থাইল্যান্ডের নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে থাই রাজপরিবারে ভাই-বোনের দ্বন্দ্ব

থাইল্যান্ডে সামনের মাসের নির্বাচনে রাজার বড় বোন রাজকুমারী উবোলরতানার প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রাজা ভাজিরালংকর্ন নিজেই এখন তাতে বাদ সেধেছেন।

রাজার বড় বোন সাবেক রাজকুমারী উবোলরতানা মাহিডল ঘোষণা করেছিলেন, তিনি থাই রাকসা পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন। কিন্তু রাজা ভাজিরালংকর্ন এক ফরমান জারি করে বলেছেন, থাই সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী তিনি (বড় বোন রাজকুমারী উবোলরতানা মাহিডল) প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রার্থী হতে পারেন না, যদিও তিনি (উবোলরতানা) রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করেছেন।

থাই রাকসা পার্টি এখন বলছে, তারা রাজার এই আদেশ মেনে চলবে। এই দলটি থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াতের দলের রাজনৈতিক মিত্র।

উবোলরতানা মাহিডল রাজউপাধি ত্যাগ করে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিয়ে থাইল্যান্ডে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। থাই রাজপরিবার নিজেদের রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু রাজার বড় বোনের রাজনীতিতে নামার ঘোষণা সেখানে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

কে এই রাজকুমারী উবোলরতানা মাহিডল?
রাজকুমারী উবোলরতানা মাহিডল হচ্ছেন থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবলের প্রথম সন্তান। তার জন্ম ১৯৫১ সালে।

রাজকুমারী পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। সেখানে তিনি এক মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেন। এরপর তিনি রাজউপাধি ত্যাগ করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি আবার থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন ২০০১ সালে। তখন আবার তিনি রাজপরিবারের কাজ-কর্মে অংশ নিতে শুরু করেন।

রাজকুমারী উবোলরতানা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। তিনি কয়েকটি থাই চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

তার তিন সন্তানের একজন ২০০৪ সালের এশিয়ান সুনামিতে মারা যায়। বাকি দুই সন্তান থাইল্যান্ডেই থাকেন।

রাজনৈতিক বিতর্ক
রাজা ভাজিরালংকর্ন শুক্রবার তার বোনের রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেন, 'এটি থাই সংবিধানের মূলনীতি এবং দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরোধী। রাজপরিবারের কোন ঊর্ধ্বতন সদস্য রাজনীতিতে জড়ালে, সেটা যেভাবেই হোক, তা জাতির ঐতিহ্য, রীতি এবং সংস্কৃতির লঙ্ঘন। কাজেই এটি হবে খুবই অসঙ্গত একটি কাজ।'

রাজার এই বিবৃতিতে সংবিধানের সেই ধারাটিও উল্লেখ করা হয় যেখানে বলা হয়েছে রাজপরিবার তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।

প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ডে গত পাঁচ বছর ধরে সামরিক শাসন চলছে। সামনের মাসের নির্বাচনটিকে তাই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলছেন, একজন রাজকুমারীকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্তটি সিনাওয়াতপন্থী রাজনৈতিক জোটের জন্য এক বড় ভুল বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সিনাওয়াতপন্থী জোটকে দুর্বল করল।

রাজকুমারী নিজে এ বিষয়ে কী বলছেন-
রাজার এই ঘোষণার আগে অবশ্য রাজকুমারী উবোলরতানা তার সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে যুক্তি দিয়েছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, সব রাজকীয় উপাধি, সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাপন করছেন তিনি।

তিনি বলেছিলেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই তিনি তার অধিকার প্রয়োগ করতে চান। সেজন্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, সবার সঙ্গে মিলে তিনি কাজ করতে চান।

তবে রাজার বিবৃতির কিছু পরেই তিনি আরেকটি পোস্টে তার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান তাদের সমর্থনের জন্য।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় সেটাই তিনি চান।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ, শ্রীলঙ্কায় কারফিউ
শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে দেশটির
বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০৭,
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় তিনটি গির্জা ও পাঁচ তারকা
বিস্তারিত
এবার সৌদি আরবে ভয়াবহ সন্ত্রাসী
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা
বিস্তারিত
প্রতিশোধ না নেয়ার আহ্বান জানালেন
শ্রীলঙ্কায় গির্জায় কয়েক দফা বোমা হামলার পরে কোন ধরনের প্রতিশোধমূলক
বিস্তারিত
এবার শ্রীলঙ্কার চিড়িয়াখানা এলাকায় বিস্ফোরণ
শ্রীলঙ্কায় তিনটি চার্চ ও তিনটি হোটেলে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার
বিস্তারিত
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৫, বাংলাদেশের
শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বিস্তারিত