বিশ্বনবী : আঁধারে আলোর পরশ

পৃথিবী। মানব সৃষ্টির আগে যার সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পাঠানোর আগে পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করেছেন। তারপর মানুষকে পাঠিয়েছেন। মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এ এক বাড়তি নেয়ামত। তারপর মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেনÑ ‘পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজানোর পর তোমরা একে নষ্ট করো না।’ (সূরা আরাফ : ৫৬)।

ঐতিহাসিক এক সত্য হচ্ছে, মানুষ এমন এক সৃষ্টিÑ যারা যুগে যুগে আল্লাহর এ নির্দেশকে অমান্য করেছে। জুলুম-নির্যাতন, পাপাচার-অনাচার, শিরিক-কুফুরি ইত্যাদি নানা অপকর্ম দিয়ে মানুষ তাদের সমাজকে নষ্ট করেছে। সেই নুহ (আ.) এর সময় থেকে আজকের সমাজ পর্যন্ত এ কথার সত্যতা প্রমাণিত।
আল্লাহ বড় মহান। তিনি যখনই দেখেন পৃথিবীর পরিবেশ বদলে যাচ্ছে, মানুষ গায়রুল্লাহর ইবাদত করে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেÑ তখনই তিনি তাদের সঠিক পথে নিয়ে আসতে তার পক্ষ থেকে বিশেষ দূত পাঠিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি প্রত্যেক গোত্রে রাসুল পাঠিয়েছি। যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং গায়রুল্লাহ থেকে বেঁচে থাক।’ (সূরা নাহল : ৩৬)।
হজরত ঈসা (আ.) এর পর থেকে বিশ্বনবীর আগমনÑ মাঝখানের লম্বা এ সময়টায় পৃথিবী অনেক বদলে যায়। বিশেষ করে ‘আরব দেশ’। আরবের মানুষগুলো মনুষ্যত্ব আর মানবতাকে পদদলিত করে এতটা নিচে নেমে যায় যে, ইতিহাস তাদের ‘বর্বর’ বলে অভিহিত করে। চুরি-ডাকাতি, হত্যা-লুটতরাজ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, জেনা-ব্যভিচার, মদ-জুয়া, নারী নির্যাতনÑ মোটকথা এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা বাস্তবায়িত করেনি। তাও আবার মাত্রা ছাড়িয়ে। সামান্য কোনো বিষয়ে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ লেগে যেত। সেই যুদ্ধ বংশানুক্রমে চল্লিশ থেকে আশি বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতো। কে আপন আর কে পরÑ এর কোনো ফারাক ছিল না। যে যার থেকে পারত তার সম্পদ চুরি করে নিয়ে যেত। এমনকি হাজীরাও তাদের কবল থেকে রেহাই পেত না। কোনো কাফেলা নিরাপদে সফর করতে পারত না। মরুদস্যুরা হামলা করে মাল-সম্পদ, এমনকি নারী-শিশুদের বন্দি করে নিয়ে যেত। তাদের দাস-দাসী হিসেবে বিক্রি করে দিত। জেনার কারণে যে সন্তান হতোÑ বুক ফুলিয়ে সে সন্তানকে নিজের বলে দাবি করত। আর নারী নির্যাতন? এ তো নির্যাতনের সংজ্ঞাকেও হার মানিয়ে ছিল। নারী কারও সম্পত্তির ওয়ারিশ হতো না। কারণ তারা যুদ্ধাস্ত্র ধরতে অক্ষম। বিধবা? সে তো স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পদ। অন্য স্বামী গ্রহণ বা কোথাও চলে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। বিধবাদের ইদ্দত পালন করতে হতো আজব এক নিয়মে। নারী নির্যাতনের চিত্র এতটাই করুণ হয়েছিল যে, মনে হতো মানবতা বলতে পৃথিবীতে আর কিছু বাকি নেই। মানুষ তাই কন্যা সন্তানের জনক হতে লজ্জা পেত। কারও ঔরসে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে ভাবনায় পড়ে যেতÑ কন্যাকে জীবিত রাখবে না কি মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলবে? অনেকে এ নির্মম কাজটাই করত। এক সাহাবি ইসলাম গ্রহণের পর আফসোস করে বলেন, ‘আমি নিজ হাতে আমার আটটি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতেছি।’ আহ! কী নির্মম কথা।
