নয়াপল্টনে গাড়ি ভাঙচুরকারীসহ ৬ জন রিমান্ডে

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ যুবকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এই আদেশ দেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক কামরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান।

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন-শাহাজানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ ভূইয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আব্বাস আলী, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জল ও ছাত্রদলের তিতুমীর কলেজ শাখার সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত ১৪ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নির্বাচন আচরণবিধিতে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করার নিষেধাজ্ঞা সত্বেও বিএনপিনেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুলের দিক থেকে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। এরপর নবী উল্লাহ নবী দও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে দুটি মিছিল শোডাউন করে একই দিকে আসতে থাকে এবং সর্বশেষ মির্জা আব্বাস ৮ থেকে ১০ হাজার জনের একটি মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তারা নয়াপলন্টস্থ ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল ও শোডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার জন্য তাদের রাস্তার এক লেন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি বিএনপি অফিসে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানানো হয়। অফিসের মাইকের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিতে অনুরোধ করা হয়। বেলা ১২টা ৫৫মিনিটের দিকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে নয়াপল্টনস্থ ভিআইপি রোডে বে-নামীয় গাড়ির শোরুমের উত্তর পাশে রাস্তায় আসামিরা বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠি-সোটা নিয়ে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা কয়েকটি ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় তারা ৬০ লাখ টাকার একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, তাদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে সহকারী পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারাত্মক জখম হয়। আসামিদের মধ্যে হৃদয় থান হেলমেট পরে লাঠি দ্বারা পুলিশের ব্যবহৃত মিটসুবিসি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং হোসেন আলী, সোহাগ ভূইয়া ও আব্বাস আলী তাদের পরিহিত শার্ট খুলে খালি গায়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে গালিগালাজ করে। তাই মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ইন্ধন ও মদদ দাতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

আসামি পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ধানমন্ডিতে রাস্তা ব্লক করলে সমস্যা হয় না। যতো সমস্যা বিএনপি করলে। নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পুলিশের উস্কানিতে সেদিন ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন নির্বাচনে যারা নোমিনেশন জমা দিতে এসেছিল তাদের সমর্থকরা সেদিন পুলিশের ওই আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছিল। তারা নিশ্চয়ই করেছে। শুধু পুলিশের মারবে খেয়ে যাবে, কিছু বলবে না তা তো হয়না। পুলিশ বলেছে এরা সনাক্তকৃত, তাহলে রিমান্ডের কি প্রয়োজন?

রাষ্ট্রপক্ষে সালমা হাই টুনিসহ কয়েকজন আইনজীবী ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাদের নির্দেশে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন কর্মীরা। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় ওইদিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে।


প্রার্থী বৈধ অস্ত্র বহন করতে
সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বৈধ অস্ত্র বহন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন
বিস্তারিত
‘হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে আগুন সন্ত্রাসীরাই’
আগুন-সন্ত্রাসীরাই হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান
বিস্তারিত
আবারও দেশের সেবা করার সুযোগ
আওয়ামী লীগের উন্নয়ন তৃণমূলের উন্নয়ন, নৌকায় ভোট দিলে কেউ কোনোদিন
বিস্তারিত
‘প্রতিযোগিতা যেন সহিংসতায় রূপ না
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও
বিস্তারিত
রসএনার্গোএটমের নিরাপত্তা নীতির ব্যাপারে আইএইএর
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি এজেন্সির (আইএইএ) বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তার নীতির প্রতি রাশিয়ার
বিস্তারিত
বাবার মতো বাংলার মানুষের জন্য
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাকে মারার
বিস্তারিত