বিনয় ও নম্রতা হৃদয় জয়ের চাবি

উত্তম চরিত্রের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো বিনয় ও নম্রতা। এ গুণটির মাধ্যমে সহজেই কাউকে কাছে টানা যায়, কারও হৃদয় জয় করা যায়। শত্রুকে  বশে আনতে, আদর্শকে বিজয়ী করতে বিনয়ের তুলনা নেই। আল্লাহ তায়ালা বিনয় ও নম্রতার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার অনুসারী মোমিনদের প্রতি বিনয়ী হোন।’ (সূরা আশ-শুয়ারা : ২১৫)। তাই তো বিনয়ের গুণে গুণান্বিত ছিলেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও উন্নত আদর্শের প্রতীক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।  মহান আল্লাহ তাঁর বিনয়ের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর বিশেষ দয়ায় আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হয়েছেন। যদি আপনি বদমেজাজি ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে লোকেরা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯)।  রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আমার কাছে ওহি পাঠালেন যে, তোমরা পরস্পর নম্রতা অবলম্বন করো। যাতে কেউ যেন কারও ওপর গর্ব না করে এবং কেউ যেন কারও ওপর অত্যাচার না করে।’ (মুসলিম : ৭৩৮৯)। আরও এসেছে, ‘যে নম্রতা থেকে বঞ্চিত, সে তো কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।’ (মুসলিম : ৬৭৬৩)। ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে একদল বিনয়ী লোকের প্রয়োজন। যারা সব ধরনের অন্যায়, অবিচারকে বিনয়ের শক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় যারা হবে কোমল এবং অন্যায়ের ব্যাপারে যারা হবে প্রতিবাদী, কঠোর।  
বিনয়ের ওপর নির্ভর করে উত্থান ও পতন, নেতৃত্বের সুউচ্চ আসন। কোরআনের ভাষায়, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি দ্বীন থেকে ফিরে যায়, আল্লাহ এমনিতর আরও বহু লোক সৃষ্টি করে দেবেন, যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন এবং তারা আল্লাহকে ভালোবাসবে, যারা মোমিনদের ব্যাপারে কোমল ও কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর হবে, যারা আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা ও সাধনা করে যাবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে চান তাকে দান করেন। আল্লাহ ব্যাপক উপায়-উপকরণের অধিকারী এবং তিনি সবকিছুই জানেন।’ (সূরা মায়িদা : ৫৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দান করার ফলে সম্পদ কমে না। ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ব্যক্তির সম্মানই বৃদ্ধি করে থাকেন। আল্লাহর জন্য যদি কেউ বিনয় প্রকাশ করে তবে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তার মর্যাদা সুউচ্চ করেন।’ (তিরমিজি : ২০২৯, মুসলিম : ২৫৯০, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৬৫, ইবনে খুযাইমাহ : ২২৮২)। 
বিনয়ী ব্যক্তি হাশরের মাঠেও পাবেন বিশেষ মর্যাদা। হাদিসের ভাষায়, ‘সার্মথ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে বিনয়ের পোশাকে যে নিজেকে আবৃত করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের ময়দানে তাকে ডেকে সব সৃষ্টির সামনে নিয়ে আসবেন এবং তাকে তার পছন্দমতো একজোড়া ঈমানের পোশাকে সুসজ্জিত করে সাজাবেন।’ (তিরমিজি : ২৪৮১)। তাই আসুন নম্রতার সাজে নিজেকে সাজাই। বিনয়ের রঙ্গে হৃদয়কে রাঙাই। তবে বাড়বে দুনিয়ায় মর্যাদা ও পরকালে সফলতা।  


বিশ্বাস ও কর্মে কোরআনের মহিমা
দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের মুক্তির পথ রচনা করতে কোরআনে হাফেজ
বিস্তারিত
অসিয়ত কার্যকরের পদ্ধতি
প্রশ্ন : কোনো এক ব্যক্তি ওসিয়ত করলÑ সে মৃত্যুবরণ
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছেÑ ‘...আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর
বিস্তারিত
ইখলাস ছাড়া আমল ফুটো থলিতে
নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব আমলের মধ্যে শুধু
বিস্তারিত
ইসলামে শালীনতার গুরুত্ব
শালীনতা অর্থ মার্জিত, সুুন্দর ও শোভন হওয়া, ভদ্রতা, নম্রতা, লজ্জাশীলতা
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য
ইসলামি অর্থনীতির এমন কিছু বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যেগুলো অপরাপর
বিস্তারিত