ইসলামে নারী শিক্ষার অধিকার

পর্দার সঙ্গে মহিলাদের জন্য শিক্ষকতা করা বা মহিলাদের কাছে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে ইসলামের কোনো বাধা নেই। আর পর্দার বিধান নারীকে আবদ্ধ করার জন্য নয়, নারীকে শিক্ষাবিমুখ রাখার জন্যও নয় বরং নারীর সম্ভ্রম রক্ষা ও নিরাপত্তা দানের জন্যই পর্দার বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষাও যেমন নারীর জন্য জরুরি ঠিক পর্দাও নারীর অস্তিত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য জরুরি

মানবসমাজের জন্য শিক্ষার  গুরুত্ব অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাই মানুষের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত কল্যাণ ও সফলতা বয়ে আনতে পারে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, মহানবী (সা.) এর প্রতি প্রথম নির্দেশনাই ছিল শিক্ষা সম্পর্কিত। যেমন প্রথম ওহির আদেশ ছিলÑ ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।...’ (সূরা আলাক : ১)। আল্লাহ তায়ালা পুরুষকে যেমন শিক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তেমনি নারীকেও শিক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ শিক্ষা ছাড়া আল্লাহকে চেনা যাবে না, আল্লাহর হুকুম মানা যাবে না। এ কারণে শিক্ষা গ্রহণ করা মুসলমানদের ওপর প্রথম ও প্রধান ফরজ বা অলঙ্ঘনীয় কর্তব্য।

কোরআন মজিদে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই শুধু তাকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।’ (সূরা ফাতির : ২৮)। শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা শুধু পুরুষদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। বরং ইসলামে শিক্ষা অর্জন করা নর-নারীর সমান অধিকার। আর এ জন্যই মহানবী দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ : ২২৪)। বস্তুত ইসলাম নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে। 
মহানবীর কাছে পুরুষ সাহাবিরা যেমন জ্ঞান শিখতেন, তেমনি মহিলা সাহাবিরাও জ্ঞান শিক্ষা করতেন। মহানবী (সা.) এর কাছে শিক্ষানুরাগী মহিলারা একবার বলছিলেন, আপনি জ্ঞান শিক্ষার কাজে সবসময় পুরুষদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন। আমাদের জন্যও একটা দিন ধার্য করুন। মহানবী (সা.) সে অনুযায়ী তাদের আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। রাসুল (সা.) উম্মাহতুল মুমিনিনের লেখা শেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফছা (রা.), আয়েশা (রা.) এবং অন্যান্য মহিলা সাহাবিরা লিখতে জানতেন। হজরত আয়েশা (রা.) সমকালীন শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন তা বোঝা যায় নিম্নোক্ত বর্ণনা থেকে। উরওয়া বিন যোবায়ের তার খালা সম্পর্কে বলেন, ফারায়েজের ইলম, হালাল-হারামের মাসায়েল এবং কোরআনের ইলমের ক্ষেত্রে আয়েশা (রা.) এর চেয়ে বড় আলেম আমি দেখিনি। উরওয়া আরও বলেন, কবিতা, সাহিত্য, চিকিৎসা এবং ইতিহাস সম্পর্কে আয়েশার (রা.) চেয়ে বড় জ্ঞানী আমি দেখিনি। 
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তার মর্যাদা ছিল অনেক পুরুষ সাহাবির ওপরে। হাদিস গ্রন্থগুলোর মধ্যে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২২১০, যা সব সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রসিদ্ধ তাবেঈ মসরুক বলেন, আল্লাহর কসম, বড় বড় সাহাবাকে আমি আয়েশা (রা.) এর কাছে মিরাছের মাসআলা জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। সাহাবিরা যখনই কোনো মাসআলার ব্যাপারে সন্দিহান হতেন বা সমস্যায় পড়তেন তখনই তারা পর্দার আড়াল থেকে আয়েশা (রা.) এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন এবং সঠিক সমাধান পেয়ে যেতেন। এর দ্বারা বোঝা গেল, পর্দার সঙ্গে মহিলাদের জন্য শিক্ষকতা করা বা মহিলাদের কাছে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে ইসলামের কোনো বাধা নেই। আর পর্দার বিধান নারীকে আবদ্ধ করার জন্য নয়, নারীকে শিক্ষাবিমুখ রাখার জন্যও নয় বরং নারীর সম্ভ্রম রক্ষা ও নিরাপত্তা দানের জন্যই পর্দার বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষাও যেমন নারীর জন্য জরুরি ঠিক পর্দাও নারীর অস্তিত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য জরুরি।
যেসব মহিলা সাহাবি কবিখ্যাতি অর্জন করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আরওয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব, সুদা বিনতে কোরায়জ, রাসুল (সা.) এর দুধবোন শায়মা, আতেকা বিনতে যায়দ, খানসা প্রমুখ। খানসা (রা.) এর কবিতা রাসুল (সা.) অত্যন্ত আগ্রহ ভরে শ্রবণ করতেন এবং বলতেন, হে খানসা, আরও কিছু শোনাও। সুতরাং ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই নারীসমাজের জ্ঞান চর্চার ব্যাপারে নারী শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ছিল এবং এ ধারাবাহিকতা পরবর্তী যুগেও অব্যাহত ছিল। ইবনে আসাকির বলেছেন, ইমাম বোখারি যেসব নারী মুহাদ্দিস থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন তার সংখ্যা ছিল আশির ওপরে।
পুরুষের মতো নারীরাও শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখবেÑ এ সম্পর্কিত নির্দেশনা পবিত্র কোরআনেই রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে নবী পরিবার! তোমাদের গৃহে যে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় এবং হিকমত পরিবেশন করা হয় তা তোমরা স্মরণ কর।’ (সূরা আহজাব : ৩৪)। নারীদের শিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো ও উত্তম আচরণ করার শিক্ষা দাও।’ (সূরা নিসা : ১৯)। কারণ মা যদি মূর্খ হয়, তবে তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বহুলাংশে মূর্খই থেকে যাবে। মা যদি শিক্ষিত হয়, তাহলে তার সন্তানরাও হবে সুশিক্ষিত। শিশুদের ওপর মায়ের চারিত্রিক প্রভাব থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই শিশুর আদব-শিষ্টাচার নির্ভর করে একমাত্র তার মায়ের শিক্ষার ওপরই। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।’ (বোখারি : ৪৭৩৯)। এ হাদিসে ইলম শিক্ষার যে ফজিলতের কথা বলা হয়েছে তাও নারী-পুরুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।  


ইসলামে মাতৃভাষা
ভাষা একটি বাংলা শব্দ। আরবিতে এর প্রতিশব্দ লিসান, ইংরেজিতে ল্যাংগুয়েজ।
বিস্তারিত
পরিবেশের হুমকি : উত্তরণের উপায়
আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যাতে ভূমি সজীব ও উর্বর
বিস্তারিত
অহংকারের পরিণাম ধ্বংস
হজরত লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে
বিস্তারিত
লাইসেন্স করা পিস্তল ব্যবহার
প্রশ্ন : আমার মামা একজন বড় ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা দেশের
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : মুসলিম মহীয়সী মূল : মাওলানা ইসহাক মুলতানি অনুবাদ : মাওলানা
বিস্তারিত
‘হালাল সনদ প্রদানের জন্য ইসলামিক
২০০৭ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী, ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস
বিস্তারিত