ইউশা ইবনে নুন (আ.) এর অলৌকিক ঘটনা

বিসিএসে এই প্রশ্ন কখনও আসবে না, তবুও আমাদের জানা থাকুক সূর্যও একদিন স্থির হয়ে গিয়েছিল ইউশা (আ.) এর জন্য। এই স্থির হয়ে যাওয়া, অসম্ভবের সম্ভব হওয়া কিন্তু নবীদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। আজও মোমিনের সাহায্যে রব তাঁর রহম এভাবেই বিলিয়ে দেবেন

ইউশা ইবনে নুন (আ.) ছিলেন সেই নবী, যার ইব্রাহিম (আ.) পর্যন্ত ছয়জন পূর্বপুরুষের চারজনই নবী ছিলেন। তার জন্ম হয়েছিল মিসরে। ইউশা (আ.) মুসা (আ.) এর পর বনি ইসরাইলে প্রেরিত নবীদের মধ্যে অন্যতম। তার নেতৃত্বে বনি ইসরাইল জেরুজালেম বিজয় করেন।
তিনি ছিলেন মুসা (আ.) এর খাদেম ও ছাত্র। বেঁচে ছিলেন ১২৭ বছর। মুসা (আ.) এর ইন্তেকালের আগে পর্যন্ত তিনি তার খেদমত করেছেন। মুসা (আ.) এর মৃত্যুর ২৭ বছর পর ইউশা (আ.) এর মৃত্যু হয়। সে হিসাবে তিনি নিজের ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত মুসা (আ.) এর খেদমতে ছিলেন। মুসা (আ.) এর ইন্তেকালের পর তিনি বনি ইসরাইলের নেতৃত্ব দেন। মুসা (আ.) এর দুই বছর আগে হারুন (আ.) ইন্তেকাল করেন।
আল্লাহ যখন বনি ইসরাইলকে জেরুজালেম বিজয়াভিযানের নির্দেশ দিলেন বনি ইসরাইল তখন বেঁকে বসল। তারা বলল, সেখানে এমন এক সম্প্রদায় আছে যারা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। আল্লাহর নির্দেশের এই বিরুদ্ধাচরণ থেকে জাতিকে নিবৃত্ত করতে যে ক’জন মানুষ বনি ইসরাইলকে রাজি করানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন তন্মধ্যে ইউশা (আ.) ছিলেন অন্যতম। 
বনি ইসরাইলের এই অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদের ৪০ বছর একটা তিহ নামক প্রান্তরে চক্রাবদ্ধ রাখেন। তারা সকালে তাঁবু গুটিয়ে রওনা করত, সন্ধ্যায় দেখত আগের জায়গাতেই তারা তাঁবু খাটাচ্ছে। ৪০ বছরের এই দীর্ঘ সময়কালে পূর্ববর্তী প্রজন্মের পর একটা নতুন প্রজন্ম বনি ইসরাইলের মধ্যে তৈরি হয়। এরই মধ্যে হারুন (আ.) এবং মুসা (আ.) এর ইন্তেকাল হয়। ইউশা (আ.) নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে আসেন। তারা পূর্বপুরুষদের কাপুরুষোচিত আচরণের জন্য তওবা করে জেরুজালেম অভিমুখে যুদ্ধের জন্য রওনা হয়।
বর্ণনামতে, শেষ যুদ্ধটি শুক্রবার সংঘটিত হয়। যুদ্ধ যখন সমাপ্তির পর্যায়ে আর বনি ইসরাইল বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন ইউশা (আ.) লক্ষ্য করলেন সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় এসে গেছে। যেহেতু ইহুদিদের জন্য শনিবার নিষিদ্ধ দিন ছিল ফলত ইউশা (আ.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তিনি সূর্যের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর নির্দেশে সূর্যকে স্থির থাকতে বললেন এবং যুদ্ধে বিজয়লাভের আগ পর্যন্ত সূর্য স্থির ছিল। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘শুধু ইউশা ব্যতীত আর কারও জন্যই সূর্য কখনও থেমে যায়নি।’ (ইবনে কাসির, ইবনে হাজার, আলবানি এই বর্ণনাকে সহিহ বলেছেন)।
জেরুজালেম বিজয়ের দিন তিনি মুসা (আ.) এর গায়ের জামা পরিহিত ছিলেন, যা তিনি এত বছর আগলে রেখেছিলেন। জেরুজালেমে তিনি ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে আমাদের জন্য কল্যাণকর কিছু শিক্ষা আছে : 
১. ইউশা (আ.) নিজে নবী ছিলেন। সম্মানিত খানদানের ছিলেন। এরপরও মুসা (আ.) এর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন শৈশব থেকে ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত। বুজুর্গদের সোহবত কত উপকারী এ শিক্ষা এখান থেকে নেওয়া যেতে পারে।
২. হকের জন্য, আল্লাহর বিধানের জন্য যত বড় শক্তির বিরুদ্ধেই হোক, দাঁড়াতে হবে। আল্লাহর সাহায্য থাকলে ঠিকই বিজয়ী হওয়া যাবে। যেমন ইউশা (আ.) জয়ী হয়েছিলেন। অথচ যদি আল্লাহর সাহায্য না থাকে তাহলে পুরো সম্প্রদায় মিলেও ১০ মাইল পথ ৪০ বছরেও অতিক্রম করা যায় না। তিহ প্রান্তর মাত্র ১০ মাইল বিস্তৃত ছিল। মানুষ তার রবের সাহায্য ছাড়া মূলত অক্ষম।
৩. ইউশা (আ.) এর থেকে মুসা (আ.) ছিলেন আরও অধিক মর্যাদাপূর্ণ। অথচ নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউশা (আ.)। আসলে কোনো বড় দাঈ যদি আপাতদৃষ্টিতে অসফলও হন তবুও সফলতার যে বীজ বুনে যান তা পরে হলেও প্রস্ফুটিত হয়। সুতরাং আপাত অসফল হলেও আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে, হতাশ হওয়া যাবে না। বহু পরে হলেও এর ফল মেলে। তখন পরবর্তীদের দ্বারা পূর্ববর্তীদের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে যায়।
৪. ধর্ম তো বিশ্বাসের নাম। বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে আদতে ব্যাখ্যা করা যায় না। এই যে ইউশা (আ.) এর দোয়ায় সূর্যের স্থির হয়ে যাওয়া, বিজ্ঞানের দ্বারা এটাকে কি করে ব্যাখ্যা করব আমরা! আসলে আল্লাহর কুদরতই সর্বময়।
৫. বিসিএসে এই প্রশ্ন কখনও আসবে না, তবুও আমাদের জানা থাকুক সূর্যও একদিন স্থির হয়ে গিয়েছিল ইউশা (আ.) এর জন্য। এই স্থির হয়ে যাওয়া, অসম্ভবের সম্ভব হওয়া কিন্তু নবীদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। আজও মোমিনের সাহায্যে রব তাঁর রহম এভাবেই বিলিয়ে দেবেন।


হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত
মজলুমের সাহায্য ও জালিমের প্রতিরোধ
হজরত নোমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘সব
বিস্তারিত
অর্থসম্পদের ভালো-মন্দ
সম্পদে বিপদ ও পরীক্ষাও আছে, কোরআন যা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে
বিস্তারিত
প্রকাশিত হলো বাংলাদেশি লেখকের আরবি উপন্যাস
প্রকাশিত হলো বাংলাদেশি লেখকের আরবি ভাষায় লেখা উপন্যাস ‘আল ইসার’।
বিস্তারিত