দাদুর গবেষণা

দাদু বললেন, তুই ভাবছিস, উদ্ভিদের খাদ্যের সঙ্গে ভাষার কী সম্পর্ক? আমি এদের নানা কায়দায় কষ্ট দিচ্ছি। একটা কথা আছে না শিশু না কাঁদলে মা দুধ দেয় না। আমার গবেষণাও ঠিক এরকম। খাদ্যের অভাবে কষ্ট করতে করতে ওরা বলতে বাধ্য হবে, আমাকে খাবার দাও। তবে আমি এর একটা গাছও 
মরতে দেব না; সময় মতো খাবার দেব

ঘুম ভেঙে সিসিল চোখ না খুলে হাই দিল। পাতা মেলল পাশ ফিরে। হাত বাড়িয়ে জানালা খুলল। দেখে দাদুভাই বাগানে ফুলগাছে পানি দিচ্ছেন। সিসিল বেড়াতে এসেছে গ্রামের বাড়িতে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে দাদুভাই এখন গ্রামের বাড়িতেই থাকছেন। বছর দুই হলো দাদি মারা গেছেন। ছেলের কাছে ঢাকা যেতে পারেন; কিন্তু যাবেন না। 
সিসিল বাগানে এসে দাঁড়িয়েছে দাদুভাইয়ের কাছে। ঝাঁঝারি মাটিতে রেখে তিনি সোজা হলেন। বললেন, উদ্ভিদবিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু আবিষ্কার করেছেন গাছের প্রাণ আছে। আমি আবিষ্কার করতে চাই, যেহেতু প্রাণ আছে সেহেতু কথাও বলতে পারে। বাগানে আছে নানা জাতের বিদেশি গোলাপ, মৌসুমি ফুল ও পাতাবাহার। বাড়ির গেট থেকে ঘরের দরজা পর্যন্ত দুই সারিতে নানা প্রজাতির গাছ টবে সাজানো। কিছু টব আছে শোবার ঘরেও। 
সিসিল বলল, দাদুভাই উদ্ভিদ কখনও কথা বলবে বলে মনে হয় না। দাদু বলল বলতে বাধ্য করাব। এদিকে আয়। 
দাদা-নাতি একটা গোলাপ গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দাদু বললেন, এটির নাম ‘রাজার মুক্তিপণ’। সপ্তাহ দুয়েক ধরে আমি এর গোড়ায় পানি দিচ্ছি না। অর্থাৎ মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আলো-বাতাস থেকে ঠিক মতো পাচ্ছে। শোবার ঘরে চল। আরও কিছু দেখালেই বুঝতে পারবি। ঘরের গাছগুলো দেখিয়ে দাদু বললেন, এ গাছগুলো মাটি থেকে খাদ্য পাচ্ছে। আলো বাতাসও পাচ্ছে সামান্য; দরজা-জানালা দিয়ে যতটা আসছে ততটাই। আর এই যে বটম পাম, মাটি থেকে একেবারেই খাদ্য পাচ্ছে না। খাটের নিচে তাকিয়ে দেখ, একটা টব আছে। সিসিল খাটের নিচে উঁকি দিল। দাদু বললেন, ওগুলো দূর্বাঘাস। এদের আলো বাতাস ও মাটির রস তিনটি খাদ্য থেকে বঞ্চিত করেছি। 
এতক্ষণ প্রায় নীরব শ্রোতাই ছিল সিসিল। এবার কথা বলল, আমি তোমার গবেষণার কিছুই বুঝতে পারছি না। দাদু বললেন, তুই ভাবছিস, উদ্ভিদের খাদ্যের সঙ্গে ভাষার কী সম্পর্ক? আমি এদের নানা কায়দায় কষ্ট দিচ্ছি। একটা কথা আছে না শিশু না কাঁদলে মা দুধ দেয় না। আমার গবেষণাও ঠিক এরকম। খাদ্যের অভাবে কষ্ট করতে করতে ওরা বলতে বাধ্য হবে, আমাকে খাবার দাও। তবে আমি এর একটা গাছও মরতে দেব না; সময় মতো খাবার দেব।
