নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রেরণা

ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায় এবং তা আবশ্যিকও বটে। কারণ দেশে আইনের শাসন বা সুশাসনের নিশ্চয়তার জন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ হওয়াটা জরুরি। এ ধরনের অঙ্গীকারকে ইসলামও সমর্থন করে। সেই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- নিষিদ্ধ করে ঘোষণা করেছে যে, ‘যাদের হত্যা করা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন, তাদের ন্যায়সংগত কারণ 
ছাড়া হত্যা করো না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৩)

নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো (নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী) দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণ সাধনের প্রতিজ্ঞায় নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করে থাকে। সুন্দর সুন্দর কথামালায় সাজানো এসব ইশতেহার (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের) যদি ভোটার আকৃষ্টসহ প্রকৃত অর্থে মানবকল্যাণের নিয়তে ঘোষণা করা হয়, তবে তা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। এ ধরনের মানবকল্যাণী ইশতেহারকে ইসলাম পূর্ণ সমর্থন করে। কারণ মানুষকে মহান আল্লাহপাক কল্যাণের (পরস্পরের) জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১১০)। 

নির্বাচনের ইশতেহারে সাধারণত মানবকল্যাণী যেসব ইস্যু স্থান পায় বা পাওয়ার যোগ্য, সেসবের মধ্যে অন্যতম একটি হলো সুশাসন বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যে সুশাসন বা ন্যায়বিচার একটি আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য খুবই জরুরি। ইসলামও এ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাগিদ দিয়ে থাকে। সুুুুশাসন বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা দুটো দলের মাঝে ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে ফয়সালা করে দেবে এবং তোমরা ন্যায়বিচার করবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচারকদের ভালোবাসেন।’ (সূরা হুজরাত : ৯)।
অন্য আয়াতে তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায়ের ওপর সাক্ষী হয়ে অবিচল থাক। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা তোমাদের যেন কখনও সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো। কেননা এটি তাকওয়া বা খোদাভীতির অধিক নিকটতর।’ (সূরা মায়েদা : ৮)। 
ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায় এবং তা আবশ্যিকও বটে। কারণ দেশে আইনের শাসন বা সুশাসনের নিশ্চয়তার জন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ হওয়াটা জরুরি। এ ধরনের অঙ্গীকারকে ইসলামও সমর্থন করে। সেই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- নিষিদ্ধ করে ঘোষণা করেছে যে, ‘যাদের হত্যা করা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন, তাদের ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৩)। 
দুর্নীতি তথা ঘুষের লেনদেন, চুরি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অর্থ পাচার, জবরদখল ও অন্যের অধিকার হরণ ইত্যাদি নির্মূলের প্রতিশ্রুতিও লক্ষ করা যায়। এ প্রতিশ্রুতিকেও ইসলাম দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একই সঙ্গে ইসলাম দুর্নীতিবাজদের ভয়াবহ পরিণতির কথাও স্পষ্ট করেছে। যেমনÑ দুর্নীতির অন্যতম প্রধান বাহন ঘুষের লেনদেনকারীদের পরিণতির ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষখোর উভয়েই জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।’ (তাবারানি)।
চাঁদাবাজির ব্যাপারে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘অবৈধ চাঁদা আদায়কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (আবু দাউদ)। আত্মসাৎ বা জবরদখলের ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কারও এক বিঘত জমি জবরদখল করেছে, কেয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক জমি বেড়িরূপে পরিয়ে দেওয়া হবে।’ (বোখারি)।
ইশতেহারে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের অঙ্গীকারও স্থান পেয়ে থাকে। এটিকেও ইসলাম সমর্থন করে। সঙ্গে সঙ্গে সর্বকালের জন্য ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে। যেমনÑ আল্লাহপাক বলেন, ‘যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের জন্য রয়েছে লানত ও মন্দ আবাস বা জাহান্নাম।’ (সূরা রাদ : ২৫)। অন্য আয়াতে আল্লাহ আরও বলেন, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সূরা মায়েদা : ৩২)। 
দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতিও পাওয়া যায়। যাকে ইসলাম শুধু সমর্থনই করে না; বরং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, মজুতদারি এবং সিন্ডিকেট ঠেকানো ও বাজার তদারকির ব্যাপারে নির্দেশনাও দিয়েছে। যেমনÑ একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মজুতদার খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায়; তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি দর বেড়ে যায়; তবে আনন্দিত হয়।’ (মেশকাত)। বাজার তদারকির ব্যাপারে অন্য একটি হাদিসে এসেছে, ‘একবার রাসুল (সা.) কোনো এক খাদ্যবস্তুর স্তূপের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন; তখন তিনি খাদ্যবস্তুর স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন, এর ভেতর সিক্ত। তখন তিনি বললেন, হে খাদ্যের মালিক! এটি কী? জবাবে খাদ্যের মালিক বলল, হে আল্লাহর রাসুল! বৃষ্টির কারণে এরূপ হয়েছে। এ কথা শুনে বিশ্বনবী (সা.) বললেন, তুমি ভেজা খাদ্যশস্য ওপরে রাখলে না কেন? তাহলে তো ক্রেতারা এর অবস্থা দেখতে পেত (প্রতারিত হতো না)। (অতঃপর বললেন) যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য হবে না।’ (মুসলিম, মেশকাত)।
ইশতেহারে জনসমুদ্রকে জনসম্পদে রূপান্তরের ঘোষণাও থাকে। অর্থাৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৃদ্ধিসহ নানাবিধ প্রশিক্ষণ বা কর্মশালার মাধ্যমে বেকার বা কর্মহীন জনগণকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা থাকে। আর ইসলামও কীভাবে মানুষের কর্মের ব্যবস্থা বা কর্মমুখী করা যায়, সে নির্দেশনা পেশ করে। যেমন হাদিসে এসেছে, ‘একদা জনৈক সুস্থ-সবল এক লোক এসে মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে ভিক্ষা চাইলে তিনি ভিক্ষা না দিয়ে জানতে চাইলেন তার ঘরে কিছু সহায়-সম্বল আছে কি না? লোকটি বাড়ি থেকে একটি কম্বল নিয়ে এলো। নবীজি কম্বলটি বিক্রি করে পরিবারের জন্য কিছু খাবার আর একটি কুঠার কিনে আনতে বললেন। কুঠার নিয়ে এলে নবীজি নিজ হাতে হাতল লাগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এটি নিয়ে বনে যাও এবং কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো। ভিক্ষা করবে না, এতে পাপ হয়। কাঠ বিক্রি করে লোকটি সচ্ছল হয়েছিল।’ (আবু দাউদ)।
সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয় তথা স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করার অঙ্গীকার সর্বোপরি ধর্মীয় স্বাধীনতার কথাও ইশতেহারে বলা হয়। ইসলাম এ ব্যাপারটিকে শুধু সমর্থনই করে না; বরং এ স্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চিয়তাও প্রদান করেছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহপাকের ঘোষণা হলো, ‘দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই।’ (সূরা বাকারা : ২৫৬)। শুধু তা-ই নয়, রাসুল (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের সময় অমুসলিমদের ধর্ম, ধর্মীয় কৃষ্টি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা হতো। যেমন আবু বকর (রা.) এর আমলে হীরাবাসীদের সঙ্গে কৃত একটি চুক্তিপত্রে বলা হয়েছিল : ‘তাদের খানকা ও গির্জাগুলো ধ্বংস করা হবে না।’
জবাবদিহিতার বিধান নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে রাখা হয়। অবশ্য এটি নির্বাচনি ইশতেহারের অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত। কারণ জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন ও অন্যান্য কল্যাণকর কাজ টেকসই না-ও হতে পারে। তাই তো এ ব্যাপারটিতে গুরুত্ব দিতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর তোমরা প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বোখারি)। 
