মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

আল্লাহর প্রিয়তম স্থান মসজিদের বহুমুখী কল্যাণ

মসজিদের কাতারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে থাকবে। ধনী লোক দরিদ্রের পাশে, মনিব চাকরের পাশে। কাতারে সবার কাঁধ সমান হবে। সবার পা সোজা থাকবে। তখন একটি বিশাল ও মহান তাৎপর্য নিয়ে, একটি বিরাট মর্ম বহন করে অভূতপূর্ব সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। মসজিদে মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়। তারা হাতে হাত মেলায়। তাদের দেহ মিলেমিশে থাকে। তাদের অন্তর একাকার হয়। তাদের মাঝে প্রীতি ও অন্তরঙ্গতা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক ভেদাভেদের অবসান ঘটে। এর দ্বারা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্তিশালী হয়। এগুলো কত বড় ও বিশাল প্রজ্ঞার বিষয়!

 

মানুষের জন্য আল্লাহর অন্যতম আশীর্বাদ ও অনুগ্রহ হচ্ছে তিনি তাকে নিজের আনুগত্যে নিয়োজিত করে দেন। তাকে নিজের বান্দাদের উপকারের জন্য কাজে লাগান। তাকে বানিয়ে দেন কল্যাণের চাবিকাঠি। মসজিদ নির্মাণ এরকম একটি কল্যাণকর প্রবেশদ্বার। আল্লাহ নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেন তার হাতে এ কাজের সূচনা করান। যাতে সে গৌরব ও মর্যাদার পদক অর্জন করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় তারাই আল্লাহর মসজিদগুলো নির্মাণ করে যারা আল্লাহর প্রতি ও আখেরাতের দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, নামাজ কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি। আশা করা যায় তারাই সঠিক পথের দিশাপ্রাপ্ত।’ (সূরা তওবা : ১৮)।  
পৃথিবীর সব জায়গা বাদ দিয়ে মসজিদগুলো আল্লাহর ভালোবাসার অগ্রাধিকার অর্জন করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় জায়গা হচ্ছে মসজিদগুলো এবং সবচেয়ে বেশি অপ্রিয় জায়গা হচ্ছে বাজারগুলো।’ 
মসজিদ আল্লাহ কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় জায়গা হওয়ার কারণ হচ্ছে সেখানে আল্লাহর জিকির করা হয়, নামাজ পড়া হয়, কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, আজান দেওয়া হয়, ইলমের মজলিস কায়েম করা হয়, তৌহিদের কালেমা ঘোষণা করা হয়। মসজিদ থেকে জ্ঞান-বিদ্যার প্রদীপ জ্বালানো হয়। সেখানে মুসলমানরা দ্বীনের শিক্ষাদীক্ষা গ্রহণ করে। তাদের মন ও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আল্লাহ বলেন, ‘সেসব গৃহে, যাকে আল্লাহ সুউচ্চ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর নাম স্মরণ করতে আদেশ করেছেন, সকাল-বিকাল এখানে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়। এসব গৃহে এমন কিছু লোক আছে যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর জিকির থেকে উদাসীন করতে পারে না, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান করা থেকেও গাফেল রাখে না। তারা ওই দিবসকে ভয় পায় যেদিন হৃদয়গুলো ও দৃষ্টিগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’ (সূরা নুর : ৩৬-৩৭)।
ইসলামের প্রথম প্রজন্ম অনুধাবন করেছিল মানুষের জীবনে মসজিদের গুরুত্ব। নবী করিম (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, তাঁর সবচেয়ে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল মসজিদ নির্মাণ করা। পরবর্তী সময়ে তাঁর খলিফারাও এ ধারা রক্ষা করে গেছেন। তারা এ মহান পথেই চলেছেন।
