ধর্ষণ প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম কুপ্রবৃত্তি দমন

কুপ্রবৃত্তি অনেক শক্তিশালী, যা ধীরে ধীরে মানুষকে অপকর্মের অতল গহ্বরে নিয়ে যেতে পারে। তাই নবী করিম (সা.) নিজে এ ব্যাপারে প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে গর্হিত চরিত্র, গর্হিত কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই।’ (জামে তিরমিজি : ৩৫৯১)

দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ ধর্ষণ। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ এটাকে ঘৃণার চোখে দেখে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ঘৃণ্য অপকর্মের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কেন? এই ঘৃণ্য অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে ভাসা ভাসা কিছু কারণ থাকতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে যে কারণটা পাওয়া যায় তা হলো, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা। কেননা এ পর্যন্ত যত ধর্ষক গ্রেফতার হয়েছে তাদের অধিকাংশই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিল। গ্রেফতার করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাছ থেকে অসংখ্য পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করেছে। সুতরাং বলা যায়, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা ধর্ষণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাছাড়া সংস্কৃতি ও শিল্পকর্মে অশ্লীলতার প্রভাব এবং কুপ্রবৃত্তিকে জাগ্রত করে এমন উপাদানের আধিক্যকে অগ্রাহ্য করা যায় না।
পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল দৃশ্য দেখলে মনের মধ্যে সব সময় যৌন প্রবৃত্তি বা কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত থাকে। আর যার মধ্যে কুপ্রবৃত্তি সর্বদা জাগ্রত থাকে সে (শিক্ষক, হুজুর যাই হোক না কেন) ভালোমন্দ যাচাই করে না, সুনাম-দুর্নামের ধার ধারে না, কারও লাভ-ক্ষতির হিসাব করে না, যেভাবে হোক তার মনের কুচাহিদা পূরণ করতে চায়। শুধু স্ত্রী নয়, শিশু-কিশোরীসহ সবার সঙ্গে যৌনমিলনের স্বাদ আস্বাদন করতে চায়। ফলে তাদের মাধ্যমেই ঘটে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কুকর্ম, যা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। কুপ্রবৃত্তি অনেক শক্তিশালী, যা ধীরে ধীরে মানুষকে অপকর্মের অতল গহ্বরে নিয়ে যেতে পারে। তাই নবী করিম (সা.) নিজে এ ব্যাপারে  প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে গর্হিত চরিত্র, গর্হিত কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই।’ (জামে তিরমিজি : ৩৫৯১)।
অপসংস্কৃতির যুগে কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা অনেক কঠিন। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কুপ্রবৃত্তিকে দমন করার চেষ্টা করবে তিনিই শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রকৃত মুজাহিদ তো সেই যে আল্লাহর আনুগত্যে প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।’ (আবু দাউদ : ১২৫৮)।
কুপ্রবৃত্তি দমনের শ্রেষ্ঠতম ও শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে তাকওয়া অবলম্বন তথা আল্লাহকে ভয় করা। আল্লাহ  তায়ালা বলেন, ‘... আল্লাহকে ভয় কর। তোমারা যা কিছু কর আল্লাহ সে বিষয়ে খবরাখবর রাখেন।’ (সূরা হাশর : ১৮)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।’ (সূরা আল মায়েদা : ২)। সুতরাং যে তাকওয়া অবলম্বন করবে সে পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল মুভি দেখবে না, মনের মধ্যে কুপ্রবৃত্তির দাস হবে না। ফলে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপকর্ম তার দ্বারা সংঘটিত হবে না। তাকওয়া অন্তরের বিষয়, তথাপি কে তাকওয়া অবলম্বন করে আর কে তাকওয়া অবলম্বন করে নাÑ তা ওই ব্যক্তির আচার-আচরণ ও কৃতকর্মের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। 
আর যারা আল্লাহর ভয়ে ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত থাকবে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার, চির শান্তির আবাস জান্নাত। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজকে বিরত রাখে, নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।’ (সূরা নাযিয়াত : ৪০-৪১)।
পরিশেষে বলা যায়, অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফি যুবসমাজের নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। এসব দেখে তাদের মন থেকে সুস্থ  চিন্তা-চেতনা হ্রাস পাচ্ছে। তাই দেশ থেকে ধর্ষণ, গণধর্ষণ প্রতিরোধ করতে হলে ধর্ষণের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক শিল্পকর্ম থেকে অশ্লীলতা দূরীভূত করতে হবে। সমাজ ও পারিবারে সুস্থ চিন্তা-চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে হবে।


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত