সাহায্য করো, আল্লাহ সাহায্য করবেন

পক্ষান্তরে যারা মানুষের বিপদাপদে অনুগ্রহ তথা সাহায্য-সহযোগিতা করবে না, তাদের প্রতি মহান আল্লাহও অনুগ্রহ করবেন না। নবীজি (সা.) বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না, আল্লাহও তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না।’ (বোখারি ও মুসলিম)

ইসলামে অপরের বিপদাপদে সাহায্য-সহযোগিতা করার অনেক ফজিলত রয়েছে। এক্ষেত্রে বিপদগ্রস্তের যেমন কল্যাণ সাধিত হয়, তেমনি এতে উপকারকারীরও কল্যাণ নিহিত থাকে। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেনÑ ‘যদি তোমরা অন্যের উপকার কর, তা হলে তোমরা তা নিজেদের জন্যই করলে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৭)। 

অপরের উপকারকারী মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়া ও রহমত পেয়ে থাকেন। কেননা মহানবী (সা.) বলেছেনÑ ‘তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া প্রদর্শন কর, যিনি আসমানে আছেন (আল্লাহ), তিনি তোমাদের প্রতি দয়া বা রহমত করবেন।’ (তিরমিজি)। 

গরিব-দুঃখী বা কোনো সাধারণ মানুষকে সাহায্যকারীকে মহান আল্লাহও সাহায্য করে থাকেন। যেমন বিশ্বনবী (সা.) বলেছেনÑ ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার মুসলিম ভাইকে সাহায্য করতে থাকে আল্লাহও তাকে ততক্ষণ সাহায্য করতে থাকেন।‘ (মুসলিম)। 

অপরের প্রয়োজন পূরণকারীর অনেক প্রয়োজন (দুনিয়া ও পরকালের) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পূরণ করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে নবী (সা.) বলেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করে দেবেন।’ (বোখারি, মুসলিম)। 

এরূপ ব্যক্তি মহান আল্লাহর তত্ত্বাবধানে থাকেন। রাসুল (সা.) বলেছেনÑ ‘যে কোনো মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে একটি বস্ত্র পরিধান করাবে, সে আল্লাহর তত্ত্বাবধানে থাকবে, যখন পর্যন্ত ওই কাপড়ের একটি টুকরো তার অঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি)। 

অনেক হাদিসে এসেছে অপরের উপকার করা, সাহায্য করা ও দানসদকা করা ইত্যাদি মানুষের ব্যক্তি জীবনের অনেক বিপদাপদ দূর করে দেয়। একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘মিসকিনকে নিজ হাতে দান করা অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে।’ (বায়হাকি)। 

অপরের উপকারকারীরা অসংখ্য নেকি পেয়ে থাকেন। রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের উপকার করার জন্য গমন করে, তাকে ১০ বছর নফল ইতিকাফ করার চেয়েও বেশি নেকি দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করে, তার থেকে জাহান্নামকে তিন খন্দক দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেক খন্দকের দূরত্ব হলো ‘খাফিকদ্বয়’ তথা আসমান থেকে জমিনের দূরত্বের সমপরিমাণ।’ (মুসতাদরাকে হাকিম)। 

অন্যের উপকার করার ফলে এরূপ ব্যক্তিরা গোনাহ মাপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরেশতাদের দোয়া পেয়ে থাকেন এবং তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেনÑ ‘কোনো ব্যক্তি যখন কোনো মুসলমান ভাইয়ের উপকারের জন্য গমন করে এবং উপকারটি সম্পাদন করে, তখন আল্লাহ তার মাথার ওপর ৭৫ হাজার ফেরেশতার ছায়া সৃষ্টি করে দেন। এ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। উপকারটা সকালে করা হলে বিকাল পর্যন্ত দোয়া চলে। আর বিকালে করা হলে সকাল পর্যন্ত দোয়া চলে। আর সে ব্যক্তির প্রত্যেক কদমে একটি করে গোনাহ মাফ হয় ও একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।’ (ইবনে হিব্বান)। রাসুল (সা.) অন্য হাদিসে বলেছেনÑ ‘বিধবা ও অসহায়ের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মতো। অথবা রাতভর তাহাজ্জুদে দাঁড়ানো ব্যক্তির মতো কিংবা দিনভর রোজা পালনকারীর মতো।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

মৃত্যুর পর পরকালীন জীবনের শুরুতেই দানসদকা (অর্থ দানসহ যে কোনো মানবকল্যাণী কাজগুলো) উপকারে আসে। রাসুল (সা.) বলেছেনÑ ‘নিশ্চয়ই দানসদকা কবরের আজাব বন্ধ করে দেয়। আর কেয়ামতের দিন বান্দাকে আরশের ছায়ার নিচে জায়গা করে দেয়।’ (তাবরানি ও বায়হাকি)। 

