গাভী পালন করে স্বাবলম্বী কচুয়ার আব্দুর রহমান

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ দক্ষিণে এগিয়ে গেলেই চাঁদপুর গ্রাম। নলুয়া-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশেই চাঁদপুর এম.এ. খালেক স্কুল এন্ড কলেজের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে গাভীর খামার। এটি তৈরি করেছেন আব্দুর রহমানের পিতা আঃ রহিম পাটওয়ারী। ছোট্ট আকারে শুরু করলেও বর্তমানে এখানে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার গাভী রয়েছে তার খামারে। গাভী পালন করে পুত্রের স্বাবলম্বীতে উজ্জীবিত পিতা আব্দুর রহিম পাটওয়ারী।

আব্দুর রহমান জানান, ২০০১ সালে আমার বাবা আঃ রহিম পাটওয়ারী ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ৬০ প্রস্থের দু’তলা বিশিষ্ট একটি খামার তৈরি করে সেখানে মুরগী পালন শুরু করেন তিনি। প্রথম কয়েক বছর মুরগী ব্যবসায় লাভজনক হলেও পরে লোকশান দেখা দেয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বি.এ. পাস আব্দুর রহমান চাকরির জন্য কারো কাছে ধরনা না দিয়ে নিজেই স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য স্থানীয় এনজিও সংস্থা থেকে মাত্র ৫ লাখ টাকা নিয়ে পিতার তৈরি করা মুরগীর খামারের প্রথম তলায় শুরু করেন গরুর খামার। সাড়ে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেন ৪টি উন্নত জাতের গাভী। শুরু হলো ভাগ্য পরিবর্তনের পালা। 

একথা বেশিদিনের আগের নয় ২০১৬ সালের কথা। মাত্র তিন বছরে ৫ লাখ টাকা থেকে আজ অর্ধ কোটি টাকার গাভী রয়েছে তার খামারে। ৪ টি গাভী থেকে আজ ছোট-বড় মিলে ৩০টি গাভী রয়েছে তার খামারে। তন্মধ্যে বড় গাভী রয়েছে ১৮টি আর বাছুর রয়েছে ১২টি। এছাড়া গত তিন বছরে ১৪টি বাছুর বিক্রি করে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। গাভীর খাবারের জন্য তিনি নিজ জমিতে চাষ করেন নেপিয়ার ঘাস, গম, ভুট্টা ও সরিষা।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে ১০টি গাভী থেকে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে দোহন করে ৮০ থেকে ৯৫ লিটার দুধ পান। এই দুধ স্থানীয় রহিমানগর বাজারে বিক্রি করে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পান। যা এখানকার রহিমানগর বাজারের বিভিন্ন হোটেলের মিষ্টান্ন খাবার তৈরির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গরুগুলোর খাবার এবং অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০০ টাকার মতো খরচ হয়। বাকি টাকাগুলো সঞ্চয় হিসেবে থেকে যাচ্ছে। ফার্মের গাভীর দেখাশুনার জন্য এখানে ৪ জন কর্মচারী কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

ফার্মের কর্মচারী শাহপরান বলেন, আমি প্রায় দুই বছর যাবৎ এখানে কাজ করছি, কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমিসহ আমার পরিবার ভালোভাবে জীবনযাপন করছি। 
আব্দুর রহমানের পিতা আব্দুর রহিমা পাটওয়ারী বলেন, যে সমস্ত যুবকের চাকরি নামে সোনার হরিণের পিছনে ছুটছে তারা বেকার না থেকে আমার ছেলের গাভী পালন করে তাহলে তারা নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে পারবে।

অপর দিকে আব্দুর রহমান এ গাভীর ফার্মকে কেন্দ্র করে বাড়িতে তৈরি করে করেছে দু’টি বায়ু গ্যাস প্লান্ট। প্রতিদিন ছোট-বড় ৩০ গাভীর গোবর এ প্লান্টে জমা হয়ে যে পরিমান গ্যাস উৎপন্ন হয় তা দিয়ে অনায়াসে আব্দুর রহমান সংসারের দৈনন্দিন রান্নার কাজের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি গাভীর পানি ও খাবার গরম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 


উলিপুরের চরাঞ্চলে ভুট্টাচাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকায় জেগে উঠা চর সমুহে ভুট্টা
বিস্তারিত
নকলায় হাঁসের খামারে দিন বদল
অভিজ্ঞতা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলে যেকোন কাজে যে কেউ স্বাবলম্বী
বিস্তারিত
কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে বারি
চাষের অনুকুল আবহাওয়া ও চাষ উপযোগি মাটি থাকা সত্ত্বেও এদেশে
বিস্তারিত
শেরপুরে নতুন পেঁয়াজে মিলছে কাঁচা
দেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক তখনই
বিস্তারিত
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্যে আসছে টাকা,
মানুষের ব্যবহার্য্য প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত পণ্যের কারনে প্রতি মুহুর্তে পরিবেশ
বিস্তারিত
রংপুরে বেগুন চাষে বাজিমাত আ.
“পরিশ্রমে ধন আনে, পূর্ণে আনে সুখ, অলসতা দারিদ্রতা, পাপে আনে
বিস্তারিত