রংপুর-১ গঙ্গাচড়ায় আসন লড়াই হবে রাঙ্গা ও বাবলুর মধ্যে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা ও প্রচারণায় তুঙ্গে রংপুর-১ গঙ্গাচড়ায় আসন। বিএনপি অবস্থান তত সুদৃঢ় নয় তবে জামায়াতের ভীত আছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বহীনতায় বিএনপি প্রায় উধাও।

এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী পাননি মনোনয়ন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিয়েছে নাগরিক ঐক্যের শাহ রহমত উল্লাহকে। যার তেমন পরিচিতি নেই, ভিত্তিও নেই। ফলে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা আরো হতাশ।

এ অবস্থায় গঙ্গাচড়ার ভোটারদের অভিমত, ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মহাজোটের প্রার্থী মসিউর রহমান  রাঙ্গা ও স্বতন্ত্র  প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু । দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতারও আভাস পাওয়া গেল নানা শ্রেণির মানুষের কথায়।

এ আসনে (গঙ্গাচড়া-আংশিক সিটি) মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, বিএনপির শাহ মো. রহমতুল্লাহ,  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোক্তার হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইশা মোহাম্মদ সবুজ এবং স্বতন্ত্র সি এম সাদিক ও আসাদুজ্জামান বাবলু প্রতিদ্বন্দ্বীতায় করছেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি হন বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এবারও লাঙল প্রতীক নিয়ে তিনি মহাজোটের প্রার্থী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু। মহাজোট থেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে মোটরগাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন তিনি।

গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকাবাসী জানায়, উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত সাত ইউনিয়নের ৩৩টি চরাঞ্চলের মানুষ নির্বাচনের ফলাফলে গড়ে দিতে পারে ব্যাপক পার্থক্য। আর এসব চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে বাবলুর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগত্য লক্ষণীয়। জয়রামওঝা চরের বাসিন্দা কেরামত আলী নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর এককথা হামার এলাকার ছাওয়া (সন্তান) বাবলু।কলেজ শিক্ষক  সোহেল মিয়া, রিক্স্রা চালক  বাবলা মিয়া, প্রক্রিকা বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন এবার সে রাঙ্গাকে কাহিল করি ফেলাইবে।

অন্যদিকে শংকরদহ চরের বাসিন্দা ইসহাক আলী , নজরূল ইসলাম বলছিলেন, নাঙ্গলই তো হামার মার্কা। ভোটতএবারও রাঙ্গা পাস করবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোরেশোরে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। নানা ছন্দে, গানের সুরে মাইকিং চলছে পাড়া-মহল্লা থেকে শহরের অলি-গলি সর্বত্র। প্রার্থীদের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।কিন্তু এই প্রচার শুরু মহাজোট প্রার্থীর ক্ষেত্রে। অন্যদের তেমন নেই।

রংপুর-১ আসনে এখনো লাঙলপ্রেমী ভোটার বিপুল। অনেকেই লাঙল ছাড়া কিছুই বোঝে না। যেহেতু এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব সংকটে, তাই এবারও চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারবেন জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গা। তৃণমূল থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসা আসাদুজ্জামান বাবলু উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি ও বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এরও আগে তিনি ছিলেন গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এবারও তিনি জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো: সাদিকুল আলম (সি এম সাদিক)। তিনি নির্বাচন করবেন সিংহ মার্কা নিয়ে।  স্থানীয় একটি পত্রিকার  প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি । াতান একমাত্র বহিরাগত এমপি বিরোধী আন্দোলনকারী। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় এমপির দাবী করে আসছেন। এই দাবী আদায়ের জন্য তিনি কুড়ালের আঘাতে গুরুতর জঘম হয়েছেন। তিনি বলেন আমাকে হত্যা করার জন্য গুলি ছুড়লে প্রাণে বেঁচে যাই। আমাকে মামলাদিয়ে হয়রানী করা হয়। তিনি বলেন বর্তমান এমপি এ এলাকার বাসিন্দা নন।

আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর-১ আসনে স্থানীয় কোনো প্রার্থী নেই। সবাই ছিলেন বহিরাগত। এলাকার সন্তান হিসেবে দেখেছি, গঙ্গাচড়া অর্থনৈতিকভাবে খুব পিছিয়ে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। সেই উন্নয়নের ধারা আমি গঙ্গাচড়ার তৃণমূলেও পৌঁছে দিতে চাই।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন,তিস্তা সেতু, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসনসহ এলাকার রাস্তঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ ছাড়াও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। গঙ্গাচড়ার হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে অর্থনৈতিক জোন, ইপিজেড নির্মাণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে।

