ভোলায় প্রান্তিক মানুষের আস্থা গ্রাম আদালত

ভোলায় ৫ টি উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচলভাবে পরিচালিত হওয়ায় সুফল পাচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। ছোটখাট বিরোধ নিরসনে জেলা-উপজেলার আদালতে আসার সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। চলতি বছর উপজেলার গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে সহস্রাধিক মামলার।

বিচার পদ্ধতি সহজ ও ভোগান্তি ছাড়া হওয়ায় উকিল মোক্তারের পরিবর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রাখছেন এলাকাবাসী। তাইতো প্রান্তিক মানুষের আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত। আর অল্প সময়ে সহজ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে গ্রাম আদালত নিয়ে আশার কথা জানালেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালাক মো: মাহামুদুর রহমান।

ভোলার বোরহানউদ্দীন উপজেলার কাচিয় ইউনিয়নের চকদোষ গ্রামের মো:দাইমুদ্দীন (৫২)।পেশায় একজন কৃষক। তার ১০ শতাংশ জমি একই গ্রামের কাশেম জোরপূর্বক দখল করে নেয় ঘটনার সময় বাবুল ও স্থানীয় কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিল।

ঘটনার পর মো: দাইমুদ্দীন প্রথমে এলাকার স্থানীয় ব্যাক্তিদেও কাছে সমাধান চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু কোনো সমাধান পায়নি। পরে স্থানীয় কাচিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ২০ টাকা দিয়ে গ্রাম আদালতের কাছে সুষ্ঠ বিচার এর জন্য আবেদন করে। পরে গ্রাম আদালতে দুই পক্ষের কথা শুনে। সেখানে তিনি ন্যায় বিচার পান। তার জমি তিনি ফিরে পান। শুধু দাইমুদ্দীন নয় দাইমুদ্দীন এর মতো হাজারো প্রান্তিক মানুষ গ্রাম আদালতের সুবিধা পাচ্ছে।

গ্রাম আদালত প্রকল্প চালু হওয়ার পূর্বে গ্রাম আদালতে বিচারযোগ্য অভিযোগ বা বিরোধ গুলো প্রায়ই স্থানীয় ভাবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতো বা থানায় যেত। কিন্তু বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে যেখান থেকে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় বিচার পাচ্ছে।একই সাথে গ্রাম আদালতে ও প্রতি মানুষের আস্থা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয় সালিশ ও কমেছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং বাংলাদেশ সাকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (২য় পর্যায় )কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সহযোগীতা করছে ওয়েব ফাউন্ডেশন।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ভোলা জেলার ৫ টি উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়নে পরিষদে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের কার্যক্রম চলছে।পাশাপাশি বাদী-বিবাদীর মধ্যে শান্তিপূর্ণসহ অবস্থান বিরাজ করছে।যা সমাজে শান্তি শৃঙ্ঘলাবজায় রাখতে গুরুত্বপৃর্ন ভূমিকা রাখছে।

প্রকল্পের বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে সাধারণ জনগনের যেমন সচেতনতা তৈরি হয়েছে বিধায় বিরোধ হলে ন্যায় বিচারের আশায় গ্রাম আদালতে অভিযোগ মামলা দায়েরের জন্য আসছে এবং অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য বিচারকগন বিচারপ্রার্থীকে বিচারিক সেবা দিচ্ছে। ফলে এরই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল’১৭ থেকে অক্টোবর’২০১৮ পর্যন্ত ভোলা জেলায় গ্রাম আদালতে মোট ৩৪৭৪ টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তার মধ্যে  ২৭৩৩ টি অভিযোগ নিস্পত্তি হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন কাচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রব কাজী বলেন, আমরা আলাপ-আলোচনা করে কাগজ দেখে সুষ্ঠু সমাধান দিই। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ এই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উপকৃত হবে। এছাড়াও ফৌজদারি মামলা একবারে নাই বললে চলে, টুকি টুকি যা হয়, তা আমরা গ্রাম্য আদালতে মাধ্যমে সমাধান করে দিই।

ইউএনডিপি ভোলা জেলার ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর মো. শফিকুল রহমান বলেন, দরিদ্র মানুষ ও অবহেলিত নারীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত সংশিষ্ট চেয়ারম্যান,মেম্বারও সদস্যদের প্রশিক্ষণসহ  নানা সহায়তা করে যাচ্ছি। আমাদের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এভাবে করতে পারলে আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্যতে  পৌঁছতে পারবো।

স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালাক মো: মাহামুদুর রহমান বলেন, গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্টী  ছোট ছোট বিরোধ হলে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে বা থানায় না গিয়ে গ্রাম আদালতে অভিযোগ দিচ্ছে এবং অল্প খরচে,স্বল্প-সময়ে ন্যায় বিচার পাচ্ছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রম চালু করেছে তা অনেকটাই সফল।


তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারি অনুদানে নির্মিত
ছোটবেলায় সিনেমা হলে গিয়ে অনেক ছবি দেখতাম। চলচ্চিত্রের একটা অদৃশ্য
বিস্তারিত
পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত