বই পড়ার দায়িত্ব

জ্ঞান অর্জন মানবজীবনে অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিলকৃত আয়াতই হলোÑ ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ো এবং তোমার প্রভু সুন্দরতম, যিনি কলমের (ব্যবহার) শিক্ষা দিয়েছেন; শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক : ১-২)। নবী করিম (সা.) বলেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯)। অন্য এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেনÑ ‘যে ইলম অনুসন্ধানে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে।’ (তিরমিজি : ২৬৪৭)।
জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন মাধ্যম আছে। সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো বই পড়া। প্রশ্ন হলোÑ এই বইটা কীসের হবে। দুনিয়াবি না কোরআন-হাদিসবিষয়ক ইসলামি পুস্তক। দুনিয়ার যা কিছু ভালো, সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে দোষ নেই। যেমনÑ চিকিৎসাবিষয়ক বই পড়লেন, গল্প-উপন্যাসও যদি ভালো কাহিনি হয়, নৈতিক শিক্ষা থাকে, খারাপ দিকে উৎসাহিত-অনুপ্রাণিত না করে, তাহলে তা পড়তে অসুবিধা নেই! বই বলতে শুধু ইসলামি বই নয়। অন্য সব বই পড়া অন্যায় নয়। তবে সবকিছু হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। 
হাদিসে এসেছেÑ ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ইলম শিখল, যা শুধু আল্লাহর জন্যই শেখা হয়, সে কেয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’ (আবু দাউদ : ৩৬৬৪)। 
নারী-পুরুষ সবাইকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ইসলামে এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। ঈমান, আমলের জন্য ইসলামি পুস্তক পড়ার বিকল্প নেই। তার মানে সবাইকে মুফতি, মুহাদ্দিস হতে হবে, তা নয়। তবে মুসলমান হিসেবে যতটুকু না জানলেই নয়, তা অবশ্যই জানতে হবে। এমনও দেখা যায়, যারা ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত, তারা কোরআন-হাদিসের বাইরের শিক্ষা বা বইকে ভালো চোখে দেখেন না। আর যারা প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত, তারা ইসলামি বই পড়ার প্রয়োজন অনুভব করেন না; অথচ দুটোই দরকারি। সারা জীবন নামাজ পড়লেন। নামাজের ফরজ, ওয়াজিব কয়টা জানলেন নাÑ তা কি মেনে নেওয়া যায়। ধরুন, বিরাট খ্যাতনামা চিকিৎসক হলেন। গাড়ি, বাড়ি, সম্মান পেলেন; কিন্তু নামাজে সূরাগুলো শুদ্ধ করে পড়তে পারেন না, তাহলে দুনিয়াই পাওয়া হলো; আখেরাত নয়।
মুসলমান মাত্রই জ্ঞানের অন্বেষায় থাকতে হবে। বই আমাদের জ্ঞানের অন্বেষা মেটাতে পারে। এমন বই বাছাই করতে হবে, যা পড়ে ছেলেমেয়েরা অনুপ্রেরণা পাবে। বই মনের চোখ খুলে দেয়। অন্তরকে আলোকিত করে। ভালো-মন্দ বুঝতে শেখায়। অভিভাবক হিসেবে ছেলেমেয়েদের বই পড়তে উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। 


বন্যাদুর্গতদের সেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি
প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল প্লাবিত। দেশের
বিস্তারিত
অফুরন্ত সওয়াবে ভরপুর ইবাদত হজ
আল্লাহ বলেনÑ ‘মানুষের মধ্যে যার বাইতুল্লাহ পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য আছে,
বিস্তারিত
সওয়াল
মুফতি আবদুল মালেক শিক্ষা সচিব, মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়া, ঢাকা প্রশ্ন :
বিস্তারিত
রুহের খোরাক জিকির
জিকিরের অর্থ স্মরণ করা, মনে করা, উল্লেখ করা, বর্ণনা করা।
বিস্তারিত
ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব
  সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান কারণ তার আত্মসচেতনতা, যা
বিস্তারিত
ভালোবাসায় যত সওয়াব
মানুষের সহজাত একটি প্রেরণা অন্যকে ভালোবাসা। এ ভালোবাসা যদি হয়
বিস্তারিত