সাহাবায়ে কেরামের কোরআনপ্রেম

আল্লাহ তায়ালা যেভাবে সর্বশেষ গ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে এ মহান গ্রন্থের সার্বিক সংরক্ষণেরও সমূহ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিশেষত উম্মতে মুহাম্মদির সর্বপ্রথম প্রজন্ম সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন এ সংরক্ষণ কর্মের অতন্দ্র প্রহরী। আল্লাহ তায়ালা ওইসব পুণ্যাত্মাকে এ মহৎ কাজের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। সংরক্ষণের সম্ভাব্য সব পথই তারা অবলম্বন করেছেন। আজকের এ সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে কোরআন সংরক্ষণে সাহাবিদের কর্মপদ্ধতি বা কৃতিত্ব নিয়ে আলোচনা করা প্রতিপাদ্য নয়, বরং এখানে এ সংরক্ষণকর্মের সফলতার পেছনে থাকা একটি মৌলিক কারণের প্রতি দৃষ্টিপাত করাই উদ্দেশ্য। আর সেটা হলো কোরআনের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের অগাধ ভালোবাসা। কোরআনের প্রেমে তারা বুঁদ হয়েছিলেন। তাদের কোরআন তেলাওয়াত এবং সেটার চর্চা ছিল প্রবাদপ্রতীম।