আল্লাহর কোনো এক ঘরের দিকে প্রশান্তচিত্তে ও গাম্ভীর্য সহকারে যেসব পদক্ষেপ পড়ে তা কতই না মর্যাদার! প্রতিটি কদম কতই না সুন্দর! প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গোনাহ মাফ হয়। একটি মর্যাদা উন্নীত হয়। আর বাড়ি থেকে মসজিদের দিকে যাত্রাপথে যত বেশি দূরত্ব থাকবে রহমত ও বরকতের ধারা পদে পদে তত বেশি বর্ষিত হবে।
হে আল্লাহর ঘর মসজিদের দিকে ধাবমান পথিক! মসজিদের দিকে পরিচালিত তোমার প্রত্যেক পদক্ষেপ একেকটি সদকা। তাই এ কদমগুলো কীভাবে ক্লান্ত বা বিরক্ত হতে পারে? এগুলো কীভাবে অলস হতে পারে? অথচ তারা শুনতে পাচ্ছে ও পাঠ করছে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এ হাদিস, ‘যে ব্যক্তি মসজিদ পানে আসা-যাওয়া করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের আতিথেয়তা প্রস্তুত করেন যতবারই সে আসা-যাওয়া করে।’
মসজিদের কাতারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে থাকবে। ধনী লোক দরিদ্রের পাশে, মনিব চাকরের পাশে। কাতারে সবার কাঁধ সমান হবে। সবার পা সোজা থাকবে। তখন একটি বিশাল ও মহান তাৎপর্য নিয়ে, একটি বিরাট মর্ম বহন করে অভূতপূর্ব সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। মসজিদে মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়। তারা হাতে হাত মেলায়। তাদের দেহ মিলেমিশে থাকে। তাদের অন্তর একাকার হয়। তাদের মাঝে প্রীতি ও অন্তরঙ্গতা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক ভেদাভেদের অবসান ঘটে। এর দ্বারা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্তিশালী হয়। এগুলো কত বড় ও বিশাল প্রজ্ঞার বিষয়!
মসজিদে মুসলিম ব্যক্তি তার ভাই ও প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেয়। এখানে কোনো দরিদ্র লোকের হয়তো সাহায্যের প্রয়োজন, কোনো বিপন্ন লোককে আপনি সমবেদনা জানাতে পারেন, আর কোনো এক রোগীর ব্যথা লাঘব করতে পারেন। কোনো অনাথের প্রতি মায়ামমতা প্রদর্শন করবেন, তার দুঃখ মুছে দেবেন। মসজিদে সবাইকে দেখবে তারা শৃঙ্খলা ও নিয়ম পালনকারী দল। নির্দিষ্ট রাকাত নামাজ, নির্ধারিত নড়াচড়া। শরিয়তের নির্দিষ্ট করা শব্দ। সুশৃঙ্খল কাতারে ইমাম রুকুতে গেলে তারা রুকুতে যায়, ইমাম সিজদা করলে তারা সিজদা করে। ইমামের আগে তারা কোনো কাজ বা কথা বলে না। মসজিদ নির্মাণ করলে ও আবাদ করলে ভবন নির্মাণের মতোই সংহতি ও ঐক্য সৃষ্টি হয়। মসজিদের দ্বারা হৃদয়ের ঈমান সিক্ত হয়, সতেজ হয়।

১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত 
ভাষান্তর মাহমুদুল হাসান জুনাইদ 


সুখী জীবন লাভের রহস্য
মোমিনের চালচলন বাস্তব জীবন দেখলেই বোঝা যাবে, এসব গুণ তার
বিস্তারিত
কবি শেখ সাদি ও তার
মুহাম্মদ এরফানুল করীম মহাকবি শেখ সাদির অনন্য গ্রন্থ ‘গুলিস্তান’ লিখিত হয়েছিল
বিস্তারিত
সুফিকোষ
রজব অর্থ সম্ভ্রান্ত, প্রাচুর্যময়, মহান। রজব হলো আরবি চান্দ্র বর্ষের
বিস্তারিত
মওলানা রুমির মসনবি শরিফ প্রসঙ্গে
আসসালামু আলাইকুম আমি দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের নিয়মিত পাঠক। প্রতি শনিবারের তাসাউফ
বিস্তারিত
অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
অশ্লীলতা ও পর্নগ্রাফি এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, প্রশাসনকে
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে
বিস্তারিত