দুর্ঘটনা ও উপলব্ধি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মিক সুস্থ হলো। ওইদিনের দুর্ঘটনায় সে বুঝতে পারল তার পরিচিত লোকজন তাকে কত ভালোবাসে। তারা তার প্রতি কতটা যতœশীল। এ ঘটনার পর মিক খুব আত্মবিশ^াসী হলো। সে তার জীবনকে আগের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে শিখল

মিকের পরিবার ছোট একটি শহরের কাছাকাছি বসবাস করে। মিক মাঠ ও গ্রামের পথ ধরে বনের ভেতরের রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত সাইকেলে করে স্কুলে যেত। রাস্তাটি দেখতে ছিমছাম, খুব সুন্দর ছিল। তার পাশেই কলকল বইছে একটি নদী। নদীটি গভীর নয়। কিন্তু এর স্রোত খুব বেশি। নদীর তীর ও তলদেশ পাথরে ভরা। মিক কখনও এ নদীতে সাঁতার কাটার চেষ্টা করেনি। কারণ সাঁতার কাটতে গেলে নদীতে থাকা পাথরের আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তার জীবনে একটি মারাত্মক ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত নদীটিকে তার কাছে খুব সুন্দর মনে হতো।
সেদিন মিক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। এমন সময় মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত তাকে স্কুলেই অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি পুরোপুরি থামলে সে সাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলো। বাড়ির রাস্তাটি পিচঢালা ছিল না। বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি স্বাভাবিকভাবেই পিচ্ছল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মিকের কাছে ব্যাপারটিকে ভয়াবহ বলে মনে হয়নি। সে আগে অনেকবার এ রাস্তা দিয়ে সাইকেলে করে বাড়ি গিয়েছিল। তাই সে নিশ্চিন্ত মনে সাইকেল চালিয়ে রওনা হলো। একটা সময় সে নদীর পাড়ের উঁচু একটি জায়গায় এসে পৌঁছল। বৃষ্টির কারণে নদীর পানি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। স্রোত প্রবল বেগে গর্জন করে সামনের দিকে যাচ্ছিল। এসব দেখতে দেখতে হঠাৎ মিক তার সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সে সাইকেলকে বামদিকে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা পারেনি। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাইকেলটি রাস্তার ঢাল বেয়ে সোজা নদীতে গিয়ে পড়ল। নদীতে পানি বেশি থাকায় মিক পা দিয়ে তলদেশ স্পর্শ করতে পারেনি। দ্রুতই তার সাইকেলটি পানির নিচে ডুবে যায়। সে নিজে পানিতে হাবুডুবু  খাচ্ছিল। চারদিকে তাকিয়ে আত্মরক্ষার জন্য মিক কোনো কিছ্ইু খুঁজে পেল না। মিক ভালো সাঁতার জানে না। মনে হচ্ছিল এই বুঝি সে ডুবে যাবে। তবু মিক পানির ওপর মাথা রেখে যথাসম্ভব সাঁতার কাটা শুরু করল। সে সারাজীবন শুনেছে কেউ যখন নদীতে পড়ে যায়, তার উচিত সাঁতরে তীরের দিকে আসা। কিন্তু মিকের ওই সময় হিতাহিত জ্ঞান ছিল না। তীরের কথা তার ভাবনায় আসেনি। উল্টো মিক আরেকটি ভুল করে বসল। সে নিজের অজান্তেই স্রোতের বিপরীতে সাঁতরাতে চেষ্টা করছিল। প্রবল ঢেউয়ে সে পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগল। অনেক চেষ্টা করেও সে নিজেকে ভালোভাবে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে পারল না।