এছাড়া কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের অনেক বিপদ নিজ জিম্মায় দূর করে দেবেন। এ ব্যাপারে নবী (সা.) বলেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের একটি বিপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার বহু বিপদের মধ্যে একটি বিপদ দূর করে দেবেন।’ (বোখারি, মুসলিম)। 

এমনকি মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা বা দানসদকা জাহান্নাম থেকেও রক্ষা করে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেনÑ ‘খেজুরের একটি টুকরো দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা কর।’ (বোখারি ও মুসলিম)। 

পরিশেষে তারা (সাহায্যের পণ্য বা উপকরণ ভেদে) জান্নাতের পোশাক, খাবার বা পানি উপহার পাবেন। রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীনকে কাপড় পরাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ রেশমি কাপড় পরাবেন। যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোনো তৃষ্ণার্তকে পানি পান করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পবিত্র প্রতীকধারী শরাব পান করাবেন।’ (আবু দাউদ)। 

অন্য হাদিসে এসেছে নবীজি (সা.) বলেছেনÑ ‘ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান কর, তাহলে শান্তির সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি, বায়হাকি, মেশকাত)। 

পক্ষান্তরে যারা মানুষের বিপদাপদে অনুগ্রহ তথা সাহায্য-সহযোগিতা করবে না, তাদের প্রতি মহান আল্লাহও অনুগ্রহ করবেন না। নবীজি (সা.) বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না, আল্লাহও তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না।’ (বোখারি ও মুসলিম)। 

শুধু তা-ই নয়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্তকে সাহায্য-সহযোগিতা না করলে মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেছেনÑ ‘হে আদম সন্তান! আমি রোগাক্রান্ত ছিলাম; কিন্তু তুমি আমার সেবা করনি। বান্দা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তোমার কীভাবে সেবা করতে পারি; তুমি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক? আল্লা বলবেন, তোমার কি মনে নেই, আমার ওমুক বান্দা অসুস্থ ছিল অথচ তুমি তার সেবা করনি। যদি তার সেবা করতে; তবে সেখানে আমাকে পেতে। আল্লাহ আবার বলবেন, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাওনি। বান্দা বলবে, হে আল্লাহ! তোমাকে কীভাবে খাবার দেব; তুমি তো বিশ্বজাহানের রব। আল্লাহ বলবেন, তোমার কি মনে নেই, আমার ওমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল; কিন্তু তুমি তাকে খাবার দাওনি। যদি তাকে খাবার দিতে; তবে সেখানে আমাকে পেতে। মহান আল্লাহ তায়ালা আবার বলবেন, আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে পানি দাওনি। বান্দা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তোমাকে কীভাবে পানি দেব; তুমি তো সারাবিশ্বের রব। আল্লাহ বলবেন, তোমার কি মনে নেই, আমার ওমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল; কিন্তু তুমি তাকে পানি দাওনি। যদি তাকে পানি দিতে; তবে সেখানে আমাকে পেতে।’ (মুসলিম)। 

পরিশেষে এরূপ ব্যক্তির ঠিকানা হবে জাহান্নাম। কোরআনে এসেছেÑ ‘কীসে তোমাদের দোজখে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করতাম না।’ (সূরা মোদদাসসির : ৪২-৪৪)। 

সুতরাং মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, দুনিয়া ও পরকালে কল্যাণ লাভ এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা থেকে বাঁচার জন্য মৃত্যু আসার আগেই মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিকসহ যে কোনো উপায়ে অসহায়, গরিব-দুঃখীকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। অন্যথায় একদিন আপসোস করতে হবে। কোরআনে এসেছেÑ ‘সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলেন না কেন? তাহলে আমি দানসদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সূরা মোনাফিকুন : ৯-১০)।


পরিবেশের হুমকি : উত্তরণের উপায়
আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যাতে ভূমি সজীব ও উর্বর
বিস্তারিত
অহংকারের পরিণাম ধ্বংস
হজরত লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে
বিস্তারিত
লাইসেন্স করা পিস্তল ব্যবহার
প্রশ্ন : আমার মামা একজন বড় ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা দেশের
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : মুসলিম মহীয়সী মূল : মাওলানা ইসহাক মুলতানি অনুবাদ : মাওলানা
বিস্তারিত
‘হালাল সনদ প্রদানের জন্য ইসলামিক
২০০৭ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী, ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস
বিস্তারিত
চরম নির্যাতিত চীনের উইঘুর মুসলমান
চীনের মুসলমানদের ওপর নতুন করে নিপীড়নের খ—গ নেমে এসেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয়
বিস্তারিত