এখানে তিনটি চিত্র বা দৃষ্টান্ত লক্ষণীয় :
এক. আমর ইবনে সালামা (রা.) ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহাবি। তার অঞ্চলের লোকজন ইসলাম গ্রহণ করেন মক্কা বিজয়ের পর। বস্তুত তার বাবাই ছিলেন নিজ গোত্রের সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি। নবীজি (সা.) তাদের গোত্রের লোকজনকে ইসলাম গ্রহণের পর কয়েকটি ধর্মীয় বিষয় শিখিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ‘নামাজের সময় হয়ে গেলে তোমাদের একজন আজান দেবে আর তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি কোরআন (জানে) পড়তে পারে সেই নামাজের ইমামতি করবে।’ এবার অনুসন্ধান করে দেখা গেল আমর ইবনে সালামাই হলেন কোরআনের সর্বাধিক অংশের হাফেজ। অথচ তখন তার বয়স ছিল ছয় কিংবা সাত! সবাই অবাক হলেন! এত কমবয়সী একজন নওমুসলিম বালক কীভাবে এত বেশি আয়াত ও সূরা মুখস্থ করতে পারল? এ ব্যাপারে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমাদের ঘর হচ্ছে লোকজনের যাতায়াতের পথের পাশে। অন্যদিকে ঘরের পাশেই ছিল পানির একটি কূপ। সেজন্য সাহাবিরা যাতায়াতের সময় এ রাস্তা ব্যবহার করতেন এবং পানি সংগ্রহের জন্য এ কূপের কাছে বিশ্রাম নিতেন। আর ওই সময় তারা কেরআনের চর্চায় নিয়োজিত থাকতেন। বস্তুত তাদের থেকে শুনতে শুনতে কোরআনের অনেক অংশই আমার মুখস্থ হয়ে যায়! (বিস্তারিত দেখুন, বোখারি : ৪০৫১)।
সুবহানাল্লাহ! কোরআনের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের কী অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল! শুধু বাড়িতে থাকাবস্থায় নয়, বরং বাইরে সফরের অবস্থায়ও তারা কোরআনের চর্চা অব্যাহত রাখতেন।
দুই. অনেক ক্ষেত্রে আমরা কোনো কাজের জন্য সময়ের অনুমান করি। অমুক কাজটি করতে এ পরিমাণ সময় লাগবে। আজকাল হয়তো মিনিট-ঘণ্টা বলা হবে। তারপরও আমরা কখনও এভাবে সময় নির্ধারণ করি যে, ঘর থেকে মসজিদ পর্যন্ত কিংবা শপিংসেন্টার পর্যন্ত যেতে যে পরিমাণ সময় লাগবে; এ কাজটি সম্পন্ন করতে সে পরিমাণ সময় ব্যয় হবে। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের সমাজে সময় নির্ধারণ বা অনুমান করতেন কোরআনের কতটি আয়াত তেলাওয়াত করা যাবেÑ সেটা দিয়ে। যেমনÑ সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, একরাতে নবীজি (সা.) এবং জায়েদ বিন সাবিত (রা.) সাহরি খেলেন এবং তারপর নবীজি নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমি জায়েদকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের সাহরি খাওয়া এবং নবীজির নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যবর্তী সময়টা কেমন লম্বা ছিল? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন, একজন ব্যক্তি কোরআনের ৫০টি আয়াত তেলাওয়াত শেষ করতে যে পরিমাণ সময় লাগবে। (বোখারি : ১৮২১)।
তিন. সাহাবায়ে কেরামের সমাজে যখন একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা হতো তখন জিজ্ঞেস করতেন, প্রাত্যহিক কী পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত করেন অথবা রাতে বিশেষত তাহাজ্জুদ নামাজে আপনি কতটি আয়াত তেলাওয়াত করেন? এটি তাদের সামাজিক একটি রীতিতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। যেমনÑ নবীজি (সা.) সাহাবি আবু মুসা আশআরি (রা.) এবং সাহাবি মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) উভয়জনকে ইয়েমেনের (দুই অংশের জন্য) গভর্নর ও শিক্ষক বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর মাঝে-মধ্যে তারা একজন আরেকজনকে দেখতে যেতেন, খোঁজখবর নিতেন। তো একবার মুআজ আসেন আবু মুসা আশআরির কাছে। তাদের কথাবার্তার সূচনা কীভাবে হয় সেটি লক্ষ করা দরকার। মুআজ প্রথমেই আবু মুসাকে জিজ্ঞেস করেন, রাতে তাহাজ্জুদ নামাজে আপনি কী পরিমাণ তেলাওয়াত করেন? পরে আবু মুসাও মুআজকে একই প্রশ্ন করেছিলেন। (বোখারি : ৪৩৪২)।
সংক্ষিপ্তভাবে তিনটি উদাহরণ পেশ করলাম। ইতিহাস গ্রন্থাদি এ জাতীয় ঘটনায় ভরপুর। সাহাবায়ে কেরাম শুধু তেলাওয়াত করে ক্ষান্ত হতেনÑ এমন নয়, কোরআনের শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রেও তারা সমানভাবে মনোযোগী ছিলেন। প্রতিভাবান তরুণ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এর একটি উক্তি থেকে বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি সূরা আল বাকারাহ শিখেছি পুরো আট বছরে!’ (মুয়াত্তা মালিক : ৪৭৯)। এর অর্থ এই যে, তিনি সূরা বাকারাহ মুখস্থ করা ছাড়াও এর যাবতীয় প্রাসঙ্গিক শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে আট বছর অতিবাহিত করেছেন। আর এটা তো বলাবাহুল্য যে, শিক্ষাই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য ছিল না, বরং তদানুসারে আমলও তারা করতেন। তারা বলতেন, ‘আমরা যুগপৎ ইলম ও আমলের শিক্ষা লাভ করেছি।’ (তাফসিরু মুজাহিদ, বর্ণনা : ১)।


রমজানের পরে আমলের ত্রুটির জন্য তওবা
বছরের সবগুলো মাসই ইবাদতের মৌসুম। যদিও মর্যাদা ও দায়িত্বের ভিন্নতা
বিস্তারিত
চলে গেলেন মিসরের প্রথম নির্বাচিত
গ্রামে থাকতেই হিফজ শেষ করেন এবং সেখানেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী ‘তারা হুর, যারা তাঁবুতে সুরক্ষিতা। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের
বিস্তারিত
কবি নজরুল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে জাতীয় কবি
বিস্তারিত
জান্নাত সম্পর্কে মহানবী (সা.)
  আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) আমাদের জন্য জান্নাত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে
বিস্তারিত
ফরজ গোসলের নিয়ম এবং যে
বিভিন্ন কারণে গোসল ফরজ হয়। আর ফরজ গোসল ইসলামি জীব
বিস্তারিত