আত্মরক্ষা করতে না পেরে মিক যখন ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করে উঠল, তখন তার মুখে আরও পানি ঢুকে গেল। সে শ্বাস নিতে পারছিল না। মৃত্যুভয় তাকে আরও জেঁকে ধরল। তার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল, অক্সিজেনের অভাবে সে এখনই অজ্ঞান হয়ে যাবে।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে মিকের চোখের সামনে তার সারা জীবনের ছবি ভেসে উঠল। কখনও কখনও তার ভাই-বোন তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখত। কিন্তু তারা মিককে খুব ভালোও বাসত। মনে পড়ল বাবা-মায়ের শাসন ও স্নেহের কথা। চোখের সামনে হাজির হলো দাদা-দাদির মুখখানি। তারা তাকে কতই না ভালোবাসে! একদিনও তার সঙ্গে দাদা-দাদি রাগের স্বরে কথা বলেনি। এটাও সত্য, স্কুল জীবন তার মাঝে মাঝে ভালো লাগত না। আজ নদীতে ডুবে যেতে যেতে স্কুলের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর কথাও মনে পড়ল। আজ সে যদি মারা যায় তবে হয়তো তার কুকুরটি মাসের পর মাস তার জন্য অপেক্ষায় থাকবে। আরও কত কিছু মনে পড়ছে। প্রতিবেশী একটি মেয়েকে খুব করে মনে পড়ছে। যাকে সে পছন্দ করে। কিন্তু ওই মেয়েকে এ কথা বলার সাহস সে পায়নি কখনও। এরপর মিক মনে মনে আর কী কী ভেবেছিল তার আর মনে নেই।
মিক চোখ খুলে দেখল সে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে আছে। তার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। কিন্তু কি আশ্চর্য, সে এখনও বেঁচে আছে! মিক দেখল, তার বাবা ভেজা শরীরে উদ্বেগ নিয়ে তার পাশে বসে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সে আবারও জ্ঞান হারাল।
মিক যথাসময়ে স্কুল থেকে না ফিরলে মিকের বাবা তাকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। নদীর তীরে পৌঁছে তিনি সাইকেল পানিতে পড়ার দাগ মাটিতে দেখতে পেলেন। মুহূর্তেই তিনি সবকিছু বুঝতে পারলেন। দেরি না করে তিনি মিককে খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাকে কোথাও দেখতে পেলেন না। তিনি আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দিলেন। খবর পেয়ে সবাই এসে মিককে খুঁজে পেলেন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অচেতন অবস্থায়। সে শিকড় প্যাঁচানো ছিল। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলো। ডাক্তার জানাল, মিকের কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে ওইদিন সন্ধ্যায় মিকের বাবার হৃদক্রিয়া বন্ধের উপক্রম হলো।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মিক সুস্থ হলো। ওইদিনের দুর্ঘটনায় সে বুঝতে পারল তার পরিচিত লোকজন তাকে কত ভালোবাসে। তারা তার প্রতি কতটা যতœশীল। এ ঘটনার পর মিক খুব আত্মবিশ^াসী হলো। সে তার জীবনকে আগের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে শিখল। হ
(‘এক্সুয়েলি হ্যাপেনড’ ইউটিউব সাইট অবলম্বনে। 
গল্পকারের নাম জানা যায়নি) 


ছড়া লেখা
  ইচ্ছে হলেই যায় না লেখা ছড়া ছন্দ খুঁজে  পাই না
বিস্তারিত
মাকে খুঁজি
      মাগো তুমি হারিয়ে গেছ শিশির ভেজা প্রাতে। মাগো তুমি হারিয়ে গেছ
বিস্তারিত
বাবা আমার
কখন বাবা ফিরবে বাড়ি?  পথটি চেয়ে থাকি বাবার আদর পেতেই
বিস্তারিত
বর্ষা আসে
বর্ষা আসে এই বাংলায় বৃষ্টি পড়ে টুপ, হই চইটা আর
বিস্তারিত
ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে হঠাৎ করে  হারাই কোনো বনে, মনটা খুলে কথা
বিস্তারিত
বাবার কথা মনে পড়ে
ছোট্ট খুকি টুনটুনিটা দৌড়ে যখন আসে দৌড়ে এসে গা ঘেঁষে
বিস্তারিত