নগ্ন ছবির নেশা থেকে বাঁচার উপায়

এক ভাই আমাকে প্রশ্ন করলেন, আমি ইন্টারনেট ব্যবহার করি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার দৃষ্টি অশ্লীল-নগ্ন ছবির প্রতি চলে যায়। ক্রমে ক্রমে আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। বর্তমানে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং এ থেকে বিরত থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এখন আমি কী করতে পারি? সুপরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন। 
এর উত্তরে আমি বললাম, আপনার জন্য প্রথম কর্তব্য হচ্ছে এ বড় পাপ থেকে তওবা করা। কেননা মানুষ কেয়ামতের দিন তার কৃত আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু, হৃদয়Ñ এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৬)। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আর চোখও জেনা করে, আর তার জেনা হলো দৃষ্টিপাত করা।’ (বোখারি)। 
সুতরাং এ বিষয়টি থেকে আপনাকে খাঁটি মনে, নিখাদ অন্তরে তওবা করতে হবে। আর তা হবে কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়েÑ ক. আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ও তাঁর সম্মানার্থে এ গোনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হতে হবে। খ. এ হারাম কাজের কারণে পরিপূর্ণ লজ্জিত হতে হবে। গ. এ গোনাহে আর কখনও লিপ্ত হবেন নাÑ এমন দৃঢ় সংকল্প হৃদয়ে গ্রহণ করতে হবে। 
জেনে রাখুন, এসব হারাম কার্যাবলি থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র রাখতে কয়েকটি জিনিসের প্রয়োজন তওবায় অটল ও অবিচল থাকা। বেশি বেশি দোয়া করা। বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করতে থাকা। সর্বদা আল্লাহর জিকিরে লিপ্ত থাকা। নেক ও পুণ্যের কাজ বেশি বেশি করা। নামাজ অধিক হারে পড়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত : ৪৫)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘এবং নামাজের পাবন্দি করো দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের কিছু অংশে; নিঃসন্দেহে সৎকাজগুলো অসৎ কাজগুলোকে মিটিয়ে দেয়।’ (সূরা হুদ : ১১৪)। 
এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আরও কর্তব্য হচ্ছে, আপনার বসবাস উপযোগী একটি পরিবেশ খোঁজা এবং কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতাকারী কিছু নেককার সঙ্গী নির্বাচন করা। এসব কাজ আত্মাকে শুদ্ধ করে ও পবিত্র করে তোলে। ফলে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে তাকে (আত্মাকে) শুদ্ধ করল সে সফল হলো।’ (সুরা শামস : ৯)।
জেনে রাখবেন, বান্দা যতক্ষণ তার তওবায় সত্যনিষ্ঠ থাকবে এবং আল্লাহর প্রতি বিনয়ী থাকবে, তার কাছে নফসের অনিষ্টতা ও শয়তান থেকে মুক্তি প্রার্থনা করবে; আল্লাহ তাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও ধোঁকা থেকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির ব্যবস্থা করে দেন।’ (সূরা তালাক : ২)।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের তওবা করা এবং দ্বীনের ওপর অটল-অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন।

‘ইসলাম কিউ অ্যান্ড এ’ থেকে ভাষান্তর 
যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম 


মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইসলাম
গত ১০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে গেল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য
বিস্তারিত
জুলুমবাজ ও হত্যাকারীর পরিণতি
বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।
বিস্তারিত
কোরআনের আলোকে পরস্পরের প্রতি শিষ্টাচার
আমরা মানুষ, পৃথিবীতে আমাদের বসবাস। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা,
বিস্তারিত
পোশাকের শালীনতা
পোশাক-পরিচ্ছদ মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। পোশাকে মানুষের রুচি, ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্য,
বিস্তারিত
কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত