নবীজি (সা.) এর স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ

রাসুল (সা.) থেকে এক বিরল প্রতিশোধ!

মানবতার দিশারী রাসুলে করিম (সা.) জীবনে কোনো দিন কাউকে কষ্ট দেননি। তিনি আমাদের উত্তম আদর্শ। কেউ কষ্ট পাওয়ার দাবি করলে তার বদলা নেওয়ার জন্য সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে নিজেকে পেশ করে দিতেন। এতে কোনো কুণ্ঠাবোধও করতেন না। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি বদরের যুদ্ধে পেশ করেছেন। বদরের যুদ্ধে রাসুলে করিম (সা.) মুসলমানদের সারিবদ্ধ করে যুদ্ধের স্তর বিন্যাস দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে। তাঁর হাতে একটি তীর ছিল এবং সেটি দিয়ে তিনি কাতার সোজা করে দিচ্ছিলেন।
তখন সাহাবি সাওয়াদ ইবনে গাযিয়্যা (রা.) সারি থেকে একটু সামনে বেড়ে দাঁড়িয়েছিলেন। রাসুলে করিম (সা.) হাতের তীর দিয়ে তার পেটে সামান্য খোঁচা দিলেন এবং বললেন, সাওয়াদ! সোজা হয়ে দাঁড়াও! তখন সাওয়াদ (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি অনর্থক আমার পেটে গুঁতো দিয়েছেন, আমি ব্যথা পেয়েছি। তাই প্রতিশোধ না নিয়ে আপনাকে আমি ছাড়ছি না। তখন রাসুল (সা.) স্বীয় পেট মোবারক থেকে কাপড় সরিয়ে দিয়ে বললেন, ঠিক আছে এবার তুমি তোমার প্রতিশোধ নিয়ে নাও। তখন সাওয়াদ (রা.) তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাঁর পেট মোবারকে চুমু খেলেন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এমন কেন করলে সাওয়াদ?’ তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন সামনে কী উপস্থিত? তাই আমি চাচ্ছিলাম জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো আমার এভাবে কাটুক যে, আমার চামড়া আপনার চামড়ার সঙ্গে মিলিত হয়ে আছে। সবকিছু শুনে রাসুলে কারিম (সা.) তাঁর জন্য কল্যাণ আর মঙ্গলের দোয়া করলেন। (সূত্র : মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক : ৩/১৮৪)। 
আমরা রাসুল (সা.) এর এ আদর্শ ও সাওয়াদ (রা.) এর নবপ্রেমের শিক্ষা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে আবার শান্তিময় ব্যক্তিজীবন, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব পাব বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস। 

মুফতি জয়নুল আবেদীন 
মুহতামিম, শামসুল উলুম হুসাইনিয়া ইসলামিয়া কওমি মাদ্রাসা
আন্দিবাড়ী, দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ
ইনসাফের নবী

মহানবীর গোটা জিন্দেগি মহানুভবতায় আকীর্ণ। তার হাজারো গুণাবলির মধ্যে দুটি গুণ মানুষকে বিস্ময়ে বিমোহিত করে। একটি হলো তার শৈশবকালীন ন্যায় ইনসাফের অনুভূতি, অন্যটি দাওয়াতকালীন ক্ষমা ও ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা। শৈশবে মহানবী মোহাম্মদ (সা.) অসাধারণ ইনসাফময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্বের ইতিহাসে যা বিরল। শিশু মুহাম্মদ (সা.) ধাত্রী মা হালিমার গৃহে অবস্থানকালে কখনও দুধ মায়ের উভয় স্তন থেকে দুধ পান করেননি। সব সময় তিনি একটি স্তন থেকেই দুধ পান করতেন। অপরটি তাঁর দুধভাইয়ের জন্য রেখে দিতেন।  
আরেকটি মর্মস্পর্শী ঘটনা। তায়েফে যখন বিশ্বনবী ইসলামের মাধুর্য প্রচারে গেলেন, স্থানীয়রা নবীজির সঙ্গে এমন অবর্ণনীয় আচরণ করল, যার স্পর্ধা মক্কাবাসীরও কখনও হয়নি। সেটি ছিল মহানবীর জিন্দেগির কঠিনতম দিন। 
বোখারি-মুসলিমে বর্ণিত উম্মুল মোমেনিন আয়েশা (রা.) এর সঙ্গে নবীজির কথোপকথন থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মোহাম্মদ (সা.) টানা ১০ দিন তায়েফে অবস্থান করে তাদের সত্যোপলব্ধি করানোর চেষ্টা করেন। শিরক ও কুফরের অন্ধকার ছেড়ে ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার দাওয়াত দেন। কিন্তু সেখানকার তিন সর্দারই চূড়ান্ত অবমাননামূলক জবাব দেন। তারা নবীজির পেছনে তায়েফের দুষ্ট লোকদের লেলিয়ে দেন। নবীজি পথ অতিক্রম শুরু করলে দুশ্চরিত্র লোকেরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। পাথরের আঘাতে আঘাতে নবীজির পবিত্র দেহ রক্তরঞ্জিত হয়ে যায়। তাঁর জুতা মোবারকও রক্তে ফুলে ওঠে। সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হাততালি বাজিয়ে তারা বিকৃত উল্লাস করতে থাকে। আঘাতে জর্জরিত নবীজি এক সময় বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। এরপরও তিনি তাদের ধ্বংসের জন্য বদদোয়া করেননি। তায়েফের সফরে স্পষ্ট, দুশমনদের সঙ্গেও মহানবীর আচরণ-প্রতিক্রিয়া খুবই বিনম্র, উঁচু মাপের ছিল। 

খাইরুল ইসলাম তাজ 
এলএলএম, আইন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


রমজানের পরে আমলের ত্রুটির জন্য তওবা
বছরের সবগুলো মাসই ইবাদতের মৌসুম। যদিও মর্যাদা ও দায়িত্বের ভিন্নতা
বিস্তারিত
চলে গেলেন মিসরের প্রথম নির্বাচিত
গ্রামে থাকতেই হিফজ শেষ করেন এবং সেখানেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী ‘তারা হুর, যারা তাঁবুতে সুরক্ষিতা। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের
বিস্তারিত
কবি নজরুল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে জাতীয় কবি
বিস্তারিত
জান্নাত সম্পর্কে মহানবী (সা.)
  আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) আমাদের জন্য জান্নাত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে
বিস্তারিত
ফরজ গোসলের নিয়ম এবং যে
বিভিন্ন কারণে গোসল ফরজ হয়। আর ফরজ গোসল ইসলামি জীব
বিস্তারিত