ইরান বিপ্লবের ৪০ বছর

১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আড়াইশ বছরের পুরোনো রাজতান্ত্রিক পাহলভী বংশের রাজত্বকে তছনছ করে রক্তসাগরের মধ্য থেকে ফুটেছিল ইরানি বিপ্লবের গোলাপফুল, যা পুরো আশি, নব্বই ও একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে সারা পৃথিবীকে আন্দোলিত করেছিল। ইরানের মজলুম জনগণ রেজা শাহ পাহলভীর শত অত্যাচারকে মাথা পেতে নিয়ে ইসলামি বিপ্লবের জন্য কাজ করেছিল। যাবতীয় জেল-জুলুম, হত্যা-গণহত্যা তাদের বিপ্লবের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তারা বিপ্লবের সফলতার জন্য রাজপথে হাসিমুখে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছিল। একদিন সে রক্ত কথা বলে উঠেছিল। জনতার মুষ্টিবদ্ধ গগনবিধারী আওয়াজ স্বৈরশাসক রেজা শাহ পাহলভীকে ইরান ত্যাগে বাধ্য করেছিল। আর নিজ মাতৃভূমি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত ফ্রান্সের প্যারিসে নির্বাসিত ইমাম খোমেনিকে তারা হৃদয়ের গোলাপ দিয়ে বরণ করে নিয়েছিল। 
বিপ্লবের অব্যবহিত পর থেকে ইহুদি-খ্রিষ্টান, ইঙ্গ-মার্কিন-রুশ শক্তি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে দেওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অন্যের প্ররোচনায় পরিচালিত ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেন কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া ৮ বছরের যুদ্ধকে ইরানবাসী অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করেছিল। প্রতিরোধ করেছিল অভ্যন্তরীণ প্রতিবিপ্লব। প্রতিদিন খুন ঝরেছে ইসলামি আন্দোলনের নেতাদের। কত আয়াতুল্লাহ, কত ওলামা-মাশায়েখ, কত সরকারি কর্মকর্তা এ বিপ্লবের জন্য জীবন দান করেছেন, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। একই দিন একই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীসহ ৭০ পার্লামেন্ট সদস্যকে হত্যা করে ইরানকে নেতৃত্বশূন্য করার অপপ্রয়াসও ব্যর্থ হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ইহুদি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বিগত ৪০ বছরের প্রতিটি দিন ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কামান আর মিসাইলের ট্রিগারে আঙুল চেপে বসে আছে। কিন্তু হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বীর জাতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ইহুদি-মার্কিন আক্রমণ ও অবরোধ আগ্রাসনের হুমকিকে বৃদ্ধাঙ্গুুলি দেখিয়ে ভালোভাবেই টিকে আছে ৪০ বছর। 
ইরানি জাতির টিকে থাকার মূলে রয়েছে তাদের সুনেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য। আছে একটি সুলিখিত সংবিধান। অটুট আছে ইমামের প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য। রয়েছে বিপ্লবের পর থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মজলিশ ও মন্ত্রণাসভা। সবার ওপরে মূল রহস্য, টানা ১০ বছর (১৯৭৯-১৯৮৯) বিপ্লবের মহানায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব এবং তার ইন্তেকালের পর তারই শাগরেদ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ খামেনিকে পরবর্তী ইমাম হিসেবে নিয়োগ প্রদান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মন্ত্রণাসভা বা অভিভাবক পরিষদের নেতৃত্বে যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে ইরানের বিপ্লব টিকে আছে।
কারও দয়ার ওপর নির্ভর করে নয়, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে ইমাম হুসাইন (রা.) এর দৃঢ়চিত্ততাকে অবলম্বন করে ইসলামি ইরান সম্মুখপানে এগিয়ে চলছে। কী কৃষি, কী শিল্প, কী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, কী সমর সম্ভারের বিকাশ, কী শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্র, কী অভ্যন্তরীণ সার্বিক উন্নয়নÑ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পৃথিবীর শিল্প উন্নত দেশগুলোকে টেক্কা দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। ইরাক কর্তৃক ৮ বছরের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় যুদ্ধ, ৪০ বছরব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধকে ইরান মোকাবিলা করছে। ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতি বিশ্বব্যাপী নন্দিত; পক্ষান্তরে পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গ করে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা নিন্দিত।
ইরানে সবচেয়ে সফলতা সামরিক ক্ষেত্রে। ইহুদি-মার্কিন আগ্রাসনের প্রত্যহ হুমকির মুখে আত্মরক্ষার লক্ষ্যে অস্ত্রশস্ত্র তৈরি ও মজুতে নিজেদের সক্ষমতা ইরান বিশ্ববাসীকে প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। আর ইরানের সেই অন্তর্নিহিত বিপুল সামরিক শক্তি ও কৌশলকে পদানত করা দুনিয়ার কোনো শক্তির পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হাত দিতে সাহস করছে না। যদি ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দুর্বল কোনো দেশ হতো, তাহলে অনেক আগেই মার্কিনিরা তুড়ি মেরে ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিত। সম্প্রতি আইএস দমনে ইরাক ও সিরিয়াকে ইরান অত্যন্ত সুকৌশল ও সফলতার সঙ্গে সার্বিক সহায়তা করেছে। ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। 
ফিলিপাইনে মার্কোসের দুঃশাসনের অবসান, বাংলাদেশের স্বৈরশাসক এরশাদের পতন এবং আরব বসন্তে যুবক-তরুণ ছাত্রজনতার বিপ্লবের প্রেরণা অবশ্যই স্বর্ণাক্ষরে লেখা ইরানের ইসলামি বিপ্লব। শাসনে-ত্রাসনে, শোষণ ও নিপীড়নে বিপর্যস্ত জনপদের উদ্বেগাকুল জনতা হৃদয় মথিত আরাধনায় আল্লাহর দরবারে কামনা করেছে একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। ইমাম খোমেনি এবং তার পরবর্তী শাসকরা দুনিয়ার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নিজেদের ধর্ম, নিজেদের স্বাতন্ত্র্য ও নিজেদের জাতিকে স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে রক্ষা করেছে। 
ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও লেবানানের মজলুম মুসলমানদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর  প্রেরণা ইরান। এ কথা আজ দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট যে, মুসলমানদের শত-সহস্র ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র ইরান মুসলিম বিশ্বের মুখ উজ্জ্বল করেছে। নিজ পায়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর জনগণ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের এ থেকে শিক্ষা নেওয়া অতি জরুরি।


কর্ডোভা : সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া
স্থাপত্যশিল্পে কর্ডোভা সমকালীন পৃথিবীকেই শুধু ছাড়িয়ে যায়নি, বরং পতনের শত
বিস্তারিত
মদিনা মুনাওয়ারার মর্যাদা
মদিনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট।
বিস্তারিত
ধর্ষণ রোধে চাই ইসলামের অনুশাসন
  ধর্ষণ বর্তমান পৃথিবীর অতি পরিচিত এক ভয়ঙ্কর শব্দের নাম। যে
বিস্তারিত
পারস্পরিক সহযোগিতা
অসংখ্য হাদিসে নববি মুসলিম সমাজের তাকাফুল বা পারস্পরিক সহযোগিতার মাহাত্ম্য
বিস্তারিত
বিপদে পাশে থাকুন
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ
বিস্তারিত
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে লেনদেন
ইসলামি অর্থনীতি হলো কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা।
বিস্তারিত