এভাবে ইশতেহারে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ও মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সুবিধা বৃদ্ধিকরণ ও মানোন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, প্রযুক্তিগত সেবা সাশ্রয়ীকরণ, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন, বিনিয়োগ বাড়ানো, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দরিদ্রপ্রবণ জেলা ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন তথা সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের অঙ্গীকার অতীতেও স্থান পেয়েছিল, চলতি সময়ে ও ভবিষ্যতেও পাবে এবং এ রকমই হওয়া আবশ্যক। সেই সঙ্গে নির্বাচনে জয়ী হলে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করাও আবশ্যক। কেননা আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করো, কেননা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৪)।
পক্ষান্তরে এ ইশতেহার যদি হয় লোকদেখানো বা শুধু কথার ফুলঝুরি; তবে তা অবশ্যই স্বভাব বর্জিত এবং ঘৃণ্য কাজ। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা নিজেরা করো না? আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ যে, তোমরা এমন কথা বলো যা করো না।’ (সূরা সফ : ২-৩)।
সঙ্গে সঙ্গে এরূপ ইশতেহার অবশ্যই প্রতারণা ও মিথ্যা বচন বা শপথ হিসেবে পরিগণিত হবে এবং এরূপ ইশতেহার পেশকারীরা মোনাফিকের পর্যায়ভুক্ত হবেন। কেননা রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে চারটি দোষ থাকবে, সে মোনাফেক, আর যার মধ্যে এর কোনো একটি দোষ থাকবে সে-ও মোনাফেক, যতক্ষণ সে তা বর্জন না করে। ১. যখন কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, ২. তার কাছে আমানত রাখলে খেয়ানত করে, ৩. কোনো ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, ৪. কারও সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে সীমা লঙ্ঘন করে।’ (বোখারি)।
এছাড়া ইশতেহারে কৃত প্রতিশ্রুতিসহ যে-কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আল্লাহ ভঙ্গকারীর ওপর লানত করেন। আল্লাহপাক বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে আমি তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে শক্ত করে দিয়েছি।’ (সূরা মায়েদা : ১৩)। 
সর্বশেষে কেয়ামতের দিনে প্রতিশ্রুত ভঙ্গকারীরা লাঞ্ছিত হবেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে এটি অমুকের ওয়াদা ভঙ্গের পতাকা।’ (বোখারি)।
অপরপক্ষে যারা নির্বাচনে হেরে যায় তথা ক্ষমতায় যেতে পারে না, তারা তো আগের ইশতেহার ভুলে যায়ই; উপরন্তু হরতাল বা ধর্মঘটসহ নানাবিধ ক্ষতিকর কর্মসূচি দিয়ে সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষতি করে। যেগুলো করাও নিষিদ্ধ বা হারাম। 
শেষকথা বলতে হয়, নির্বাচনের আগে যেমন উপযুক্ত বা যথার্থ ইশতেহার কাম্য, তেমনি নির্বাচনের পরে ইশতেহারের বাস্তবায়নও কাম্য এবং নির্বাচনে হেরে গেলে অধিকার আদায়ের নামে মানব কষ্টকর আন্দোলনও কাম্য নয়।

 


ইসলামে অকারণে গাছ কাটা নিষিদ্ধ
রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো মুসলিম গাছ লাগায়
বিস্তারিত
দুনিয়া আসক্তির ভয়ানক পরিণতি
কিছু সময়ের জন্য আমরা এ দুনিয়ায় এসেছি। এ কথাটি সাধারণত
বিস্তারিত
ইমাম বোখারি (রহ.) ও এক হাজার
ইমাম বোখারি (রহ.) একবার সমুদ্রপথে সফরে বেরিয়ে পড়লেন। সফরের পাথেয়
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী  পাঠ করো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেনÑ সৃষ্টি
বিস্তারিত
মসজিদে আকসার পুরাকীর্তি জাদুঘর
ইসলামি পুরাকীর্তি জাদুঘরটিকে পবিত্র মসজিদে আকসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন,
বিস্তারিত
ভ্যালেন্টাইনসের বদলে বোন দিবস!
  ভ্যালেন্টাইনস ডের নাম বদলে ‘বোন দিবস’ করেছে পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
বিস্তারিত