কিরকুকের মৃত্যুপথে উম্মে বেলালের জীবন সংগ্রাম

জীবনের কঠিন পরিস্থিতির কাছে তিনি হার মানেননি। নিজেকে ও তার পরিবারকে সংকটময় বাস্তবতা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন। জীবিকা ও থাকার মতো একটা জায়গা নিশ্চিত করতে তিনি সেলাই শেখার কথা চিন্তা করেন

ইরাকি নারীরা সামাজিক শিক্ষার জন্য অনুকরণ পন্থা অবলম্বন করে থাকে। নারী শিশু বিভিন্নভাবে ইরাকি পরিবেশের পরিবর্তিত অবস্থাগুলো মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকে। কারণ তারা দেখে যুদ্ধে নারীর স্বামী মারা যায়। সে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। পরিবারকে রক্ষা করতে সে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পন্থা ও মাধ্যম নতুন করে আবিষ্কার করে নেয়। বিভিন্ন খাতে ও পেশায় কাজ শুরু করে। সেটা স্থায়ী বা 
অস্থায়ী হোক

২০১৬ সালে উত্তর বাগদাদের হুওয়াইজা হাসপাতালে যৌথ বাহিনীর হামলা থেকে নিজ শাশুড়ির সঙ্গে বেঁচে যান উম্মে বেলাল। এ হামলায় নিহত হন তার স্বামী ও এক ছেলে। যার নাম ছিল জুররবিআইন। এ ঘটনায় উম্মে বেলাল ও তার সন্তানের জীবনে ঘটে যায় বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট। 

বিভিন্ন ধাপ 
২৯ বছর বয়সি উম্মে আবদুর রহমান অথবা আপনি চাইলে তাকে ডাকতে পারেন উম্মে বেলাল বলেও, নিজের কাঁধে তুলে নেন তার চার সন্তান ও ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির দায়-দায়িত্বের বোঝা। অল্প বয়স সত্ত্বেও পাল্টে যায় তার জীবনের বাস্তবতা। নিজের স্বামী ও সন্তান হারানোর পর তিনি যাপন করছেন এক বিধ্বস্ত বর্তমান ও অজানা ভবিষ্যৎ। তিনি পালন করছেন সন্তানদের মা-বাবা উভয়ের ভূমিকা। অসুস্থ শাশুড়ির জন্য পালন করছেন ছেলের ভূমিকা।
আলজাজিরা নেটকে উম্মে বেলাল বলেন, জীবনের কঠিন পরিস্থিতির কাছে তিনি হার মানেননি। নিজেকে ও পরিবারকে সংকটময় বাস্তবতা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন। জীবিকা ও থাকার মতো একটা জায়গা নিশ্চিত করতে তিনি সেলাই শেখার কথা চিন্তা করেন। নিজ ঘরেই একটি-দুটি করে কাপড় সেলাইয়ের কাজও শুরু করে দেন। এখন তিনি সপ্তাহে আট ডলার করে উপার্জন করছেন। উপার্জিত অর্থে তিনি বাসা ভাড়া দেন, হাসপাতালে হামলার পর থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসা করান, চার সন্তানের স্কুলের পড়ালেখার খরচ চালান, সেই সঙ্গে খাবার ও পোশাক তো আছেই।

দৃঢ়তা ও অবিচলতা 
হুওয়াইজা হাসপাতালে যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় স্বামী ও সন্তান হারানোর মুহূর্তের ঘটনাবলির কথা স্মরণ করে উম্মে বেলাল বলেন, প্রচ- শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত আমার ছেলেকে এক রাতে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, সঙ্গে ছিল আমার স্বামী, শাশুড়ি উম্মে ইমাদ, মামা ও আমার স্বামীর খালা। হাসপাতাল ভবনে বিমান হামলায় আমার ছেলে ও স্বামী নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর আমার সেন্স ফিরে আসে।
উম্মে বেলাল বলেন, বেদনাদায়ক বিমান হামলার পরবর্তী নিদারুণ মানসিক ও নির্মম বাস্তবিক পরিস্থিতির ফলে আমি সিদ্ধান্ত নেই হুওয়াইজা এলাকা ছেড়ে যেতে, যেটা তখন আইএসের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখান থেকে বিশেষ পাচারকারীদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে কিরকুক জেলার সেন্টারে যেতে ৩০০ ডলার করে দিতে হয়। ‘মৃত্যু-পথ’ নামে পরিচিত সে রাস্তার আতঙ্ক ও দুর্গমতা সত্ত্বেও উম্মে বেলাল তার পরিবারকে নিয়ে পালাতে সক্ষম হন। পশুদের জন্য নির্ধারিত খোঁয়াড় হিসেবে ব্যবহৃত একটি জায়গায় দুটি দুর্গন্ধময় কক্ষে থাকতে বাধ্য হতে হয় তাকে। সেখানেই তিনি তার জীবনের কঠিনতম দিনগুলো পার করেন।