সিসিল বলল, এতদিনে সেরকম কোনো ইঙ্গিত পেয়েছ? দাদু মজার গলায় বললেন, ইঙ্গিত নয়, কথাই শুনেছি। একদিন গভীর রাতে আচমকা আমার ঘুম ভেঙে গেলে বাতি জ্বালালাম। আমার নজর পড়ল এ খাটস্ট্যান্ডের মানিপ্লান্টের ওপর। দেখে খুব মায়া হলো। চেয়ে রইলাম গাছটার দিকে। হঠাৎ মানিপ্লান্টের ভেতর থেকে শব্দ এল কুটিং কাটিং কট। আমি সঙ্গে সঙ্গে অনুবাদ করে ফেললাম। মানিপ্লান্ট বলছে, আমাকে খাবার দাও। খাবার দিলাম। আর শব্দ হলো না।
সিসিল বিস্ময়ে বিমূঢ়। একটা ঘোরের মধ্যে থেকেও বলল, তাহলে তো গবেষণায় তুমি সাকসেসফুল। না, এখনও হতে পারিনি। তোর সহযোগিতা দরকার। যখন তুইও উদ্ভিদের কথা শুনতে পাবি, দুজনেরটা মিলে যাবে, ধরে নেব আমরা আধাআধি পৌঁছে গেছি। তবে মনে রাখিস গাছকে মন থেকে ভালোবাসতে হবে।
যেসব গাছকে খাবার দেওয়া হচ্ছে না সেইসব গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সিসিল। চেয়ে থাকে নিবিড় মায়ার চোখে। কান সজাগ রাখে তাদের কথা শোনার জন্য। কিন্তু শুনতে পাচ্ছিল না কিছুই। 
সিসিলের মনে হচ্ছিল গাছদের সে মন থেকে ভালোবাসতে পারেনি। বিষয়টা ভাবতে ভাবতে রাতে ঘুম আসছিল না সিসিলের। দাদুভাই ঘুমিয়ে নাক ডাকছেন। 
পরদিন দুপুরে সিসিল নতুন একটা রহস্য আবিষ্কার করে ফেলল। কেউ ছিল না ঘরে। দাদুভাই বাগানে। দূর্বা ঘাসের কথা শুনতে পেল। শুনে কীরকম যেন সন্দেহ হলো। পরীক্ষা করে দেখল দাদুভাইয়ের শোবার খাট সেগুনকাঠের তৈরি। ছাউনি গজারি কাঠের। ভেজালের দুনিয়া তো দু-একটা কড়ই কাঠ ঢুকিয়ে দিয়েছে। ঘুণপোকাদের বাসা বানাতে সুবিধা হয়েছে।
নতুন রহস্যের কথা আর বলল না দাদুকে। ঢাকা ফেরার সময় সিসিল বলল, তোমার খাটের ছাউনির দুটি কাঠ আর মানিপ্লান্টের স্ট্যান্ড বদলে ফেল। দাদু চমকে উঠে তার দিকে তাকালেন। একটু সময় নিয়ে মৃদু গলায় বললেন, ওই কাঠগুলো বদলালে আমার খেলা শেষ হয়ে যাবে। আমি সময় কাটাব কেমন করে? 


খোকার আঁকা
  খোকার আঁকা জাদু মাখা নেই তাতে সংশয় আঁকিয়ে সে হবে
বিস্তারিত
আমার দেশের
আমার দেশের আদ্যনাথ ঘোষ আমার দেশের মাতাল করা দোয়েল পাখি স্বপ্ন
বিস্তারিত
বীজ বুনে যাই
  লাল-সবুজের বীজ বুনে যাই আমার মনের গহিনে মন খুলে গাই
বিস্তারিত
পতাকার সম্মান
মাগো আমি যুদ্ধে যাব করো না তুমি ভয় তোমার খোকা
বিস্তারিত
বিজয়-স্লোগান
  সবুজ-লালের পতাকা ওই নড়ছে যেন ঢেউ থই-থই, বাতাস এসে আদর
বিস্তারিত
ষোলই ডিসেম্বর
ষোলই ডিসেম্বর বিশ্বনাথ বিশ্বাস একাত্তরে ভাই যে আমার যুদ্ধে যেদিন গেল
বিস্তারিত