মাদক-জুয়ার ভয়াল থাবা রোধ করতে হবে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেছেন। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের স্বামী ও ছেলেও এ দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, যা তদন্তের অপেক্ষায় আছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে এমন ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনায় দেশের মানুষ যখন হতবাক তখন দেশে মাদক চর্চা ও জুয়ার আড্ডার ভয়াবহ সংবাদে আমরা সম্বিতহারা। 
সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের চার দিনের মাথায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি ক্যাসিনোতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খালেদসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় পরিচালনাধীন একাধিক ক্যাসিনো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে মোট ১৮২ জনকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা, মদ ও বিয়ারসহ জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
ইয়ংমেন্স ক্লাবে আটক করা ১৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে ৩১ জনকে ১ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এদের ১৬ জন ক্যাসিনোর কর্মী। বাকিদের ছয় মাস করে কারাদ- দিয়েছে র‌্যাব। অভিযানে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ও বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আটক স্টাফদের মধ্যে দুই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইয়ংমেন্স ক্লাবের পাশে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবেও অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। ক্লাবটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ পরিচালনা করেন। তার সহযোগী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি মোল্লা কাউসার। এখানে জুয়ার বোর্ড রয়েছে ১২টি। এখান থেকে মদ, বিয়ার ও বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-৩ এর এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জুয়া খেলার নগদ টাকা ১০ লাখ, মদের বোতল, তাস উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া স্বর্ণের আংটি, চেইন পাওয়া গেছে, যা জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।’
একই সময়ে রাজধানীর গুলিস্তানের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় জুয়ার বোর্ডসহ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। ক্লাবটি থেকে ৩৯ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ক্লাব থেকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, কষ্টিপাথর, মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লাবটিতে থাকা ৭টি জুয়ার বোর্ডের মধ্যে দুটি ভিআইপিদের সংরক্ষিত ছিল।
এ সংবাদে দেশের সচেতন নাগরিকরা হতবাক। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও লুটপাটের সংবাদ এবং তাতে ছাত্রলীগ জড়িত থাকা,  অন্যদিকে রাজধানীতে জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ থাবা এবং তাতে যুবলীগ জড়িত থাকা কিসের ইঙ্গিত বহন করে। এ পরিস্থিতিতে যে প্রশ্নটি সামনে আসে তাহলে আমরা কোথায় যাচ্ছি? এ দুর্নীতি ও মদ-জুয়ার আখড়া নিশ্চয়ই একদিনে গড়ে ওঠেনি। আবার উল্লেখিত দুই-একটি ঘটনার মধ্যে তা সীমাবদ্ধ নয়। খোঁজ নিলে জানা যাবে, সারা দেশ দুর্নীতি ও মদ-জুয়ার উচ্ছৃঙ্খলতায় তলিয়ে যাচ্ছে। এসব রুখে দাঁড়ানো শক্তি সাধারণ মানুষের নেই। মাদকের ছোবলে ক্ষমতাসীন দল বা কোনো বিশেষ শ্রেণির লোকজন আক্রান্ত হলে কথা ছিল। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগে ঐশী নামের ছোট্ট একটি মেয়ে তার পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ও মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তার কারণও ছিল এই উঠতি বয়সের ছাত্রছাত্রীদের মাদকাসক্তি।
এখন প্রশ্ন হলো, এ ভয়ানক অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কী? এর জন্যে একদিকে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে, অন্যদিকে ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশাসন দ্বারা আমাদের চিন্তা ও জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে। নতুবা দেশকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা করা যাবে না। ক্ষমতাসীন মহল এবং দেশ ও সমাজ পরিচালনায় যাদের ভূমিকা আছে তাদের এ সত্যটির সামনে মাথা নত করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। 
ইসলাম মাদক-জুয়াসহ এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে। সূরা মায়িদায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরগুলো এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকÑ যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে?’ (আয়াত : ৯০-৯১)। হাদিসেও দ্ব্যর্থহীনভাবে সব ধরনের মাদকদ্রব্য উৎপাদন, গ্রহণ, বিপণন ও পরিবহনকে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মদ, হাশিশ, হেরোইন, আফিম, চরস, ভাঙ, তাড়ি, ফেনসিডিল, ইয়াবা সব ধরনের মাদকদ্রব্যই সে বিবেচনায় হারাম। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি নেশা তৈরিকর দ্রব্যই নিষিদ্ধ।’ (মুসলিম)।


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত