বাতিঘরে আলাপচারিতায় সমরেশ মজুমদার

আত্মজীবনী লিখলে ঘরে ও বাইরে শত্রু তৈরি হবে

ঢাকায় বাতিঘর আয়োজন করে ‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক আলাপচারিতা। অনুষ্ঠানে দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক সমরেশ মজুমদার শোনান তার লেখক জীবনের নানা গল্প। ১ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অষ্টম তলার বাতিঘরে বসে এ আলাপচারিতা। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাস। এ আলাপচারিতায় উঠে আসে সমরেশ মজুমদারের লেখক হয়ে ওঠার নানা গল্প। এসব গল্পেরই অংশবিশেষ

 


- কলকাতায় গ্রুপ থিয়েটার করতেন সমরেশ মজুমদার। নাটকের প্রয়োজনে লেখার দরকার হলে বন্ধুরা তাকে অনুরোধ করত। এমনই এক অনুরোধে তিনি নাটক লিখেছেন। পরের দিন বন্ধুদের সবাইকে শোনালেন। কিন্তু সবার মুখ গম্ভীর। সবাই বলল নাটক হয়নি। আর তখনই এক বন্ধু তাকে বললেন, একটা কাজ কর, আগে গল্পটা লিখ, তারপর নাট্যরূপ দে। তারপর একটা গল্প লিখলেন তিনি। আবার সবাইকে শোনালেন। এবার সবাই বললেন গল্পটা ভালো হয়েছে, তবে এটা দিয়ে নাটক হবে না।


- অনেকবার যোগাযোগ করার পর দেশ পত্রিকার সম্পাদক লেখাটা ছাপা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন সমরেশ মজুমদারকে। আশ্বাস পেয়ে তিনি খুশিতে সাত বন্ধুকে কফি হাউসে খাইয়েছেন। কিন্তু পরের সংখ্যায় সেই লেখাটি ছাপা হয়নি। তারপর পাবলিক ফোন থেকে দেশ পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক বিমল করকে কল করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন সমরেশ মজুমদার। পরে অবশ্য গল্পটা ছাপা হয়েছে। আর এটা ছিল দেশ পত্রিকায় ছাপা তার প্রথম লেখা। সেই লেখার ১৫ টাকা সম্মানী পেয়ে সেটা দিয়েও বন্ধুদের খাইয়েছেন। সেই খাওয়ার লোভেই বন্ধুরা তাকে লিখতে বলেন। সেই কফি খাওয়া ও খাওয়ানোর লোভ থেকেই তার লেখক হয়ে ওঠা।


- সমরেশ মজুমদারের তিন উপন্যাস উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ। এ উপন্যাস লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, এ তিনটি উপন্যাসের মধ্যে প্রথম দুটি অনেকটা জোর করে লেখা। ঠিক মন থেকে লেখা নয়। বলা যেতে পারে অনেকটা বাধ্য হয়ে লেখা। উত্তরাধিকার প্রকাশের পর পাঠকদের আগ্রহের কথা ভেবে প্রকাশক সাগরময় ঘোষ নির্দেশ দেন বাকি দুই পর্ব  লিখতে।

 
- সাতকাহনের দীপাবলি বিষয়ে সমরেশ মজুমদার বলেন, আমার বাড়ির পাশে ১২ বছরের একটি মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের দিন সকালে সে আমার হাত ধরে বলেছিল, কাকু, আমাকে বাঁচাও। অনেক চেষ্টা করেও সেদিন মেয়েটির বিয়ে ঠেকাতে পারিনি। তবে বিয়ের আট দিন পর বিধবা হয়ে মেয়েটি ফিরে এসে আমাকে বলেছিল, কাকু, আমি বেঁচে গেলাম। মূলত এখান থেকেই দীপাবলি চরিত্রটি নেওয়া।

- এক পাঠক প্রশ্ন করেন আত্মজীবনী লেখার বিষয়ে। তিনি বলেন, আত্মজীবনী লিখলে ঘরে ও বাইরে শত্রু তৈরি হবে। এ ‘কুকার্য’ করতে চাই না। তবে বাংলাদেশ নিয়ে একটি দীর্ঘ উপন্যাস লেখার ইচ্ছে আছে। যেটি ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে হবে। এ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাঙালির অভ্যুত্থানের গল্প শোনাতে চাই এবং একই সঙ্গে দেশভাগ ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে এক করে একটি আখ্যান রচনা করতে চাই।

- অসুস্থ হওয়ার কারণে বেশ কিছুটা সময় লেখালেখির বাইরে ছিলেন তিনি। তাই দীর্ঘ ২৩ বছর পর দেশ পত্রিকায় একটি ধারাবাহিক উপন্যাস লিখছেন তিনি।

 


পাথরের ফাঁক-ফোকর দিয়েই
  বিজয়ী ঝকঝকে চোখগুলো এখন তন্দ্রা আর ঝিমুনিতে ঝাপসা।
বিস্তারিত
বিজয়ের তানপুরা
  হাসপাতালের করিডোর ছেড়ে রাস্তায় নামলেন ডাক্তারেরা তড়িঘড়ি তাদের উচ্চারণÑ
বিস্তারিত
রোদ
  রোদ ছিল ব’লে শয্যাপ্রান্তে উম ছিল ঘোর ছিল, ঘুম
বিস্তারিত
অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ
  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাঃ গৌরব আর সৌরভে সম্ভার, মুক্তিযোদ্ধারা;
বিস্তারিত
কোটি স্বপ্নের একটি নাম
  এসেছিল মাঠের কিষান, কিষানি বধূ ফসলের শিল্প গড়া, চাষিরা, 
বিস্তারিত
স্বপ্নসিক্ত ম্যুরাল
  তুমি থাকলে শস্যবীজ পুষ্ট হয় নদীস্রোত কুলুকুলু বহে, ফুল
বিস্তারিত