রাঙ্গা আরো জানান, গঙ্গাচড়ার ব্যাপক উন্নয়নের কারণে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। তিস্তা নদী শাসনে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। নদীশাসনসহ চলছে নানা উন্নয়ন প্রকল্প। এসব কারণে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেছেন, গত পাঁচ বছরে গঙ্গাচড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আরো উন্নয়ন করা হবে। গঙ্গাচড়া যাতে আর উন্নয়ন থেকে পিছনে ফিরে না যায় এজন্য আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির সাথে থাকতে হবে। লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিতে হবে। সোমবার সন্ধ্যায় গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভাতে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঙ্গাচড়াকে সারাদেশের মধ্যে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিস্তা নদী বিধৌত গঙ্গাচড়াতে আগামীতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এখানে অভাব থাকবে না। উন্নয়নের পথধরে এখানকার মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। এজন্য মহাজোটের প্রার্থী ভোট দিতে হবে। লাঙ্গলের জয় হলেই গঙ্গাচড়া উন্নয়ন হবে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী সাথে গঙ্গাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক রুহুল আমিন, যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, সাইয়েদুল ইসলাম মাস্টার, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী সামছুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাপা নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সদস্য আব্দুল আউয়াল পাভেল, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকসহ মহাজোটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে মহাজোট প্রার্থী জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর (লাঙ্গল) বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু (মোটরগাড়ি)।

সোমবার বিকেলে গঙ্গাচড়ার নিজ বাসভবনে বাবলু সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা ও তার কর্মী বাহিনী তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।  রোববার মহিলা গালর্স স্কুল এলাকাসহ ২টি নির্বাচনী অফিস ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। বাবলু’র কর্মীকে লাঞ্ছিত করাসহ ২টি মোটরসাইকেল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

বাবলু বলেন, প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করেছেন, তা পদে পদে প্রমাণ রেখে গেছেন। তিনি নিজে দেশের সবচেয়ে বড় গুন্ডা বলে একাধিক জায়গায় বলেছেন। চলতি মাসের ৩ তারিখের পর নির্বাচনের মাঠে থাকতে পারবো না এমন হুমকিও দিয়েছেন। এতে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে। ভোটারদের ভালোবাসায় এত হুমকি থাকা স্বত্তে¡ও আমি নির্বাচনের মাঠে রয়েছি।

বাবলু অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে কাশিয়া বাড়ি এলাকার কফিল উদ্দিনের পুত্র মোফা নামে এক কর্মীকে মোটরগাড়ি মার্কায় প্রচারণার সময় পুলিশ দ্বারা তাকে আটক করিয়েছে রাঙ্গা। যদিও তাকে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে ওই কর্মী আমার নির্বাচনের প্রচারণায় আর অংশ নেয়নি।

রাঙ্গার পক্ষে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে অভিযোগ এনে বাবলু বলেন, গঙ্গাচড়া থানার ওসি ভোটে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে কাজ করছেন। এতে করে নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক থাকছে না। আমার কর্মী-বাহিনী রাঙ্গার সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশের ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছে। ভোটাররাও শংঙ্কায় রয়েছে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে কি না।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মকান্ড চালাচ্ছে রাঙ্গা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন যদি ২টিও ভোট পান তবে তিনি নির্বাচিত হবেন এমন প্রতিশ্রæতি প্রধানমন্ত্রী তাকে দিয়েছেন।  

বাবলু বলেন, ইতোপূর্বে রাঙ্গার বিরুদ্ধে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা’র এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর আমি আবারও অভিযোগ দেব।

রংপুর-১ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে দীর্ঘদিন ধরেই। এ আসনে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শিল্পপতি করিম উদ্দিন ভরসা জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গা, ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবার এমপি নির্বাচিত হন মসিউর রহমান রাঙ্গা।

সাম্প্রতিক সময়ে এই আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশনের আটটি ওয়ার্ড। সব মিলিয়ে এখানে ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৫। এর মধ্যে নতুন যুক্ত হওয়া রংপুর সিটি করপোরেশনের আটটি ওয়ার্ডের ভোটার ৮৫ হাজার।


দশ টাকার জন্য মাকে কুপিয়ে
মাত্র দশ টাকার গুলের দাম না দেওয়ায় পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে মাকে
বিস্তারিত
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনকে
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ জুন
বিস্তারিত
১০ ঘন্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে
কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনের কাছে হোম সিগন্যালে লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত
বিস্তারিত
চবিতে প্রকৌশলীর রুমে তালা, মুঠোফোনে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রকৌশল দপ্তরের এক প্রকৌশলীর রুমে তালা দেয়ার
বিস্তারিত
নদী দখলকারীরা যত ক্ষমতাশালীই হোক
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, যে
বিস্তারিত
আশুলিয়া থেকে হানিফ পরিবহনের সেই
আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকা থেকে হানিফ পরিবহনের সেই ঘাতক ড্রাইভার ইয়ার
বিস্তারিত