বাসিন্দা হলেন ফিরাস আবদুজ্জাহরা। তিনি এখনও পূর্ব বাগদাদের রশিদ ক্যাম্পে টিনের ছাদের একটি কক্ষে তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। ‘আল-আরাবি আল-জাদিদ’ এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখানে জীবনযাপন অসহনীয়, তবুও তা ভাড়া থাকার বিড়ম্বনার চেয়ে সহজ। এ কক্ষটি হোটেলে শুধু রাত যাপনের কক্ষের মতোই। আমি সারা দিন ও রাতের একটা অংশ কর্মক্ষেত্রে কাটাই। আমার পরিবারের সব সদস্যের অবস্থাও এরকমই।’
আবদুজ্জাহরা ব্যাখ্যা করে বলেন, কুড়িয়ে বিক্রি করা যায় এমন কিছুর খোঁজে আমি ও আমার স্ত্রী রশিদ ক্যাম্পের কাছে অবস্থিত বিভিন্ন ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনার মাঝে দিন কাটাই। আমার তিন সন্তান ক্যাম্পের পাশের সাধারণ সড়কে পানি বিক্রি করে। রাতে আমরা আমাদের কামরায় ফিরে যাই। ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসগুলো সপ্তাহান্তে বিক্রি করার জন্য রাতে সেগুলো পরিষ্কার করে রাখি। তবে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এর বিনিময়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় তাদের ১৫ হাজার ইরাকি দিনারের বেশি আয় হয় না, যা প্রায় ১৩ মার্কিন ডলারের সমান।
আবদুজ্জাহরা রশিদ ক্যাম্পে বসবাসরত দরিদ্রদের প্রতি সরকারের অবহেলার সমালোচনা করে বলেন, ‘এ কারণে অনেক যুবকের অবক্ষয় হয়েছে, তারা চুরির দিকে ধাবিত হয়েছে। যে কারণে ক্যাম্পটি অনেকবার ইরাকি পুলিশ ছত্রভঙ্গ করেছে, যেখানে ‘হাওয়াসিম’ নামে পরিচিত অনেক পরিবার থাকে। ‘হাওয়াসিম’ শব্দটি সেসব ইরাকিদের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাবেক সেনা ক্যাম্পগুলোতে ঢুকে সেখানকার ভবনগুলো হাতিয়ে নিয়েছে। সেগুলোকে তাদের স্থায়ী বসবাসের জায়গায় পরিণত করেছে। বলা হয়, প্রয়াত ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের অধীনে রশিদ ক্যাম্পটি বৃহত্তম সেনা ক্যাম্প ছিল। 
দারিদ্র্য শুধু এসব স্থানেই বাসা বাঁধেনি, বরং বাগদাদের প্রতি প্রান্তে ও ইরাকের প্রতি অঞ্চলে তার প্রভাব ও প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে কিছু ইরাকি শিশু নতুন শিক্ষাবর্ষে আনন্দে তাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে, অন্যদিকে অন্য কিছু শিশু পড়াশোনার আসন ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তাদের একমুঠো খাদ্যের খোঁজে ফুটপাত ও উঠানের দিকে বের হতে হচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তাকালে বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে ওঠে। দক্ষিণ বাগদাদে শত শত ছোট ছেলে দৌড়াদৌড়ি করে ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকা গাড়ির গ্লাসগুলো মুছতে ছুটে যায় ৫০০ দিনার পাওয়ার আশায়, যা এক মার্কিন ডলারের অর্ধেকেরও কম।
তাদের মধ্যে আরেকজন হলো ১১ বছর বয়সী ওমর ইহসান। সে ‘আল-আরাবি আল-জাদিদ’কে বলে, ‘আমার বাবা আমাকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করেছে। আমাকে গাড়ির গ্লাস মোছার কাজ করতে বলেছে। যাতে আমি বাড়ি ভাড়া ও ঘরের খরচ জোগাতে তাকে সাহায্য করতে করতে পারি। সে আরও বলে, ‘আমি দিনে প্রায় ৮ হাজার ইরাকি দিনার (প্রায় আট ডলার) আয় করি। আমি এখানে আমার চেয়ে এক বছরের ছোট বোনের সঙ্গে কাজ করি। আমার বাবা প্রতিবন্ধী। তাই আমার পরিবার প্রায় রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে থাকে।’
অন্যদিকে, উত্তর ও পশ্চিম ইরাকের অঞ্চলগুলোর উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতেও অনেক পরিবার চরম দারিদ্র্যে আক্রান্ত।
পশ্চিমে আনবার অঞ্চলের ফালুজা আমেরিয়া শিবিরের গানিয়্যা দালিমি নামক এক নারী উদ্বাস্তু প্রতিবেদককে বলেন, ‘উদ্বাস্তু শিবিরে যারা আছে তারা চরম দরিদ্র। এখানকার জীবন খুবই মানবেতর। এক টুকরো রুটি ও চা দিয়ে আমাদের দিন শুরু হয়। দুপুরের খাবার বলতে প্রায়ই অল্প ভাত। তারপর রাতে পরের দিনের অপেক্ষায় মেঝেতে ঘুমিয়ে পড়ি। গানিয়্যা দালিমি ডায়বেটিক রোগে আক্রান্ত। বেশি খরচের কারণে তিনি ডাক্তার দেখাতে পারেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উদ্বাস্তুরা গুরুত্বহীন বিস্মৃত একটি দলে পরিণত হয়েছে। উদ্বাস্তুদের সহযোগিতা করার বিষয়টি সঠিক নয়।’
এ উদ্বাস্তু শিবিরের একজন দায়িত্বশীল মুহাম্মাদ ইসাবি বলেন, ‘অনেক শিশু ও বৃদ্ধ উপযুক্ত খাদ্যের অভাবে এবং ব্যবহারের অনুপযুক্ত খাবার ও উদ্ভিদ খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এখানে মানবিক সংকট চলছে।’ সরকারের অবহেলায় তারা শরীরের অঙ্গ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘আমি ১৩ হাজার ডলারে আমার একটি কিডনি বিক্রি করে দিয়েছি আমার ক্যান্সার আক্রান্ত ৭ বছরের ছেলের চিকিৎসা করতে।’ কেউ কেউ নিজের সন্তানকেও বিক্রি করে দিচ্ছে। পুলিশ বলছে, ভরণ-পোষণের ভয়ে ফেলে রেখে যাওয়া নবজাতক পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক মে মাসে ইরাকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছে, জাতীয় দারিদ্র্যসীমা ২২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বেকারত্বের হার বাড়ছে। 

আল-আরাবি আল-জাদিদ থেকে ভাষান্তর মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যা হতে
আমেরিকার ব্লুমবার্গ এজেন্সি ২০১৯ সালের মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে বেশকিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে
বিস্তারিত
ইসলামই হবে পৃথিবীর শীর্ষ ধর্ম
ইউরোপজুড়ে বাড়ছে মুসলিমবিদ্বেষ। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ
বিস্তারিত
হামাস চায় জাতীয় ঐক্য
হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, দলটি জাতীয় ঐক্য চায়। তিনি
বিস্তারিত
ভোট প্রদানের জাতীয় দায়িত্ব
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, অত্যাচারী, পাপাচারী, ও বেঠিক
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা ওহি হয়,
বিস্তারিত
ধনীদের সম্পদে রয়েছে গরিবদের অধিকার
চাঁদপুর ট্যুর থেকে ফিরছিলাম। ভোরে সদরঘাট থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের
বিস্তারিত