জাতীয় পতাকা বিক্রি করা মুক্তিযোদ্ধা মনোতুষ মন্ডলের নেশা

মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মাস আসলেই নিজেকে স্থীর রাখতে পারেন না বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোতুষ মন্ডল। এই দুই মাস ব্যাপী জাতীয় পতাকা নিয়ে সারাদেশ ব্যাপী ঘুরে বেড়ান তিনি। তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বহেরাতলা গ্রামের বাসিন্দা। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার ছোট সংসার।

মনোতুষ বলেন, স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাস আসলে সেই মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি সামনে এসে হাজির হয়। তাই পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফিরি। এই দুই মাসে সাংসারিক সব কাজ ফেলে জাতীয় পতাকা বিক্রি করে মনে শান্তি আনি।

তিনি জানান, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার পতাকা বিক্রি করতে পারেন৷ ছোট বড় বিবেচনায় প্রতিটি পতাকার বিক্রয় মূল্য ৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। তাছাড়া হাতবন্ধনী ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা, মোটর সাইকেলসহ ছোট পরিবহনের জন্য ব্যবহার উপযোগী পতাকা বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা করে।

এই দুই মাসে পতাকা ও পতাকা খচিত বন্ধনী বিক্রিতে যা লাভ হয়, তা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের উন্নয়নে তথা বৃক্ষ রোপন, স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পতাকা বিতরণ, যুব সমাজকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করতে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে ব্যয় করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি সরকারি ভাবে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী পাই ১০ হাজার টাকা। ওই টাকাতেই আমার ছোট্ট সংসারের খরচ চলে যায়। চলতি বিজয় মাস উপলক্ষে সরকার ৭ হাজার টাকা ভাতা দিয়েছেন, ওই টাকার সাথে আরও ৫ হাজার টাকা মিলিয়ে ১২ হাজার টাকার পতাকা ও বন্ধনী কিনে শেরপুরে আসছি। খরচ বাদে এতে অন্তত ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হবে। এই লাভের টাকায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে কিছু একটা করবেন বলে তিনি জানান। তবে কি করবেন তা স্পষ্ট করেন নি।

মনোতুষ জানান, পতাকা বিক্রি করে সংসার চালানো তার উদ্দেশ্য নয়। দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি দীর্ঘ্যদিন যাবৎ পতাকা বিক্রি করে আসছেন। তবে বর্তমান প্রজন্ম দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় এখন আর বিজয়ের মাস, স্বাধীনতার মাস ছাড়াও ভাষার মাসেও পতাকা বিক্রি হয়।

তার আশা দেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত একটি করে পতাকা থাকুক। তাতে করে শিশুরা কৌতুলের বসে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে পতাকার ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। শিশু কাল হতেই যেন তারা দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন এটাই তার একান্ত চাওয়া।

তিনি বলেন, আমরা বাঙ্গালি, বাংলা আমাদের ভাষা। আমরা বাঙ্গালী জাতীয়তার পরিচয় বহন করি। এটা আমাদের অহংকার। আর এই অহংকার আননয়নে এক মহান ব্যক্তির ভুমিকা অতুলনীয়, তিনি হলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর তখনকার ওই আন্দোলনের একমাত্র দল ছিল আওয়ামী লীগ। অতএব আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে কোনো দল থাকুক তা কামনা করেন না তিনি।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকবে বটে, তবে নির্বাচনী দল থাকা উচিত একটাই, তাহলো আওয়ামী লীগ। এ আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রনেই নির্বাচন হওয়া উচিত। আর অন্য সবাই তথা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে আগ্রহীরা নির্বাচনে অংশ নিবেন, এমনটাই হওয়া উচিত বলে মনে করেন মুক্তি যোদ্ধা মনোতুষ মন্ডল।


দশ টাকার জন্য মাকে কুপিয়ে
মাত্র দশ টাকার গুলের দাম না দেওয়ায় পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে মাকে
বিস্তারিত
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনকে
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ জুন
বিস্তারিত
১০ ঘন্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে
কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনের কাছে হোম সিগন্যালে লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত
বিস্তারিত
চবিতে প্রকৌশলীর রুমে তালা, মুঠোফোনে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রকৌশল দপ্তরের এক প্রকৌশলীর রুমে তালা দেয়ার
বিস্তারিত
নদী দখলকারীরা যত ক্ষমতাশালীই হোক
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, যে
বিস্তারিত
আশুলিয়া থেকে হানিফ পরিবহনের সেই
আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকা থেকে হানিফ পরিবহনের সেই ঘাতক ড্রাইভার ইয়ার
বিস্তারিত