নবাবগঞ্জে মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা গ্রামের মাহমুদুল হাসান দোলনের খামারের লেয়ার মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসী জানান, খামারের পাশেই রয়েছে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, কিন্টারগার্ডেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনা করতে পারছে না। এলাকাবাসী থাকতে পারছেন না বাড়িতে। অতিদ্রুত এর প্রতিকারের পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১শ শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীর নানা রোগ দেখা দিতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আওনা গ্রামের বড় রাস্তার পাশে প্রায় বিশ বিঘা জমির ওপর টিনশেড দিয়ে বড় বড় দুটি লম্বা ঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানে একটি ঘরের ভিতর ষাঁড় গরু মোটাতাজা করণসহ দুগ্ধ গাভী ও অন্যঘরে লেয়ার মুরগির খামার করেছেন খামারি মাহমুদুল হাসান দোলন। দুই খামারের মাঝে বড় রাস্তার পাশে পুকুর খনন করে মাছ চাষও করেন দোলন। খামারের পাশ দিয়ে একটি বড় রাস্তা রয়েছে, যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।

খামারের পাশেই এম মুহীয়্যুদ্দীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়, আওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সূর্যমুখী কিন্টারগার্ডেন, মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাজারসহ জনবসতি। রাস্তার পাশে বিদ্যালয় দুটির শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কেউ নাকে হাত দিয়ে, আবার কেউ মুখে কাপড় দিয়ে ক্লাস করতে দেখা যায়। বাজারের ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা।

আওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র মো. তাকবীর হোসেন বলেন, খামারের দুর্গন্ধে ক্লাসে এক হাত দিয়া নাক চেপে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে লিখতে হয়। এভাবে ক্লাসে পড়াশুনা করতে আমাদের খুবই কষ্ট  হচ্ছে।

এম মুহীয়্যুদদীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সজল মোল্লা বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। খামারের দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে পরীক্ষা শেষ না করেই হল থেকে বের হয়ে এলাম।

আবেদুননেছা শরিফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন বলেন, খামারের বিষ্ঠার গন্ধে ঠিকমত নামাজ পড়তে পারি না। মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরাও অতিষ্ঠ হয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। অতিদ্রুত দুর্গন্ধ বন্ধে একটা বিহিত করা দরকার।

পথচারী রিপন হোসেন বলেন, বাজারে যেতে হলে এ খামারের পাশের রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। খামারের কাছে আসলেই নাকে কাপড় চেপে রাখতে হয়। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।

আওনা বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি মো. পাপ্পু ভূইয়া বলেন, খামারের দুর্গন্ধের কারণে বাজারে মানুষ আসতে চায় না। এভাবে চলতে থাকলে বাজারটাই একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে অর্গানিক এগ্রো ফার্মের মালিক মাহমুদুল হাসান দোলন খামারের দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, মাঝে মাঝে একটু বেশি গন্ধ ছড়ায় তখন স্প্রে করে দিলে দুর্গন্ধটা দ্রুত চলে যায়। তবে দুর্গন্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আগামী এক মাসের মধ্যে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করছি। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা যাতে স্বস্তিতে চলতে পারে তার জন্য দিনে ৩/৪ বার স্প্রে করা হবে।

খামার তৈরিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনুমতি নিয়েই ব্যবসা করেছি।


পিরোজপুর-৩ আসনে মহাজোটের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ
পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৬ নেতা বহিষষ্কার করা
বিস্তারিত
বিএনপি জনরোষের ভয়ে এলাকায় না
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি ১০ বছর এলাকায় আসেনি, তাই
বিস্তারিত
‘শান্তিতে বিজয়’ নিয়ে আইডিয়া’র উদ্যোগে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচনী কার্যক্রমের
বিস্তারিত
নাগরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য নিহত
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের নাগরপুর
বিস্তারিত
ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী রিটার পক্ষে কাজ
দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকার পরও দল
বিস্তারিত
কেবল বাংলাদেশেই সকালে বজ্রপাত বেশি
কেবল বাংলাদেশই সকালবেলা বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে এবং মৃত্যুহারও বেশি। পৃথিবীর
বিস্তারিত