রংপুর বিভাগে গবাদি প্রাণি পালনে অভাবনীয় সাফল্য

৫ বছরে দুধ উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ মে.টন

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ৫ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি দুধ উৎপাদন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

রংপুরের বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে- একই সময়ে এসব জেলায় প্রায় সোয়া ১৯ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে রংপুর অঞ্চলের সার্বিক অনুকূল আবহাওয়া এবং মানুষের চাহিদা পূরণসহ গবাদিপ্রাণি পালনে উৎসাহ বৃদ্ধি পাওয়ায়  লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রত্যাশার চেয়ে  প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন দুধ বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে। 

জেলা গুলো হচ্ছে- রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়।

প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সরকারের যুগোপযোগী প্রণোদনামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে রংপুর বিভাগের প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার মানুষ ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবাদি প্রাণি পালনে ক্রমান্বয়ে উৎসাহিত  উঠেছে। এছাড়া নদীবিধৌত চরাঞ্চলগুলোতে গবাদি প্রাণি পালনের প্রবণতাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে পারিবারিক এবং সমষ্টিগত চাহিদা পূরণ করে এই অঞ্চলের মানুষ বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপ্রাণী পালনে ছোট-বড় বিপুল সংখ্যক গাভীর খামার গড়ে তুলেছেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনের তাগিদে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ  গরু, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া পালন করে নিজস্ব উদ্যোগে আত্মনির্ভরশিল হয়ে উঠছে। এর ফলে বর্তমানে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ২ কোটি গবাদি প্রাণির বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সাড়ে ৮ হাজার গাভীর খামারে প্রায় ২০ লাখ ২৫ হাজার দেশী ও শংকর জাতের প্রজননক্ষম গাভী, প্রায় দেড় হাজার খামারে ৩৫ হাজারের বেশি প্রজননক্ষম মহিষ, প্রায় ২ হাজার সাড়ে ৬০০ ছাগলের খামারে প্রায় ৪১ লাখ ছাগল এবং আড়াই হাজারের বেশি ভেড়ার খামারে প্রায় ৭ লাখ ভেড়া মজুদ গড়ে উঠেছে। এসব খামার থেকে প্রতিনিয়ত দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রাপ্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, গবাদি প্রাণির ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যক্তি উদ্যোগ ও খামার ব্যবস্থাপনার ব্যাপক হারে উৎসাািহত করার জন্য রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থানে ইতোমধ্যে ১৬৭টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এসবের উন্নত জাত সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এসব  কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী উন্নত জাতের প্রজনন সম্প্রসারণে সেবা প্রদান করছে। এই নিরলস শ্রমের ফসল হিসেবে বর্তমানে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন স্থানে দেশী এবং উন্নত শংকর জাতের  প্রায় ২১ লাখ গাভীর  বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে।

অনুসন্ধান নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ বছরেই এই অঞ্চলে দুধ উৎপাদনের হার ব্যপক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। এর মধ্যে রংপুর এবং দিনাজপুর জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। গত ৩ বছরে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় দুধ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। সেই লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে এসব জেলায় একই সময়ে প্রায় ১৭ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন। দিনাজপুর জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় পৌনে ৪ লাখ মেট্রিক টন।

গাইবান্ধা জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন । নীলফামারী জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ মেট্রিক টন। লালমনিরহাট জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন।

এছাড়া, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় প্রায় সোয়া লাখ মেট্রিক টন কোরে দুধ উৎপাদন হয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলার কলেজ শিক্ষক মওলা বক্স জানালেন, তিনি নিজ পেশার অবসরে ৫টি গাভি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুরের কাশেম তার নিজ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র গাভীর খামার দিয়ে পরিবার লালন করছেন।

সিটি কর্পোরেশন মাহিগঞ্জ এলাকার  খামারী ও কলেজ শিক্ষক খন্দকার বেনজির আলম সপুর বলেন, নিয়মিত ১৮-২০ গাভী পালন করেছি। তিনি বলেন, দুধের দাম কম কিন্তু গরুর খাবারের দাম বেীশ। তিনি প্রতিদিন গরুর দুধ ১০০ লিটার পর্যন্ত উৎপাদন হয়। ৮/১০ লোককে চাকরি দিতে পেরেছেন। তারা এখন তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। এ চিত্র রংপুর অঞ্চলের সর্বত্র। গাভি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা (ভারপ্রাপ্ত) ড. সারওয়ারুল হক বলেন, রংপুর জেলায় দুধের উৎপাদন অনেক বেশি। 
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার মো: শাহ জালাল খন্দকার এই প্রতিনিধিকে জানান, রংপুর অঞ্চলের অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনের তাগিদে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জন গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া পালন করে সাম্প্রতিককালে দুধ উ্ৎপাদনে বেশ জোর দিয়েছে। এজন্য উন্নত জাতের কাঁচা ঘাসসহ এসবের উন্নত খাদ্য উৎপাদনেও অনেকে এগিয়ে আসছে।  


সংবর্ধনার নামে চেয়ারম্যানের এ কেমন
পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় নির্বাচন
বিস্তারিত
সবার সামনে বিধবা নারীকে জাপটে
গত সপ্তাহে উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বান্দরবানের আলীকদমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত
বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের পূর্নাঙ্গ কমিটি
দীর্ঘ প্রায় ২ যুগ পর অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে
বিস্তারিত
ওয়ার্ল্ড এন্টি টোরোরিজম রংপুর কমিটির
ওয়ার্ল্ড এন্টি টোরোরিজম সংগঠন রংপুর জেলা কমিটির পরিচিতি এবং প্রথম
বিস্তারিত
লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
চাঁদপুরে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু
বিস্তারিত
সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ডিএমপির
টাঙ্গাইলের সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে
বিস্তারিত