জন্মশতবর্ষে সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও সিকান্দার আবু জাফর

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসনাত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিমল গুহ, গোলাম কিবরিয়া পিনু ও শোয়াইব জিবরান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী। প্রাবন্ধিক বলেন, ‘প্রিয় ফুল খেলার দিন নয় অদ্য’ কিংবা ‘কমরেড নবযুগ কি আনবে না’Ñ তার এসব অবিনাশী পঙ্ক্তিমালার মধ্যে আমাদের অনেকেরই মানস পুষ্টি অর্জন করেছিল ও আমরা এর মাধ্যমে সময়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে উপলব্ধি করেছিলাম, নবচৈতন্যের আলোকে। আমরা এসব কবিতার মর্মভেদী আবেদনকে অনুভব করেছিলাম জীবনকে মেলাবার আবেদন; প্রিয়ার সান্নিধ্য ও তার বাহুডোরকে পরিত্যাগ করে স্বপ্ন ছিঁড়ে জনমানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার আকাক্সক্ষায়। 
আলোচকরা বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় বাংলা কবিতায় নতুন যুগের উদ্গাতা। তিনি জনমানুষের আকাক্সক্ষাকে কবিতার শব্দে, ছন্দে শিল্পরূপ দিয়েছেন। কবিতা তার কাছে কোনো উপরিতলার প্রসাধন ছিল না, বরং কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জীবন এবং একই সঙ্গে সমষ্টির জীবনযাপন করেছেন। 
সভাপতির বক্তব্যে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবিতার মধ্য দিয়ে সময়কে ধারণ করেছেন। কবিতার পাশাপাশি গদ্য ও অনুবাদে তিনি রেখেছেন স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন এক ঘনিষ্ঠ সুহৃদ। তার মতো কবিমানুষের জন্মশতবর্ষে বাংলা একাডেমির এ আয়োজন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রশংসনীয়। 

কবি সিকান্দার আবু জাফর : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান : গ্রন্থমেলার পঞ্চম দিন ৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি সিকান্দার আবু জাফর : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি নাসির আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. শিরীণ আখতার ও কবি বায়তুল্লাহ কাদেরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। 
প্রাবন্ধিক বলেন, কবি সিকান্দার আবু জাফর যে শুধু গল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, নাটক, সম্পাদকীয় গদ্য রচনা করেছেন তা-ই নয়, শিশুদের জন্যও রয়েছে তার নানামাত্রিক গদ্য। তার গদ্যরচনার পরিধি কবিতার চেয়ে বেশি বৈ কম নয়। তারপরও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি এবং পাঠকপ্রিয় কবি। এমনকি একজন উচ্চাঙ্গের গীতিকার হিসেবেও সফল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত তার বিখ্যাত কবিতা সংকলিত হয়েছিল ‘বাঙলা ছাড়ো’ কাব্যগ্রন্থে। এ বইটি কলকাতা বসেই প্রকাশ করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কবি। বাংলাদেশে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গণহত্যার ভয়াল চিত্র এ কাব্যগ্রন্থের বহু কবিতায় উৎকীর্ণ। দুঃশাসনের দুঃসময় তথা অন্ধকার শেষে স্বাধীনতার সোনালি আলোয় বাংলাদেশ উদ্ভাসিত হোক, মানুষের মুক্তি আসুক, মানবতার পতাকা উড্ডীন হোকÑ এই আকাক্সক্ষা লালন করেছেন কবি তার আজীবনের সাহিত্যসাধনায়। 
আলোচকরা বলেন, সিকান্দার আবু জাফরের গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সম্পাদকীয় সর্বত্রই বাংলাদেশ ও তার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তি, মানবতার জয়গান বাক্সময় হয়ে উঠেছিল। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষের সপক্ষে সোচ্চার ছিল তার ক্ষুরধার কলম। এমনকি তার সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘সমকাল’-এর সম্পাদকীয় নিবন্ধেও আমরা একজন প্রগতিশীল মানবতাবাদী লেখকের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। 
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন বহুমুখী মননের মানুষ। অঙ্গীকার ও মহত্ত্বের দিক থেকে তার সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তার কবি ও গীতিকার সত্তা উৎসর্গিত হয়েছে জনমানুষের মুক্তির আবাহনে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন তার সাহসী সাহিত্যিক ভূমিকা ছিল তেমনি স্বল্পায়ু জীবনে তিনি মানুষের মানবিক অধিকারের পক্ষে সবসময় ছিলেন সোচ্চার। জন্মশতবর্ষে তার প্রাসঙ্গিকতা আজ নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। 


এ এ এম জাকারিয়া মিলনের
মেলায় এসেছে এ এ এম জাকারিয়া মিলনের আত্মজীবনী ‘পথ চলেছি
বিস্তারিত
এক কিশোরের বিপরীত স্রোতে চলা
বের হয়েছে আনোয়ার রশীদ সাগরের কিশোর উপন্যাস ‘স্রোতের কালো চোখ’।
বিস্তারিত
শামিম আরা স্মৃতির দুটি বই
  মেলায় এসেছে শামিম আরা স্মৃতির দুটি বই ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ এবং
বিস্তারিত
চেনাজানা জগতের আখ্যান
গ্রন্থমেলায় বের হয়েছে গল্পের বই ‘ভাঁজ খোলার আনন্দ’। লেখক এনাম
বিস্তারিত
মুক্তিযুদ্ধের গল্প কথা
প্রজন্মের ভাবনায় গল্পে ৭১। সম্পাদনা ফখরুল হাসান। প্রকাশ করেছে বাবুই
বিস্তারিত
বেদনার নীল সুখ
বেদনার নীল সুখ। লেখক তাসলিমা কবীর রিংকি। প্রকাশ করেছে পায়রা
বিস্তারিত