আলো জেলে রাখি কবিতার খাতায়

কী নীরব রাত! একা একা বসে লিখছি। লেখার মাঝে দুঃখগুলো লুকিয়ে থাকে। লিখে খানিকটা পাতলা হই। আট বছর হয়ে গেল বিনা বেতনে চাকরি করছি। বাবার অনুরোধেই এ চাকরি করা। এখন চাকরিটাই গলার কাঁটা; না পারি ছাড়তে, না পারি ধরে রাখতে। শূন্য পাখা মেলে উড়া যেন, গাছ নেই, সবুজ নেই, আশা নেই, ভরসা নেই। তবুও পথচলা।

মাস্টার্স পাস করে একটা কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায়, খাবার টেবিলে বসে, এক রাতে খেতে খেতে বলেছিলÑ তুই কোথায় দৌড়াদৌড়ি কইরি বেড়াবি, গ্রামে কলেজ হচ্ছে, একেনিই ছেলিমেয়ি পড়া। আমি ব্যবস্থা করছি।
সেই থেকে কলেজেই আছি, পড়াচ্ছি ছেলেমেয়ে। আজ না কাল, করতে করতে আটটা বছর কেটে গেল। কলেজের এমপিওভুক্তি এখনও হয়নি। অবশ্য এলাকার এমপি সাহেব বলেছেন করে দেবেন। এখন সে আশায় আছি।
ছাত্রজীবন থেকে কবিতা লিখতাম। আমার কবিতার সবচেয়ে আগ্রহী পাঠক, আজ আর কাছে নেই। আলো জ্বেলে রেখে চলে গেছে। তেলহীন নিভু নিভু জ্বলে সে আলো। যার কথা বলছি, সে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী রিনি। রিনি আমার কবিতার প্রধান উপকরণ ছিল। ওর হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ ছিল কবিতার পথহাটা। যখন ওর বিয়ে হলো, তখন বছর ধরে বিরহের কবিতা লিখেছি। মেঘ হয়ে উড়তাম, বৃষ্টি হয়ে ঝরতাম। আঁধারে আঁধারে হাঁটতাম, এ জীবনে আর আলোর মুখ দেখব নাÑ এমনই ভাবতাম। প্রতিদিন কলেজে যাই, পাঠদান করি, বিকেলে মাঠে ঘুরি। সবুজের সঙ্গে মিশে থাকি। হঠাৎ কোথা থেকে প্রজাপতির মতো উড়ে এসে জুড়ে বসল নীলিমা। আসলে নীলিমাও রিনির মতোই চঞ্চলা। কলেজ মাথায় করে রাখত, কাছে এসে শিশুর মতো আবদার করত। নীলিমার কথায়-কাজে যেন রিনির ফটোকপি মনে হতো।
প্রথমে ভাবতাম নীলিমা রিনির মামাতো বা খালাতো বোন বা টুইন হবে। কিন্তু না। নীলিমার বাবা চাকরি সূত্রে এখানে এসেছেন। ওদের দেশের বাড়ি খুলনার সাতক্ষীরা। আর রিনির বাবা ছিল রাজবাড়ীর মানুষ। রিনি এবং আমরা ঢাকা কলেজে পড়তাম।
নীলিমার বাবা আমাদের উপজেলায় থানায় পুলিশের এসআই হিসেবে চাকরি করতে এসেছিল। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, নীলিমা যেভাবে এসেছিল, সেভাবেই ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষে চলে গিয়েছিল। শুধু যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম ওর চোখে যেন শ্রাবণের বৃষ্টি ঝরেছিল।
আমি শিক্ষকতা করি, মন খুলে কিছুই বলতে পারিনি, মনের গহিনে চুলার আগুন জ্বলেছিল, সে আগুনের ঝাঁজ উত্তাপ ছড়ায় নিয়মিত।
রিনি আর নীলিমার দেওয়া আলোটুকু জ্বেলে রেখেছি কবিতার খাতায়। নীরব রাতের এ আঁধারে কবিতাগুলো বিড়াল পায়ে হাঁটে মনের গহিনে। হ


ভাতঘুম
সুমন রহমান লাজুক ভঙিতে হাসে। তার মাথাটা নুয়ে আসে বুকের
বিস্তারিত
কাঠমান্ডুর দরবারে
নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত হনুমান ধোকা দরবার ১৯৭৯ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব
বিস্তারিত
কবিতা
কাজী জহিরুল ইসলাম গৃহগল্প দাঁড়াবার জন্য কিছুটা সময় নেয় এরপর টুপ
বিস্তারিত
গণসমুদ্রচোখ আমাকে পাহারা দেয়
দাগহীন আত্মসমর্পণ, গোটা থানকুনি বাঁক তা দিচ্ছে। ধুলোর গায়ে-বেদনায়, প্রয়াণে;
বিস্তারিত
পথিক
তোমার বাস কোথায় গো পথিক, দেশে না বিদেশে আমি তোমায়
বিস্তারিত
নদী এবং নদীরা
হ্যাঁ, মেয়েটির নাম ছিলÑ নদী! পারভীন জাহান নদী। হয়তো আরও
বিস্তারিত