জাহান্নাম চিরস্থায়ী কেন?

কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন না করার অপরাধে কাফেরদের কেন চিরকালের জন্য জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে? বিবেকের দাবি হলো, লোকটি যেহেতু দুনিয়ার জীবনে ৫০ বছরের জন্য কাফের ছিল সেহেতু জাহান্নামেও ৫০ বছর শাস্তি ভোগ করবে এবং পরে মুক্তি লাভ করবে? অথবা এই ৫০ বছরকে দশগুণ করে ৫০০ বছরের শাস্তি হতে পারে; চিরকালের জন্য কেন?

মূলকথা হলো, কোরআন ও হাদিসের অকাট্য প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত, কাফেররা জাহান্নামে চিরকাল শাস্তি ভোগ করতে থাকবে; এর কোনো পরিসমাপ্তি হবে না। এবার প্রশ্নের জবাব অনুধাবন করার জন্য কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় :
এক. শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবসময় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার মেয়াদ বিবেচনাধীন থাকে না, বরং অপরাধের মাত্রা ও পরিমাণই হয় বিবেচ্য। আমাদের বৈশ্বিক বিচারালয়গুলোর দিকেই লক্ষ করুন! যেমন এক ব্যক্তি কোনো একটি অপরাধ করে ফেলল; এতে সময় ব্যয় হয়েছে মাত্র আধাঘণ্টা। কিন্তু এর কারণে অপরাধীকে এক বছর বা তার চেয়ে কম-বেশি মেয়াদের জন্য কারাগারে বন্দি রাখা হয়। কেউ হয়তো মাত্র কয়েক মিনিটে আরেকজনকে হত্যা করে ফেলল; কিন্তু আইনানুযায়ী এ হত্যাকারীর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ- হওয়া স্বাভাবিক। কেউ হয়তো মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এমন কোনো বাক্য উচ্চারণ করে ফেলেছে; যার কারণে তাকে মাস কিংবা বছরের জন্য জেলে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। পার্থিব বিবেচনায়ও এটি অনৈতিক কিংবা বিবেক-বুদ্ধির পরিপন্থি মনে করা হয় না। দুনিয়ার তাবৎ আইনকানুন এ বিষয়ে একমত। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা কুফর ও শিরকের মতো জঘন্যতম অপরাধের জন্য কাউকে পরকালের জীবনে চিরকালের জন্য জাহান্নামের শাস্তি নির্ধারণ করতেই পারেন।
দুই. অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটিও বিবেচ্য যে, এ অপরাধ কার সঙ্গে করা হয়েছে বা এর প্রভাব কার ওপর পড়ছে? যেমন হত্যা আর চুরি দুটিই অপরাধ। কিন্তু উভয়টির শাস্তি সমান নয়। কেননা হত্যার অপরাধ মানুষের প্রাণের সঙ্গে জড়িত আর চুরির অপরাধ মানুষের মালের সঙ্গে জড়িত। তেমনি এক ব্যক্তি একজন মেয়রকে গালি দিল, আরেক ব্যক্তি একজন মন্ত্রীকে গালি দিল এবং অপর ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধানকে গালি দিল; এসবই দেশীয় আইনে অপরাধ। কিন্তু শাস্তি সমান হবে না। কেননা যে মেয়রকে গালি দিল বা অসম্মান করল তার অপরাধ একটি শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যে মন্ত্রীকে অসম্মান করল তার অপরাধ আরও বড় আর যে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধানকে গালি দিল বা অপমান করল তার অপরাধ জঘন্যতম এবং পুরো দেশকে সে জড়িত করে ফেলল। বস্তুত সে যেন এই প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনকারী জনগণের সঙ্গে অপরাধ করল। সুতরাং অপরাধ কার সঙ্গে সংঘটিত হয়েছে সেটাও দুনিয়ার আদালতে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আর মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সঙ্গে কুফরি করে যে অপরাধ করল সে যেন পুরো সৃষ্টিজগতের সঙ্গে অপরাধ করল। অতএব, এরকম অপরাধের সাজা চিরকাল জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করা হতেই পারে।
তিন. এখানে শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আরেকটি বিষয় স্মর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তারা (কাফেররা) পুনঃপ্রেরিত হয় তবুও তাই করবে; যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।’ (সূরা আনআম : ২৮)। তার মানে এই কাফের যদিও ৫০ বছরের জীবন পেয়ে কুফরি করেছিল, কিন্তু সর্ববিষয়ে অবগত মহান আল্লাহ জানেন, সে ৫০ নয় ৫০০ বছরের জীবন পেলেও কুফরি ছাড়বে না। সুতরাং অপরাধটি আল্লাহর নির্ভুল জানা মতে ৫০ বছরের নয়, আজীবনের। কেননা লোকটির হৃদয়ে ঈমান ও হেদায়েত থাকলে তার মৃত্যুর আগেই আল্লাহ তাকে পথপ্রদর্শন করে দিতেন। আল্লাহ বলেন, ‘বস্তুত আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কিছুমাত্র শুভ চিন্তা জানতেন, তবে তাদের শুনিয়ে দিতেন। আর এখনই যদি তাদের শুনিয়ে দেন, তবু তারা মুখ ঘুরিয়ে পালিয়ে যাবে।’ (সূরা আল আনফাল : ২৩)। সুতরাং এই শাস্তি তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনোভাবেই জুলুম নয়। আল্লাহ তায়ালা তো ওই ব্যক্তিকে পার্থিব জীবনে সুযোগ দিয়েছিলেন ফিরে আসার জন্য; কিন্তু সে ফিরে আসেনি! আল্লাহ বলবেন, ‘আমি কি তোমাদের এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সূরা ফাতির : ৩৭)।
সর্বোপরি এ পুরো সৃষ্টিজগত যেহেতু এক আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি ও মালিকানাধীন। সুতরাং তিনি নিজ রাজত্ব ও মালিকানায় তার ইচ্ছেমতো বিধান জারি করতেই পারেন এবং যে কোনো শাস্তি নির্ধারণ করতেই পারেন। এটি তাঁর অধিকার। এখানে কারও অংশীদারিত্ব নেই। ‘আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?’ (সূরা ত্বিন : ৮)। 

তুরস্কের ইস্তানবুলে অবস্থিত ইবনে খালদুন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক, ড. হামজা আল বাকরির একটি আরবি লেকচারের সংক্ষেপিত ভাষান্তর করেছেনÑ মাহফুয আহমদ


প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইসলাম
ইসলামে ফলদ বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোকে সবিশেষ সওয়াবের কাজ হিসেবে
বিস্তারিত
বনভূমির প্রয়োজনীয়তা ও আমাদের অবস্থান
মহিমাময় স্রষ্টার কুদরতি হাতের ছোঁয়ায় আমাদের চারপাশে গড়ে উঠেছে সবুজ
বিস্তারিত
সৃষ্টির সেবায় এগিয়ে আসার দায়িত্ব
সেবার অর্থ কারও প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া ও সাহায্য করা। আর
বিস্তারিত
প্রিয় মুরসি, আপনি আমাদের মাঝে জীবিতই!
আমর দারাজ মিসরীয় সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক ও পরিকল্পনামন্ত্রী  আপনি জীবিত! কারণ আপনার
বিস্তারিত
মুরসিকে নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস
মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের
বিস্তারিত
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের জের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি সাইবার
ওমান উপসাগরে বৃহস্পতিবার তাদের একটি অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত করার বদলা
বিস্তারিত