এ ছিল আরবের অবস্থা। অন্যদিকে ভারতবর্ষে ছিল মানবতার চরম দুর্দশা। হিন্দু গুরুরা রচিত করেছিল সতিদাহ নামে নারী নির্যাতনের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। মানুষের মাঝে দাঁড় করেছিল বৈষম্যের দেওয়াল। ইরাক-ইরানে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলÑ ‘ধন আর নারী কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়।’ ফলে তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। চীন-জাপানে মনে করা হতোÑ ‘আল্লাহর পর তাদের রাজারাই সবচেয়ে বড় খোদা।’ তখনকার সময় পৃথিবীতে ধর্ম বলতে ছিল ইহুদি আর খ্রিষ্টান ধর্ম। ইহুদিরা তাদের ধর্মকে বিকৃত করে এর অস্তিত্বকে নষ্ট করেছিল। খ্রিষ্টানরা একত্ববাদের বিপরীতে ত্রিত্ববাদের বিশ্বাসী ছিল।
পৃথিবীজুড়ে যখন ধর্ম আর সমাজের এ করুণ অবস্থা, মানবতা আর মনুষ্যত্ব ডুকরে ডুকরে কাঁদছিল সমাজের পরতে পরতে, মজলুম আর অসহায়দের হায়-হুতাশ-কান্নায় প্রকম্পিত হচ্ছিল আকাশ-বাতাস, শয়তান আর তাগুতের রাজত্ব কুরে কুরে শেষ করছিল মানবতার অস্তিত্বকে, ঠিক তখনই পুরো পৃথিবীকে মুক্তি দিতে আল্লাহ তায়ালা প্রেরণ করলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে। তিনি এলেন আঁধারে আলোর পরশ হয়ে। আল্লাহ বলেন,  ‘এটা এমন এক কিতাব যা আমি আপনার কাছে নাজিল করেছিÑ যেন আপনি এর দ্বারা জগতের মানুষকে আঁধার থেকে আলোয় নিয়ে আসতে পারেন।’ (সূরা ইবরাহিম : ০২)।
তিনি সেই আলো ছড়িয়ে দিলেন পুরো আরবে। সেই আলোর ছোঁয়ায় বর্বর মানুষগুলো সোনার মানুষের রূপ নিল। এই মানুষগুলোকে তিনি সামনে রেখে পৃথিবীবাসীকে সম্বোধন করে বলেছেন, ‘পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে এর বিনাশ পর্যন্তÑ এই পুরো সময়জুড়ে সব থেকে উৎকৃষ্ট মানুষ হলো আমার সাহাবারা। এরপর তাদের পরবর্তীরা। এরপর তাদের পরবর্তীরা।’ (হাদিস)।
আরবের এ বর্বর মানুষগুলো বিশ্বনবীর ছোঁয়ায় সোনার মানুষে বদলে গেল। মানবতাকে দলিতকারী মানুষগুলো হয়ে গেল মানবতার অতন্দ্র প্রহরী। আঁধারে নিমজ্জিত মানুষগুলো বনে গেল আলোর মশালবাহী। সেই মশাল নিয়ে তারা ছুটে গেল পৃথিবীর দিক-দিগন্তে। এ সবকিছুই হয়েছিল বিশ্বনবীর ছোঁয়ায়। কারণ তিনি ছিলেন, মনুষ্যত্ব আর মানবতার ঘোর আঁধারে জ্যোতির্ময় এক আলোর পরশ।


শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোটার ও ভোটপ্রার্থী
ভোটার যাকে তার ভোট দিচ্ছেন  তার অর্থ হচ্ছে, ভোটদাতা সংশ্লিষ্ট
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা ওহি হয়,
বিস্তারিত
বিজয় আল্লাহর নেয়ামত
সঠিকভাবে এবং স্বাধীনভাবে আল্লাহর গোলামি করতে হলে মানুষের জন্য দরকার
বিস্তারিত
সূরা ইখলাসের ফজিলত
সূরা ইখলাস। পবিত্র কোরআনের ছোট্ট একটি সূরা। একবার পাঠ করতে
বিস্তারিত
২০১৯ সালে হজে গমনেচ্ছুরা এখনই
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, যারা ২০১৯
বিস্তারিত
নির্মল ও পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী
রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলা হলো, সবচেয়ে উত্তম মানুষ কে? তিনি
বিস্তারিত