বিএডিসি’র গোলআলুতে ঘোর সংসারের চাকা

শেরপুরের নকলা উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বীজ উৎপাদনের জন্য বিএডিসি’র গোলআলু রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সরজমিনে চন্দ্রকোনা, চরঅষ্টধর, পাঠাকাটা, টালকী, বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বিএডিসি’র আওতায় আলু চাষীরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। আলু বীজ রোপনের অনুক‚ল পরিবেশ পাওয়ায় কৃুষকরা খুব খুশি। ভালো ফলনের আশায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

উপজেলার চরাঞ্চলের যে দিকে চোখ যায় শুধু আলু ক্ষেত আর আলু ক্ষেত চোখে পড়ে। তাদের ধারনা প্রাকৃতিক কোন কারনে ক্ষতি না হলে পূর্বের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবেন তারা। তবে শীত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে পারে আলু ক্ষেতের ঝুঁকি। তাই কৃষি কর্মকর্তাসহ বিএডিসি হিমাগার কর্মকর্তাগন আগাম পরামর্শ সেবা দিতে শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের সেবাদানে কৃষি কর্মকর্তা ও বিএডিসি হিমাগার কর্মকর্তাগণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

আলু চাষে কৃষকরা ফি বছর অধিক লাভবান হওয়ায়, এবছর আলু চাষীর সংখ্যা ও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ অফিস সূত্রে জান গেছে। ভূরদী এলাকার কৃষক আলহাজ্ব ছাইদুল হক, কামাল, জুয়েল ও মকুলসহ অনেকেই জানান, আলুতে লাভ বেশি পাওয়ায় তারা গত বছরের তুলনায় এবছর আলু চাষে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করেছেন।

তারা জানান, নারীদের দিয়ে কাজ করানো সহজ এবং কম টাকায় অধিক শ্রম পাওয়া যায়। তাই আলুবীজ রোপনে তারা পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে নারী শ্রমিকের উপর বেশি নির্ভরশীল। বর্তমানে নারী শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ২০০ টাক থেকে ২৫০ টাকা এবং পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ৪৫০ টাক থেকে ৫০০ টাকা করে। আলুরোপনের কাজ করে দুইশতাধিক নারী ও শতাধিক প্রান্তিক পুরুষ শ্রমিক স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অর্ধশতাধিক আলু চাষীর সংসারে ফিরে এসেছে সুখ শান্তি। তারা আজ লাখ পতি হয়েছেন। বিএডিসির গুলআলুতেই ঘুরে তাদের সংসারের চাকা।

মালেকা, ছখিনা, ফুলভানু, আরজিনাসহ বেশকিছু নারী শ্রমিক আলাকিত বাংলাদেশকে জানান, সংসারের কাজের ফাঁকে তারা আলু রোপনের কাজ করে দৈনিক ২৫০ টাকা করে পান। ফলে মাসে সাড়ে সাতহাজার টাকা পেয়ে থাকেন তারা। এই টাকা দিয়ে চেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চলে যায়। তবে তাদের অভিযোগ, অনেকক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করলেও শ্রম মজুরী পুরুষের অর্ধেক পেয়ে থাকেন। তাই কাজের ভিত্তিতে তাদের শ্রম মজুরী নির্ধারণের জন্য দাবী জানান তারা।

নারী শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল আলু চাষী শফিক, সাজু, রাজু, ছাইদুল, জুয়েলসহ অনেকেই জানান, নারীদের দিয়ে কাজ করানো সহজ এবং কম টাকায় অধিক শ্রম পাওয়া যায় বলেই তারা নারী শ্রমিক বেশি ব্যবহার করেন।

পুরুষ শ্রমিক আলকাছ আলী, আব্বাছ আলী, শামীম আহমেদ, আব্দুল আহালু, ইউনুছ আলীসহ অনেকেই জানান, তারা আলু রোপরে জন্য দাগাটানা, দুইবার মাটি দেওয়া ও প্রয়োজনে একবার নিড়ানী দেওয়ার জন্য প্রতি একর জমি ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এতে করে তাদের প্রতি শ্রমিকের মাসিক আয় হয় অন্তত ১৫ হাজার টাকা করে। এদিয়েই তাদের সংসার ও অন্যান্য খরচ চলে।

চলতি মৌসুমে বিএডিসি’র আওতায় রোপনকৃত আলুর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।

বিএডিসি নকলা হিমাগারের উপ-পরিচালক (টিসি) কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ২৫টি ব্লকে প্রায় অর্ধশত আলু চাষীকে নির্বাচন করে ৩০০ একর জমিতে দুইশতাধিক মেট্রিকটন বিএডিসি’র আলু বীজ লাগানোর কাজ চলছে।

তিনি জানান, এবছর প্রতি একরে ৬ মেট্রিকটন করে আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তাতে করে নকলা উপজেলায় মোট একহাজার ৮০০ মেট্রিকটন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। গত বছর ৩০০ একর জমিতে বিএডিসি’র আলু চাষে উৎপান ছিল একহাজার ৬৫০ মেট্রিকটন।

উপ-সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, গত বছর বিএডিসি’র আওতায় ২৫ টি বøকে আলুচাষ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ডায়মন্ড, গ্র্যানুলা ও কার্ডিনাল জাত বেশি চাষ করা হয়েছিল। বিএডিসি’র উৎপাদিত আলু গ্রেডিং করার পর ন্যায্য মূল্যে কিনে নিয়ে হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। এ বছর হিমাগারে সংরক্ষিত ওই আলুবীজ সরকারের নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। তাতে কৃষকরা আলুবীজ কিনা এবং তাদের উৎপাদিত আলু বেচায় দুই দিকেই সুবিধা ভোগ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন।


হলুদ ফুলে কৃষক লাল
কৃষকের বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল। মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে
বিস্তারিত
কৃষিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও, বেতনবৈষম্যের স্বীকার
শেরপুরের নকলা উপজেলায় কৃষিকাজে নারীদের অংশ গ্রহন দিন দিন বাড়ছে।
বিস্তারিত
ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণে সাবলম্বী
বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যে ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণ
বিস্তারিত
সৃজনশীলতার সাথে এক নতুন দিগন্তে
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটা ছোট বেলাতেই শিখেছি। তাই সংসারের
বিস্তারিত
পাবনায় চরাঞ্চলে সবজি চাষে কৃষকের
পাবনায় পদ্মা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরে এবারে সবজির বাম্পার
বিস্তারিত
জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিল পর্যটকদের
একটি পিচঢালা পথ চলে গেছে গ্রামের শেষ মাথায়। অনেক দূর
বিস্তারিত