অহংকারের পরিণাম ধ্বংস

হজরত লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনÑ ‘তুমি অহংকারবশত মানুষকে অবজ্ঞা করো না। আর জমিনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা লোকমান : ১৮)

ইলম-আমল, জ্ঞান-গরিমা, অর্থ-সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বংশমর্যাদা, ইবাদত-উপাসনা ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে নিজেকে বড় মনে করা এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নগণ্য মনে করাকে অহংকার বলা হয়। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, নিজেকে বড় মনে করা এবং নিজেকে অন্যের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান মনে করাই হলো অহংকার। আল্লামা রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) এর মতে, অহংকার হলো নিজেকে অন্যের তুলনায় উত্তম বা মহৎ মনে করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা। 
আল্লাহ তায়ালা অহংকারকারীকে পছন্দ করেন না। ইতঃপূর্বে বহু সম্প্রদায়কে অহংকারের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। সুতরাং অহংকার শব্দটিকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, তা সর্বাবস্থায় হারাম এবং এর পরিণাম হলো ধ্বংস ও জাহান্নাম। এ অহংকারের কারণেই ফেরেশতাদের সর্দার ইবলিসের ঠিকানা হয়েছে চির জাহান্নাম।
মহান রাব্বুল আলামিন কোরআনে এরশাদ করেনÑ ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার করো মা-বাবার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম, মিসকিন, আত্মীয়-প্রতিবেশী, অনাত্মীয়-প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক ও অহংকারী।’ (সূরা নিসা : ৩৬)।
হজরত লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনÑ ‘তুমি অহংকারবশত মানুষকে অবজ্ঞা করো না। আর জমিনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা লোকমান : ১৮)।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনের অন্যত্র আরও এরশাদ করেনÑ ‘অহংকারকারীদের বলা হবে, তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো; চিরকাল অবস্থানের জন্য। কতই না নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাস্থল।’ (সূরা জুমার : ৭২)। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা।’ (মুসলিম)। প্রিয়নবী (সা.) আরও এরশাদ করেনÑ ‘যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম)। হজরত ইবনে শুয়াইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘কেয়ামতের দিন অহংকারীদের ক্ষুদ্র পিপীলিকার মতো উঠানো হবে।’ (তিরমিজি)। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনÑ ‘অহংকার হলো আমার চাদর। সুতরাং যে ব্যক্তি তা নিয়ে টানাটানি (অর্থাৎ অহংকার) করবে, আমি তার গর্দান ছিঁড়ে ফেলব।’ (আবু দাউদ)।
সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বড় অন্তরায় হলো অহংকার, যা মানুষের ইহকাল-পরকালকে ধ্বংস করে। ধ্বংস করে মানুষের মনুষ্যত্ব, জাগিয়ে তোলে হিংস্রতা। সর্বোপরি অহংকার মানুষের পতন ত্বরান্বিত করে। তাই তো বলা হয়, অহংকার পতনের মূল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অহংকার নামক ধ্বংসব্যাধি থেকে হেফাজত করুন।


মানব কল্যাণে জ্ঞানার্জন
জ্ঞানের সুবাদেই মানুষের মর্যাদা নিষ্পাপ ফেরেশতাদের চেয়েও বেশি। আমাদের চিন্তাকে
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী ‘হে মোমিনরা, তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ করো (আকিদা ও
বিস্তারিত
তরুণদের জাগতে হবে
পশ্চিমা চিন্তা ও দর্শন এবং বস্তুবাদী ব্যবস্থার প্রভাব আমাদের বর্তমানকালকে
বিস্তারিত
অভিবাদনের নিয়ম-পদ্ধতি
সালাম মুসলমানদের মাঝে ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির কারণ,
বিস্তারিত
একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন
খাদ্য পড়ে গেলে তুলে খেতে হয়- এটা সকলেরই জানা। রাসূল
বিস্তারিত
ইসলামে যে তিন সময়ে নামাজ
নামাজ বেহেস্তের চাবিকাঠি। মুসলমানদের জন্য দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া
বিস্তারিত