সামাজিক ও মানসিক প্রতিষ্ঠা
ইরাকি আল আমাল সংগঠনের সদস্য সুরুর আহমাদ আলজাজিরাকে জোর দিয়ে বলেন, নারী সংগঠনগুলো নারীদের সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য কর্মশালার আয়োজন করে, সেখানে তারা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারে। অন্যদিকে সন্তানদের সঙ্গে তাদের আচরণ শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি বাইরের সমাজের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে। তাদের নিজেদের আগ্রহের পেশায় প্রশিক্ষণ দিতে সহায়তা করা হয়, ছোট ছোট প্রকল্প খুলতে সুযোগ দেওয়া হয় এবং তিন মাস মেয়াদে সে প্রকল্পগুলোকে চালানো হয় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও বাধা-বিপত্তি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে।
সমাজ গবেষক আবদুল করিম খলিফা আলজাজিরা নেটকে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ‘ইরাকি নারী শৈশবকাল থেকেই কঠিন পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় অভ্যস্ত।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকি নারী শিশু দেখে তার মা পরিবারে একাই দুজনের ভূমিকা পালন করছে। একটি হলো গৃহে নারীর ভূমিকা যেখানে সে রান্না, ধোয়ামোছা, পরিচ্ছন্নতাসহ পরিবারের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করে। আরেকটি হলো পুরুষের ভূমিকা, সেখানে সে জীবিকার জন্য যুদ্ধে নিহত বাবার ভূমিকা পালন করে।
উম্মে বেলাল বলেন, আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া পূর্ণ করার মাধ্যমে তাদের দিয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

সামাজিক শিক্ষা
ইরাকি নারীরা সামাজিক শিক্ষার জন্য অনুকরণ পন্থা অবলম্বন করে থাকে। নারী শিশু বিভিন্নভাবে ইরাকি পরিবেশের পরিবর্তিত অবস্থাগুলো মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকে। কারণ তারা দেখে যুদ্ধে নারীর স্বামী মারা যায়। সে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। পরিবারকে রক্ষা করতে সে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পন্থা ও মাধ্যম নতুন করে আবিষ্কার করে নেয়। বিভিন্ন খাতে ও পেশায় কাজ শুরু করে। সেটা স্থায়ী বা অস্থায়ী হোক।
মনে হয় সে যেন খুব দ্রুতই সেলাই কিংবা চুল কাটার মতো আবশ্যক বিষয়গুলোর দক্ষতা শিখে ফেলে। সে নিজের জন্য বিশেষ প্রকল্প খুলতে পারে। নিজের সংকল্প, মনোবল ও অবিচলতায় শত বাধা সত্ত্বেও সে জীবনের পথের সম্মুখীন হতে পারে। নিজের এক একটা টার্গেট বাস্তবায়ন করে।
সুরুর আহমাদ বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্তব্য হলো কাজের সুযোগ প্রদান করা, সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা, যাতে ছোট ছোট প্রকল্প খোলা যায়। সমাজ ও কর্ম মন্ত্রণালয় যেসব সামাজিক ক্ষেত্র ও প্রকল্প খুলেছে সেগুলো ইরাকের বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের পরিবারের প্রয়োজন পূরণে অপ্রতুল।
ি আলজাজিরা অবলম্বনে


যে আয়াত জীবনকে পরিবর্তন করে
আজকে যে আয়াত নিয়ে আলোচনা করছি, তাতে মহান রাব্বুল আলামিন
বিস্তারিত
প্রিয়নবী যে কারণে ঋণমুক্তির দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে বেশি
বিস্তারিত
কোরআন-হাদিসের আলোকে শবেবরাত
সূরা দুখানের শুরুতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি
বিস্তারিত
হালালে মেলে প্রশান্তি আর মুক্তি
আমাদের দেশে আর সমাজে সম্পদ অর্জনের এক নীরব প্রতিযোগিতা বেড়ে
বিস্তারিত
ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মুরাবাহা পরিচিতি
আল্লাহ তায়ালা সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তবে মানুষের লাভবান হওয়ার
বিস্তারিত
ক্ষমার রাত পবিত্র শবে বরাত
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উম্মাতে মুহাম্মদির জন্য এমন কতিপয় বরকতময়
বিস্তারিত